মা হারালেন চিত্রনায়িকা পপি
ঢাকাই চলচ্চিত্রের একসময়ের জনপ্রিয় ও জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত শীর্ষ চিত্রনায়িকা সাদিকা পারভীন পপির মা মরিয়ম বেগম আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। আজ বুধবার (২৮ অক্টোবর) দিবাগত রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে রাজধানীর মগবাজারের ইনসাফ বারাকাহ কিডনি অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৭ বছর।
চলচ্চিত্র পরিচালক বদিউল আলম খোকন ও মিজানুর রহমান মিজান গণমাধ্যমকে তাঁর মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মরিয়ম বেগম দীর্ঘদিন ধরে কিডনি জটিলতা, বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক সমস্যা এবং ব্রেন স্ট্রোকে ভুগছিলেন। গত ১৪ অক্টোবর দিবাগত রাতে গুলশানের নিকেতনের বাসায় হঠাৎ স্ট্রোক করলে তাঁকে দ্রুত মগবাজারের ওই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মঙ্গলবার রাতে তাঁর শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি হলে তাঁকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়ার প্রস্তুতি চলছিল, কিন্তু তার আগেই তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
মরহুমার পারিবারিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আজ বুধবার ভোরে রাজধানীর নিকেতনের একটি মসজিদে তাঁর প্রথম জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। এরপর একটি হিমায়িত গাড়িতে (ফ্রিজিং ভ্যান) করে তাঁর মরদেহ খুলনায় গ্রামের বাড়ির উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেখানে জোহরের নামাজের পর দ্বিতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হবে।
এদিকে চিত্রনায়িকা পপির মায়ের মৃত্যুতে চলচ্চিত্র অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। চিত্রনায়ক ওমর সানি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক আবেগঘন পোস্টে গভীর শোক প্রকাশ করে লিখেছেন, “মৌসুমী আর পপি ফার্স্ট কাজিন, সেই সূত্র ধরে পপির মা-ও আমার শাশুড়ি। ৯৭ সাল থেকে তাঁকে আমি সবসময় আম্মা বলে ডাকতাম… আল্লাহ তাঁকে জান্নাত নসিব করুন।” এ ছাড়া চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যক্তিবর্গ ও সংগঠন শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, ১৯৯৭ সালে ‘কুলি’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হওয়া তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারজয়ী অভিনেত্রী পপি গত কয়েক বছর ধরে সম্পূর্ণ লোকচক্ষুর আড়ালে রয়েছেন। চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্ট কিংবা সহকর্মীদের কারও সঙ্গেই তাঁর কোনো যোগাযোগ নেই। তাঁর এই অন্তর্ধকৃতির মধ্যেই মায়ের মৃত্যুর এই বেদনাদায়ক খবরটি এলো।
এনএনবাংলা/ইএস
