সাম্প্রতিক
Skip to content

‘টুকরে টুকরে গ্যাং তো সরকার নিজেই’, নিজেকে ‘গর্বিত নকশাল’ দাবি করে ক্ষোভ উগড়ে দিলেন নাসিরুদ্দিন শাহ

ছবিঃ সংগৃহীত

ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেছেন বলিউডের বর্ষীয়ান অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ। সরকারের সমালোচকদের ঢালাওভাবে ‘দেশবিরোধী’ ও ‘টুকরে টুকরে গ্যাং’ বলে আক্রমণ করার প্রবণতা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন এবং ব্যঙ্গাত্মক ভঙ্গিতে নিজেকে ‘দিমাগি নকশাল’ বা ‘গর্বিত নকশাল’ বলে পরিচয় দিয়েছেন। একই সাথে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বর্তমান পরিস্থিতি ও শিক্ষার্থীদের ওপর চলা দমন-পীড়ন নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এই অভিনেতা।

ভিডিওর শুরুতে কেন্দ্রীয় সরকারকে দেশের ‘স্বঘোষিত চৌকিদার’ বলে কটাক্ষ করে নাসিরুদ্দিন শাহ বলেন, “সরকারের সমালোচনা করলেই দেশদ্রোহী, টুকরে-টুকরে গ্যাং-এর মতো তকমা চাপিয়ে দেওয়া হয়। আমার মতো মানুষদের গায়ে এই চৌকিদারেরা আর কী কী তকমা সেঁটে দিয়েছেন তা ওরাই ভালো জানে!” এরপরই পালটা অভিযোগের আঙুল তুলে তিনি বলেন, “প্রকৃতপক্ষে টুকরে টুকরে গ্যাং তো সরকার নিজেই।”

দেশের গণতন্ত্র এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলে শাহ বলেন, “দেশের তরুণদের মনোবল ভাঙতে, আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস করতে এবং গণতন্ত্রকে ঝুঁких মুখে ফেলতে আপনারা আর কত দূর যাবেন?” সরকারের আশেপাশের লোকজনকে একদল নির্বোধ ও অসৎ ব্যক্তি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ভিডিও বার্তায় ভারতের তিনটি শীর্ষস্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করেন নাসিরুদ্দিন শাহ। তিনি বলেন, প্রথমে জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়, এরপর সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট, আর এখন জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়ার শিক্ষার্থীরা ক্রমাগত নিপীড়নের মুখে পড়ছেন। দমন-পীড়নের এই ঘটনাগুলো ভবিষ্যৎ প্রজন্ম মনে রাখবে বলে তিনি সতর্ক করে দেন।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি কলকাতার এসআরএফটিআই ক্যাম্পাসে সহিংসতার ঘটনার পর শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক জবাবদিহি ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ক্যাম্পাসের দাবিতে অনির্দিষ্টকালের অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেছেন। অন্যদিকে, জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়ার শিক্ষার্থীরা ২০০৬ সালের পর থেকে বন্ধ থাকা ছাত্র সংসদ নির্বাচনের নির্দিষ্ট তারিখ ও গঠনতন্ত্র অনুমোদনের দাবি জানাচ্ছেন।

প্রতিবাদের অংশ হিসেবে নিজের বক্তব্যে বিপ্লবী কবি বিসমিল আজিমাবাদির ‘সারফরোশি কি তаны্না’ কবিতার পঙ্ক্তি আবৃত্তি করেন নাসিরুদ্দিন শাহ। ক্ষমতাধরদের শক্তিকে চ্যালেঞ্জ করে তিনি বলেন, “দেখা যাক, হত্যাকারীর বাহুতে কতটা শক্তি আছে।”

ভিডিওর শেষ অংশে এসে সংবাদমাধ্যমের একাংশ এবং ক্ষমতাসীন দল বিজেপির তথ্যপ্রযুক্তি সেলের তীব্র সমালোচনা করেন তিনি। পক্ষপাতদুষ্ট কিছু সাংবাদিককে কটাক্ষ করার পাশাপাশি বিজেপির আইটি সেলে কর্মরতদের অজ্ঞ ও অযোগ্য বলে মন্তব্য করেন শাহ।

দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে ভিডিওর শেষে নাসিরুদ্দিন শাহ বলেন, “আপনারা আপনাদের সবকিছু নিয়ে আমাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ুন। কিন্তু আমাদের দেশের তরুণদের মনোবল ভাঙা যাবে না, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস করা যাবে না এবং গণতন্ত্রকে বিপন্ন করা যাবে না।”

এর আগেও বিভিন্ন সময়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পাশে দাঁড়িয়েছেন নাসিরুদ্দিন শাহ। চলতি বছরের জুলাই মাসে জাতীয় যোগ্যতা ও প্রবেশিকা পরীক্ষা ২০২৬-এর অনিয়মের অভিযোগ ও শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পক্ষেও তিনি সরব হয়েছিলেন।

এনএনবাংলা/ইএস