সাম্প্রতিক
জুলাই আন্দোলনে মুগ্ধসহ ১১ হত্যা, ট্রাইব্যুনালে ২৬ আসামির বিচার শুরু তিন মাসে পোশাক রপ্তানিতে আয় ১ হাজার ৫৮ কোটি ডলার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে প্রথমবার সফল পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু ঢাকার ৮০ শতাংশ লোকাল বাসে নেই হেলপার, সংরক্ষিত আসনেও বসেন পুরুষ যাত্রী বেআইনি আটক বন্ধ ও ইন্টারনেট-মেট্রো চালুর নির্দেশ ভারতীয় সুপ্রিম কোর্টের দুর্গাপূজায় চলবে ৩ জোড়া বিশেষ ট্রেন, ৫ ট্রেনের সাপ্তাহিক ছুটি বাতিল সাজেক ভ্যালি বন্ধ ঘোষণা, পর্যটকদের জন্য জরুরি নির্দেশনা তরুণ জার্মান পর্যটকের কান্না ছুঁয়ে গেল বাংলাদেশিকে, উপহার দিলেন ম্যাকবুক নেপালে আকস্মিক বন্যা, ভেসে গেল ৪০ বাড়ি ও একাধিক সেতু শেরেবাংলা নগরে যাচ্ছে সচিবালয়
Skip to content

নিরাপত্তা শঙ্কায় বাংকারযুক্ত প্রাসাদে অবস্থান বদল সৌদি যুবরাজের

সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান

সৌদি আরবের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সপ্তাহান্তে প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা দেশটির যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের জন্য নতুন করে নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সংকটের চিত্র সামনে এনেছে। ইরান-সমর্থিত হুথি যোদ্ধাদের চালানো এসব হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত এবং শত শত মানুষ আহত হয়েছেন।

দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা হুমকির কারণে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান বাংকার-সুবিধাসহ কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত বিভিন্ন প্রাসাদে অবস্থান পরিবর্তন করছেন। হুথিদের ধারাবাহিক হামলা সৌদি আরবকে আন্তর্জাতিক পর্যটন ও বিনিয়োগের অন্যতম কেন্দ্রে পরিণত করার যুবরাজের পরিকল্পনার সামনে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

সাংবাদিক সামার সাঈদ ও জর্জি কান্টচেভের প্রতিবেদনে বিশ্লেষণ করা হয়েছে, যুবরাজের নেওয়া কিছু সিদ্ধান্ত কীভাবে বর্তমান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। প্রতিরক্ষা ও অবকাঠামো খাতে ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় সৌদি আরবের অর্থনৈতিক বহুমুখীকরণ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের ওপর চাপ তৈরি হচ্ছে। এতে তেলনির্ভরতা কমিয়ে অর্থনীতিকে নতুন নতুন খাতে সম্প্রসারণের উদ্যোগও বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এদিকে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট এবং ইরান-সমর্থিত হুথি যোদ্ধাদের মধ্যে সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করায় পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি হস্তক্ষেপের সম্ভাবনাও সামনে এসেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গতকাল সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণের ইঙ্গিত দিয়েছেন। সৌদি আরবের পক্ষ থেকে পাল্টা হামলার হুঁশিয়ারির পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রও পাল্টা হামলায় যোগ দিতে পারে।

দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রিয়াদে হুথিদের হামলা জোরদার হওয়ার পর সৌদি যুবরাজকে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্যে লোকচক্ষুর আড়ালে রাখা হয়েছে। সর্বশেষ গত মঙ্গলবার তাকে জনসমক্ষে দেখা গিয়েছিল। সেদিন জাতীয় রক্তদান কর্মসূচির প্রতি সমর্থন জানাতে তিনি নিজেও রক্তদান করেন। এরপর থেকে তাকে আর প্রকাশ্যে দেখা যায়নি।

সৌদি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৪১ বছর বয়সী যুবরাজ বাংকার-সুবিধাসহ কড়া নিরাপত্তাবেষ্টিত বিভিন্ন প্রাসাদে অবস্থান পরিবর্তন করছেন। তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দায়িত্ব পালন করছে বাছাই করা একটি বিশেষ নিরাপত্তা দল।

হুথিদের ক্রমবর্ধমান হামলায় রিয়াদের কয়েকটি এলাকা কার্যত সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলের মতো পরিস্থিতির মুখে পড়েছে। শহরের আর্থিক এলাকার কর্মী, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক স্কুলের শিক্ষার্থী এবং কূটনীতিকদের নিরাপত্তার স্বার্থে ভবন ছেড়ে অন্যত্র সরে যাওয়া অথবা নিরাপদ আশ্রয়ে অবস্থান নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই পরিস্থিতিতে রাজধানীর বিভিন্ন স্কুল বন্ধ করে অনলাইনে পাঠদান চালু করেছে কর্তৃপক্ষ।

দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার ব্যবস্থার মজুদ কমে আসছে বলে সতর্ক করেছেন দেশটির কর্মকর্তারা। বিশাল ভূখণ্ডের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি একাধিক স্থানে একযোগে হামলার আশঙ্কা মোকাবিলা করতে গিয়ে সৌদি আরবকে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ব্যবস্থাপনায় চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে।

এ পরিস্থিতিতে রাজপ্রাসাদ ও গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোর মতো কৌশলগত স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়ে বিভিন্ন স্থানে আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা বা ‘এয়ার ডিফেন্স ব্যাটারি’ স্থানান্তর করা হচ্ছে।

এর আগে গত মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে নিজের ‘ঘনিষ্ঠ বন্ধু’ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। ইয়েমেনে হুথি যোদ্ধাদের প্রভাব ও অগ্রগতি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘সবকিছুই ভালোভাবে মিটে যাবে। পরিস্থিতি খুব ভালো হবে।’

এদিকে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শনিবারের হামলার দায় স্বীকার করেছে হুথিরা। ওই হামলায় ১৩ জন নিহত এবং ৩০০ জনের বেশি আহত হন। এর আগে ও পরে সংঘটিত হামলাগুলোর মধ্যে সোমবারের ঘটনায় আরও একজন নিহত এবং ১১ জন আহত হয়েছেন।

ক্রমবর্ধমান এই সহিংসতা শুধু সৌদি আরবের নিরাপত্তাব্যবস্থাকেই চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলছে না, বরং দেশটিকে বৈশ্বিক পর্যটন, বিনিয়োগ ও ব্যবসার কেন্দ্রে পরিণত করার উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনার বাস্তবায়ন নিয়েও অনিশ্চয়তা বাড়াচ্ছে।

এনএনবাংলা/