Skip to content

LIVE 55'
Belgium
0-1
Egypt
Source: ESPN

ইরানের তেলের দাম চা দিয়ে মেটাবে শ্রীলঙ্কা

অনলাইন ডেস্ক :

ইরান থেকে আমদানি করা তেলের দাম প্রতি মাসে চা পাঠিয়ে পরিশোধের পরিকল্পনা নিয়েছে শ্রীলঙ্কা। বিবিসি জানায়, চার বছরে তেলের দাম বাবদ শ্রীলঙ্কার কাছে ইরানের পাওনা ২৫ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার। ওই পাওনা মেটাতে প্রতি মাসে ৫০ লাখ ডলার সমমূল্যের চা ইরানে পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে দেশটির বনায়নমন্ত্রী রমেশ পাথিরানা। এদিকে, ঋণের সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রা ঘাটতির কারণে এমনিতেই সংকটে ছিল শ্রীলঙ্কা। করোনা মহামারির কারণে পর্যটক কমে যাওয়ায় সেই সংক্ট আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। দেশটির চা বোর্ডের এক সদস্যের বরাতে বিবিসি বলছে, বিদেশি ঋণ মেটাতে এই প্রথমবারের মতো চা বিনিময় করতে যাচ্ছে শ্রীলঙ্কা। ইরানের ওপর জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা থাকলেও চা পাঠিয়ে ঋণ শোধ করলে ওই অবরোধের কোনো বিধি লঙ্ঘন হবে না বলে জানিয়েছেন শ্রীলঙ্কার বনায়নমন্ত্রী। তিনি বলেন, চা খাদ্যপণ্য হিসেবে বিবেচিত এবং সেই হিসেবে নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বে না। আর কালো তালিকাভুক্ত ইরানের কোনো ব্যাংকেরও সঙ্গেও তাদের লেনদেনে যেতে হবে না। অন্যদিকে, এই বিনিময় পরিকল্পনার মধ্য দিয়ে বৈদেশিক মুদ্রার সঙ্কট এড়াতে পারবে বলে মনে করছে শ্রীলঙ্কা। কারণ, সরকার দেশের কোম্পানিগুলোর কাছে থেকে চা কিনবে স্থানীয় মুদ্রায়। তবে, শ্রীলঙ্কার চা উৎপাদকদের মুখপাত্র রোশান রাজাদুরাই এ ধরনের লেনদেনকে সরকারের জোড়তালি দেওয়া সমাধান বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, চায়ের দাম যেহেতু রুপিতে পরিশোধ করা হবে, তাই রফতানিকারকদের কোনো লাভ হবে না। শ্রীলঙ্কার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নভেম্বরে দেশটির বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে দাঁড়িয়েছে ১৬০ কোটি ডলারে। এ দশার মধ্যেই ২০২২ সালে ৪৫০ কোটি ডলারের দেনা শোধ করতে হবে শ্রীলঙ্কাকে। যার শুরু হবে জানুয়ারিতে ৫০ কোটি ডলারের আন্তর্জাতিক সার্বভৌম বন্ডের মাধ্যমে ঋণ পরিশোধের মধ্য দিয়ে। প্রসঙ্গত, প্রতি বছর প্রায় ৩৪ কোটি কেজি চা উৎপাদন করে শ্রীলঙ্কা। ২০২০ সালে ২৬ কোটি ৫৫ লাখ কেজি চা রফতানি করে শ্রীলঙ্কার আয় হয়েছে ১২৪ কোটি মার্কিন ডলার।