সাম্প্রতিক
Skip to content

‘বুকে পিস্তল ঠেকিয়ে বাবাকে গুলি করা হয়’, লক্ষ্মীপুরে ব্যবসায়ী হত্যায় মেয়ের অভিযোগ

ছবিঃ সংগৃহীত

লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলায় ইটভাটায় মাটি বিক্রির ব্যবসাকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে খোরশেদ আলম (৪৫) নামের এক ব্যবসায়ীকে নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।  সদর উপজেলার দিলশাদপুর গ্রামে বাড়ির অদূরেই এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

নিহত খোরশেদ আলম দিলশাদপুর গ্রামের রুহুল আমিনের ছেলে। পুলিশ জানিয়েছে, নিহত খোরশেদের বিরুদ্ধেও আগে হত্যা, অস্ত্র ও মাদকসহ একাধিক মামলা রয়েছে।

নিহতের ১৯ বছর বয়সী মেয়ে প্রেমা আক্তার ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও তাঁর বাবার সঙ্গে থাকা বন্ধুর বরাত দিয়ে জানান, ঘটনার সময় তাঁর বাবা সড়কের পাশে ডাব খাচ্ছিলেন। এ সময় তিনজন লোক এসে লাথি মেরে তাঁর হাত থেকে ডাব ফেলে দেয়। এরপর তাঁকে মাটিতে শুইয়ে দুজন তাঁর দুই হাত চেপে ধরেন। পরবর্তীতে তাঁর বুকের ওপর থেকে শার্ট ছিঁড়ে ফেলে আরেকজন বুকে অস্ত্র ঠেকিয়ে গুলি করে। প্রেমা আক্তার এই হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা হিসেবে মো. ওয়ালিদ নামের এক ব্যক্তির নাম উল্লেখ করেছেন।

নিহতের স্ত্রী মুক্তা বেগম (আকলিমা আক্তার) জানান, বুধবার দুপুরে মোরশেদ ও মজিদ নামের দুই ব্যক্তি খোরশেদকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান। বাড়ি থেকে মাত্র ১৫০ গজ দূরে যাওয়ার পরপরই গুলির শব্দ শোনা যায়। স্থানীয় লোকজন রক্তাক্ত অবস্থায় খোরশেদকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তিনি মারা যান। মুক্তা বেগমের অভিযোগ, মাটির ব্যবসা নিয়ে ওয়ালিদ নামের ওই ব্যক্তি এর আগেও তাঁর স্বামীকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে আসছিল। বর্তমানে নিহতের পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) অরূপ পাল জানান, হাসপাতালে আনার আগেই খোরশেদ আলমের মৃত্যু হয়েছে। তাঁর বুকে দুটি গুলির ক্ষত চিহ্ন পাওয়া গেছে, যার একটি ছোট এবং অন্যটি বড়।

ঘটনাস্থলের কাছাকাছি বাড়ির বাসিন্দা গ্রাম পুলিশ নূর মোহাম্মদ চৌধুরী জানান, সড়কের পাশের একটি বাড়ির ফটকের সামনে খোরশেদকে গুলি করা হয়। গুলির শব্দ খুব বেশি না হওয়ায় ধারণা করা হচ্ছে, একদম বুকে অস্ত্র ঠেকিয়ে গুলি চালানো হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দুটি খালি খোসা এবং একটি অব্যবহৃত গুলিসহ মোট তিনটি গুলি উদ্ধার করেছে।

এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বুধবার রাতেই নিহতের স্ত্রী মুক্তা বেগম বাদী হয়ে লক্ষ্মীপুর সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় মো. ওয়ালিদ ও মো. সোহাগসহ আটজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও দুজনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলা দায়েরের পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িত অভিযোগে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—দিলশাদপুর গ্রামের ইব্রাহিম ছোট্টু (৪৪) এবং রাধাপুর গ্রামের তোফায়েল আহমেদের ছেলে মাসুদ রানা (২৬)।

লক্ষ্মীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওয়াহিদ পারভেজ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অভিযোগে ইতিমধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক দল মাঠে কাজ করছে। হত্যাকাণ্ডের পেছনের মূল কারণ ও রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশি তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।”

উল্লেখ্য, এই ঘটনার মাত্র কয়েকদিন আগে গত রোববার (২৫ অক্টোবর) দিবাগত রাত একটার দিকে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার পূর্ব নন্দনপুর গ্রামের একটি সুপারিবাগান থেকে জাকির হোসেন নামের এক যুবকের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, ‘মাদক কারবার’ নিয়ে বিরোধের জেরে জাকিরকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। নিহত জাকিরের বিরুদ্ধেও অস্ত্র ও মাদকের একাধিক মামলা ছিল। মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে সদর উপজেলায় এমন দুটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় স্থানীয় এলাকায় চাঞ্চল্য ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

এনএনবাংলা/ইএস