বিচ্ছেদের এক দশক পরও অনন্য বন্ধুত্ব: প্রাক্তন স্ত্রী সুজানের জন্মদিনে হৃতিকের আবেগঘন বার্তা

বলিউড তারকা হৃতিক রোশন ও তাঁর প্রাক্তন স্ত্রী সুজান খানের বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছে এক দশকেরও বেশি সময় আগে, ২০১৪ সালে। তবে আইনি বিচ্ছেদ ঘটলেও তাঁদের মধ্যকার পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বন্ধুত্ব ও দুই সন্তানের প্রতি দায়িত্ববোধে কোনো চির ধরেনি। সম্প্রতি সুজান খানের জন্মদিন উপলক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হৃতিকের দেওয়া একটি আবেগঘন পোস্ট নতুন করে তাঁদের এই সুন্দর সম্পর্ককে আলোচনায় নিয়ে এসেছে।
গত ২৬ অক্টোবর ছিল সুজানের জন্মদিন। বিশেষ দিনে সময়মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখতে না পারলেও, দুই দিন পর (২৮ অক্টোবর) ইনস্টাগ্রামে সুজানের বেশ কয়েকটি ছবি পোস্ট করে শুভেচ্ছা জানান হৃতিক। তিনি লেখেন, “শুভেচ্ছা জানাতে কিছুটা দেরি হয়ে গেল, তবে এই শুভেচ্ছা এসেছে আমার হৃদয়ের গভীর থেকে। জন্মদিনের অনেক অনেক শুভেচ্ছা, সুজান।”
পোস্টে সুজানের জীবনসংগ্রাম ও ব্যক্তিত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন হৃতিক। তিনি সুজানের জীবনের নানামুখী চ্যালেঞ্জ জয় করে আজকের অবস্থানে পৌঁছানোর জার্নি নিয়ে নিজের গর্ব প্রকাশ করেন। সুজানকে তাঁদের দুই সন্তান হৃহান ও হৃদানের জন্য ‘সেরা মা’ (পোস্টে হৃতিক তাঁদের ডাকনাম ‘Ray and Ridz’ উল্লেখ করেছেন) হিসেবে অভিহিত করে হৃতিক বলেন, সন্তানদের জীবনে সুজানের মতো একজন ইতিবাচক ও আলোকিত মানুষকে পেয়ে তিনি কৃতজ্ঞ।
সুজান একজন সফল ইন্টেরিয়র ডিজাইনার। তাঁর প্রতিষ্ঠান ‘দ্য চারকোল প্রজেক্ট’ যেন বিশ্বব্যাপী আরও ছড়িয়ে পড়ে, সেই শুভকামনা জানান এই অভিনেতা। বার্তার শেষাংশে হৃতিক তাঁর পাশে থাকার দৃঢ় প্রতিশ্রুতি দিয়ে লেখেন, “আমি এখনো তোমার পাশে আছি, ভবিষ্যতেও থাকব। সব সময় তোমার সাফল্যে উচ্ছ্বসিত হয়ে তোমার জন্য হাততালি দেব।”
প্রাক্তন স্বামীর এমন বার্তার জবাবে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন সুজান খানও। তিনি সন্তানদের সুন্দর অভিভাবকত্বের জন্য হৃতিককে ধন্যবাদ জানান। একই সঙ্গে বর্তমান জীবনে নিজেদের নতুন সম্পর্কের প্রতি ইঙ্গিত করে হৃতিক, তাঁর প্রেমিকা সাবা আজাদ এবং নিজের প্রেমিক আরসলান গনিসহ সবার জীবনে সুখ ও আনন্দ কামনা করেন।
উল্লেখ্য, ২০০০ সালে দীর্ঘদিনের প্রেমের পর বিয়ে করেছিলেন হৃতিক ও সুজান। দীর্ঘ ১৪ বছর দাম্পত্য জীবন কাটানোর পর ২০১৪ সালে তাঁরা আলাদা হয়ে যান। বর্তমানে হৃতিক অভিনেত্রী ও গায়িকা সাবা আজাদের সঙ্গে এবং সুজান অভিনেতা আরসলান গনির সঙ্গে সম্পর্কে রয়েছেন। সম্পর্ক ভাঙলেও আধুনিক অভিভাবকত্ব এবং বন্ধুত্বের এক অনন্য উদাহরণ তৈরি করে চলেছেন এই প্রাক্তন যুগল।
এনএনবাংলা/ইএস
