সাম্প্রতিক
Skip to content

নির্বাচনে হেরে ইরানের ঘাড়ে দোষ চাপালেন ট্রাম্প

ছবিঃ সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান পার্টির বড় ধরনের পরাজয়ের পেছনে ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের প্রভাব রয়েছে বলে স্বীকার করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় ভোটারদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল, যার প্রতিফলন ঘটেছে ব্যালট বাক্সে।

বুধবার (৪ নভেম্বর) মার্কিন গণমাধ্যম ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’-কে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প এ কথা বলেন।

২০২৬ সালের এই মধ্যবর্তী নির্বাচনে দেশটির উচ্চকক্ষ সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করেছে বিরোধী দল ডেমোক্রেটিক পার্টি। সর্বশেষ প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী, সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজনীয় ৫১টি আসনে জয় পেয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। বিপরীতে রিপাবলিকানরা এখন পর্যন্ত মাত্র ৪০টি আসনে জয় নিশ্চিত করতে পেরেছে। এছাড়া নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদেও সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পথে রয়েছে ডেমোক্র্যাটরা।

নির্বাচনে রিপাবলিকানদের এই ভরাডুবির পেছনে ইরান যুদ্ধের কোনো ভূমিকা ছিল কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সরাসরি বলেন, ‘এর পেছনে ইরানও একটি কারণ ছিল।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘মানুষ সম্ভবত জ্বালানির দামের স্বল্পমেয়াদি এই প্রভাব মন থেকে মেনে নিতে প্রস্তুত ছিল না।’

কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে চলে গেলেও নিজের শক্ত অবস্থানের কথা জানান দিয়েছেন ট্রাম্প। বিরোধীদের বিভিন্ন নীতিমালার সমালোচনা করে তিনি হুঁশিয়ারি দেন যে, ডেমোক্র্যাটদের যেকোনো ‘পাগলামিপূর্ণ’ প্রস্তাবে তিনি ভেটো (অনুমোদন না দেওয়া) প্রয়োগ করবেন।

অবশ্য এর আগে ‘নিউইয়র্ক টাইমস’-কে দেওয়া অন্য একটি সাক্ষাৎকারে নির্বাচনের ফল মেনে নেওয়ার ইতিবাচক মানসিকতা দেখিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সেখানে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি অবশ্যই নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিতে প্রস্তুত।’ একই সাথে দেশের স্বার্থে বিরোধীদের সঙ্গে মিলে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আমরা ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে কাজ করব এবং তাদের সঙ্গে কাজ করার অপেক্ষায় আছি। আশা করি, আমরা কোনো না কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারব।’

বিপর্যস্ত এই নির্বাচনী ফলাফলের পর ওয়াশিংটনের রাজনীতিতে ডেমোক্র্যাট নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেস এবং ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যে আগামী দিনগুলোতে কেমন সমীকরণ তৈরি হয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

এনএনবাংলা/ইএস