ফুটবল মহানায়ক ম্যারাডোনার ৬৬তম জন্মদিন আজ

ফুটবল বিশ্বের কিংবদন্তি দিয়েগো আরমান্দো ম্যারাডোনার ৬৬তম জন্মদিন আজ। ১৯৬০ সালের ৩০ অক্টোবর আর্জেন্টিনার ভিয়া ফিওরিতোতে জন্মগ্রহণ করেন ফুটবলের এই জাদুকর। ২০২০ সালের ২৫ নভেম্বর ৬০ বছর বয়সে পৃথিবীকে বিদায় জানান তিনি। তবে ফুটবল মাঠের অসাধারণ নৈপুণ্য, অবিশ্বাস্য ড্রিবলিং আর অসংখ্য স্মরণীয় মুহূর্তের মধ্য দিয়ে আজও কোটি ভক্তের হৃদয়ে অমর হয়ে আছেন ম্যারাডোনা।
ম্যারাডোনার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে উজ্জ্বল অধ্যায় ১৯৮৬ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপ। তার নেতৃত্বেই দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জেতে আর্জেন্টিনা। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে করা দুটি গোলের একটি ‘হ্যান্ড অব গড’ নামে পরিচিত। অন্যটি মাঝমাঠ থেকে একক প্রচেষ্টায় একাধিক খেলোয়াড়কে কাটিয়ে করা অসাধারণ গোল, যা ২০০২ সালে ফিফার ভোটে শতাব্দীর সেরা গোল নির্বাচিত হয়।
মাত্র ১০ বছর বয়সে ফুটবল প্রতিভার স্বাক্ষর রাখেন ম্যারাডোনা। ১৫ বছর বয়সে পেশাদার ফুটবলে অভিষেকের পর দ্রুতই হয়ে ওঠেন আর্জেন্টিনার অন্যতম সেরা তারকা। ১৯৭৯ সালে বিশ্ব যুব চ্যাম্পিয়নশিপে আর্জেন্টিনাকে শিরোপা জেতানোর পাশাপাশি টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার পান তিনি।
বার্সেলোনায় খেলার পর ১৯৮৪ সালে ইতালির ক্লাব নাপোলিতে যোগ দেন ম্যারাডোনা। সেখানে কাটান ক্যারিয়ারের সেরা সময়। তার নেতৃত্বে নাপোলি দুবার সিরি-আ এবং একবার কোপ্পা ইতালিয়ার শিরোপা জেতে। ১৯৮৯ সালে ক্লাবটিকে উয়েফা কাপও জেতান তিনি। নাপোলির ইতিহাসে ম্যারাডোনা আজও সবচেয়ে স্মরণীয় নামগুলোর একটি।

মাঠের অসাধারণ কীর্তি আর ফুটবলের প্রতি ভালোবাসার কারণে দিয়েগো ম্যারাডোনা বেঁচে থাকবেন ভক্তদের স্মৃতিতে, প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে।
১৯৮৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে পশ্চিম জার্মানিকে ৩-২ গোলে হারিয়ে শিরোপা জেতে আর্জেন্টিনা। ম্যাচের তিনটি গোলেই অবদান ছিল ম্যারাডোনার। অধিনায়ক হিসেবে বিশ্বকাপ ট্রফি উঁচিয়ে ধরার মধ্য দিয়ে নিজেকে নিয়ে যান কিংবদন্তির উচ্চতায়। ফুটবল বিশ্ব তাকে অভিহিত করে ‘ফুটবল ঈশ্বর’ ও ‘ফুটবল সম্রাট’ হিসেবে।
তবে তার জীবন ছিল নানা বিতর্ক ও চড়াই-উতরাইয়ে ভরা। মৃত্যুর পর সঠিক চিকিৎসা না পাওয়ার অভিযোগ ওঠে, যা নিয়ে আর্জেন্টিনায় বিচারিক প্রক্রিয়াও চলছে।
২০২২ সালে লিওনেল মেসির নেতৃত্বে আর্জেন্টিনা আবারও বিশ্বকাপ জিতেছে। কিন্তু সেই আনন্দের মুহূর্তে ছিলেন না দেশটির কোটি মানুষের আরেক ফুটবল নায়ক ম্যারাডোনা। মাঠের অসাধারণ কীর্তি আর ফুটবলের প্রতি ভালোবাসার কারণে তিনি বেঁচে থাকবেন ভক্তদের স্মৃতিতে, প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে।
এনএনবাংলা/
