সাম্প্রতিক
Skip to content

‘আমার কাছে অপরাধী তো এখন আপনারা’— ক্ষুব্ধ পরীমণি

ছবিঃ সংগৃহীত

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির অপব্যবহারের শিকার হয়েছেন ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা পরীমণি।

দেশের একটি শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের অফিসিয়াল ইনস্টাগ্রাম পেজ থেকে অভিনেত্রীর একটি আপত্তিকর ভুয়া ভিডিও পোস্ট করা হয়। এই ঘটনার পর নেটদুনিয়ায় নতুন করে সমালোচনার ঝড় উঠলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের চরম ক্ষোভ ও মানসিক যন্ত্রণার কথা প্রকাশ করেন তিনি। যদিও সংশ্লিষ্ট মাধ্যমটি পরবর্তীতে ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে, তবে পরীমণির মতে—এই দায়সারা ক্ষমা তার জীবনে নেমে আসা বিপর্যয়কে কোনোভাবেই লাঘব করতে পারছে না।

নিজের ভেরিফায়েড হ্যান্ডেলে দেওয়া একটি দীর্ঘ পোস্টে পরীমণি সরাসরি ওই সংবাদ সংস্থাকে অভিযুক্ত করে জানান, তাদের এই কাণ্ডজ্ঞানহীন আচরণের কারণে তার স্বাভাবিক জীবন পুরোপুরি বিষিয়ে উঠেছে। পরিস্থিতি এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, তীব্র সাইবার বুলিংয়ের জন্য তিনি ফেসবুকে নিজের কাজের কোনো প্রচার বা ব্যক্তিগত মুহূর্তের ছবিও শেয়ার করতে পারছেন না। এমনকি তার নিষ্পাপ সন্তানদের ছবিও রেহাই পাচ্ছে না নেটিজেনদের কুৎসিত ও নোংরা আক্রমণ থেকে। নিজের মানসিক শান্তি এবং পেশাগত ক্ষতি নিয়ে হতাশা ব্যক্ত করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, সবকিছু কেড়ে নেওয়ার পর তাদের আর কী করার বাকি আছে।

এর আগে টেলিভিশন চ্যানেলটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, তাদের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টটি সাইবার হামলার শিকার বা হ্যাকড হয়েছিল। হ্যাকাররাই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ওই আপত্তিকর কনটেন্টটি শেয়ার করে। একই সঙ্গে তারা এই সাইবার অপরাধের পেছনে থাকা দোষীদের খুঁজে বের করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাসও দেয়। তবে এই যুক্তি মানতে নারাজ পরীমণি। তিনি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে লিখেছেন, অপরাধীদের ধরার আইনি প্রক্রিয়া কবে শেষ হবে তার কোনো ঠিক নেই, কিন্তু এই মুহূর্তে একটি দায়িত্বশীল ভেরিফায়েড প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ওই চ্যানেলটিই তার কাছে মূল অপরাধী।

এর আগে একটি ফেসবুক লাইভে এসে অভিনেত্রী পরিষ্কার করেন যে, এই ভুয়ো ভিডিওটি নতুন কিছু নয়। প্রায় এক থেকে দেড় বছর ধরে অনেকেই এটি তাকে হোয়াটসঅ্যাপে পাঠিয়ে আসছিল। এতদিন মূলধারার কোনো মাধ্যমে এটি না আসায় বিষয়টি নিয়ে তেমন শোরগোল হয়নি। কিন্তু একটি  গণমাধ্যমের ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্ট থেকে যখন এটি প্রকাশ করা হয়, তখন সাধারণ মানুষের কাছে এর গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয় এবং তা মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে তার সামাজিক ও মানসিক জীবনকে দুর্বিষহ করে তোলে।

এনএনবাংলা/ইএস