বিমানের ফ্লাইটে ‘লালসালু’ ও ‘চিত্রা নদীর পারে’ সিনেমা দেখানো বন্ধ

দেশীয় চলচ্চিত্রের খ্যাতিমান নির্মাতা তানভীর মোকাম্মেলের কালজয়ী দুই সিনেমা ‘লালসালু’ ও ‘চিত্রা নদীর পারে’ প্রদর্শন বন্ধ করেছে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ বিমান।
চলচ্চিত্র দুটির পরিচালক ও প্রযোজক তানভীর মোকাম্মেলও বিষয়টি নিয়ে ফেসবুকে একাধিক পোস্ট শেয়ার করেছেন।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) নির্মাতা তানভীর মোকাম্মেল তার ফেসবুক আইডিতে এক পোস্টের মাধ্যমে নিশ্চিত করেন যে, এক অজ্ঞাত কারণে চলচ্চিত্র দুটি নিজেদের ইন-ফ্লাইট এন্টারটেইনমেন্টে প্রদর্শন করতে অপারগতা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ বিমান। তবে ঠিক কী কারণে হঠাৎ সিনেমা দুটি প্রদর্শন বন্ধের এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো, সে বিষয়ে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেয়নি সংস্থাটি। এ বিষয়ে কথা বলতে নির্মাতা তানভীর মোকাম্মেলের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সাড়া মেলেনি।
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত এবং দেশে-বিদেশে সমাদৃত এই চলচ্চিত্র দুটি দীর্ঘকাল ধরে বিমানের ফ্লাইটে প্রদর্শিত হয়ে আসছিল।
বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইটে চলচ্চিত্র সরবরাহের কাজ করছে ‘ব্ল্যাক অ্যান্ড হোয়াইট’। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী কাজী রিটন জানান, তানভীর মোকাম্মেলের বেশ কয়েকটি সিনেমা তাঁদের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ বিমানে প্রদর্শিত হয়ে আসছে। তবে প্রায় দুই মাস আগে তাঁদের জানানো হয়, ‘লালসালু’ ও ‘চিত্রা নদীর পারে’ আর প্রদর্শন করা হবে না।
মঙ্গলবার বিকেলে কাজী রিটন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমাদের জানানো হয়েছে, ছবি দুটি দশ বছরের বেশি সময় দেখানো হয়েছে। তাই আপাতত না দেখানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরে আবার দেখানো হবে।’
এ বিষয়ে বাংলাদেশ বিমান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইন-ফ্লাইট এন্টারটেইনমেন্ট বা বিমানের অভ্যন্তরীণ বিনোদনব্যবস্থার কনটেন্ট নিয়মিত পরিবর্তন করা হয়। সাধারণত ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে সিনেমা, টিভি শো ও অডিওর তালিকা পরিবর্তন করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস।
তানভীর মোকাম্মেল পরিচালিত ‘লালসালু’ ২০০১ সালে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায়। সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর বিখ্যাত উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত সিনেমাটিতে অভিনয় করেছেন রাইসুল ইসলাম আসাদ, আলী যাকের, তৌকীর আহমেদ, মেহবুবা মাহনূর চাঁদনী, আমিরুল হক চৌধুরী, চিত্রলেখা গুহ, রওশন জামিল ও মুনিরা ইউসুফ মেমীসহ আরও অনেকে।
অন্যদিকে, ‘চিত্রা নদীর পারে’ ১৯৯৯ সালে মুক্তি পায় এবং এতে অভিনয় করেছেন নাট্যজন মমতাজউদ্দীন আহমেদ, আফসানা মিমি, তৌকীর আহমেদ, রওশন জামিল ও সুমিতা দেবী। চলচ্চিত্রটি ১৯৪৭ সালের দেশভাগ ও তৎকালীন আবহ নিয়ে নির্মিত।
এনএনবাংলা/এফএস
