সাম্প্রতিক
ভূমিকম্প মোকাবিলায় সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর রাতেই উপকূল পাড়ি দিতে পারে প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’ সুনির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা হতে পারে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে গার্মেন্টস মালিকদের বৈঠক মিরপুরে সড়কে নামার চেষ্টা শ্রমিকদের, পুলিশের ধাওয়া–কাঁদানে গ্যাসে ছত্রভঙ্গ পোশাকশিল্প ধ্বংসের পাঁয়তারা চলছে, সরকারকে কঠোর হওয়ার আহ্বান জামায়াত আমিরের শূন্য ঘোষিত সংরক্ষিত নারী আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত এলিজা জামান ডিএমপির অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৪০৫ ট্রাম্পের বাসভবনের কাছে ‘ক্ষেপণাস্ত্রের মতো’ আছড়ে পড়ল উড়োজাহাজ, নিহত সব আরোহী
Skip to content

যুক্তরাজ্যে স্থায়ী বসবাসের নিয়মে বড় পরিবর্তন

যুক্তরাজ্যে বিদেশি পরিচর্যাকর্মীদের স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি পাওয়ার ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে দেশটির সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নির্দিষ্ট শর্ত পূরণকারী অভিবাসী পরিচর্যাকর্মীরা আগের নিয়মেই পাঁচ বছর পর স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পাওয়ার আবেদন করতে পারবেন।

সোমবার (২ নভেম্বর) লন্ডনের হাউস অব কমন্সে চূড়ান্ত এই নীতিমালা উপস্থাপন করে দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ জানান, যুক্তরাজ্যে স্থায়ী বসবাসের অধিকার কোনো স্বয়ংক্রিয় বিষয় নয়, বরং যোগ্যতা ও আর্থিক অবদানের মাধ্যমে এটি অর্জন করতে হবে।

নতুন নিয়মে বছরে ১ লাখ ২৫ হাজার পাউন্ডের বেশি আয়কারী উচ্চদক্ষ অভিবাসীরা মাত্র ৩ বছরেই এবং বছরে ৫০ হাজার ২৭১ পাউন্ডের বেশি আয় করা কর্মীসহ ডাক্তার, নার্স ও শিক্ষকেরা ৫ বছরে স্থায়ী হতে পারবেন। তবে এই নির্দিষ্ট আয়ের নিচে থাকা বাকি সব সাধারণ বৈধ কর্মীকে স্থায়ী বসবাসের যোগ্য হতে আগের ৫ বছরের জায়গায় এখন অন্তত ১০ বছর যুক্তরাজ্যে বসবাস ও কাজ করতে হবে।

২০২৫ সালের নভেম্বরে ঘোষিত প্রাথমিক প্রস্তাবে বিদেশি কেয়ার বা সেবা কর্মীদের ক্ষেত্রে স্থায়ী বসবাসের সময়সীমা সর্বোচ্চ ১৫ বছর করার কথা বলা হয়েছিল। তবে তীব্র রাজনৈতিক ও সামাজিক বিরোধিতার মুখে চূড়ান্ত নীতিমালায় সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে কেয়ার কর্মীদের বিশেষ ছাড় দেওয়া হয়েছে। নতুন নীতি অনুযায়ী কোনো বৈধ কর্মীকে ১৫ বছর অপেক্ষা করতে হবে না। বিশেষ করে মহামারি ও পরবর্তী সময়ে ব্রিটিশ স্বাস্থ্য খাতে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে যারা ২০২৫ সালের মে মাসের আগে হেলথ অ্যান্ড সোশ্যাল কেয়ার ভিসায় যুক্তরাজ্যে গেছেন, তারা আগের নিয়মে ৫ বছর পূর্ণ হলেই আইএলআরের আবেদন করতে পারবেন। তবে এই সুবিধার ক্ষেত্রে শর্ত দেওয়া হয়েছে যে সংশ্লিষ্ট কর্মীকে ভিসার নিয়মাবলি মেনে চলতে হবে এবং আবেদনের পূর্ববর্তী ১২ মাসে তার বার্ষিক আয় অন্তত ২৫ হাজার পাউন্ড হতে হবে।

যুক্তরাজ্যের হোম অফিসের সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, ইনোভেটর ফাউন্ডার ভিসায় যুক্তরাজ্যে তিন বছর থাকার পর আইএলআরের জন্য আবেদন করা যায়। আইএলআর অনুমোদিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি নির্দিষ্ট সময়সীমা ছাড়াই যুক্তরাজ্যে বসবাস, কাজ ও পড়াশোনা করতে পারেন এবং যোগ্যতা পূরণ সাপেক্ষে বিভিন্ন সুবিধা পাওয়ার সুযোগও থাকে। পরবর্তীতে ব্রিটিশ নাগরিকত্বের জন্যও আবেদন করা যেতে পারে।

কোনো বৈধ অভিবাসী যদি ভিসার কোনো শর্ত ভঙ্গ করেন কিংবা নির্দিষ্ট কিছু সরকারি আর্থিক ভাতা দাবি করেন, তবে তার জন্য অপেক্ষার সময়সীমা বেড়ে দাঁড়াবে ২০ বছরে। অন্যদিকে ছোট নৌকায় করে অবৈধভাবে যুক্তরাজ্যে প্রবেশকারী ব্যক্তিদের স্থায়ী বসবাসের জন্য ২০ থেকে ৩০ বছর পর্যন্ত দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হতে পারে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নামও এই নীতির প্রতি সমর্থন জানিয়ে উল্লেখ করেছেন যে স্থায়ী নাগরিক মর্যাদা নিশ্চিতভাবেই কাজের যোগ্যতা দিয়ে অর্জন করার মতো একটি অধিকার।

এনএনবাংলা/এফএস