পুলিশ বনাম তরুণী, মুম্বাইয়ের আন্দোলনে ঠিক যেন ঢাকার চিত্র

মুম্বাইয়ের শিবাজি পার্কে শিক্ষার্থীদের চলমান বিক্ষোভে এক সাহসী পদক্ষেপের মাধ্যমে আলোচনায় এসেছেন ২৭ বছর বয়সী তরুণী রিয়া আহির। বুধবার (২২ জুলাই) পুলিশের একটি প্রিজন ভ্যানে আটক আন্দোলনকারীদের নিয়ে যাওয়ার সময় তিনি একাই গাড়িটির সামনে দাঁড়িয়ে সেটি আটকে দেন। তার দৃঢ় অবস্থানের মুখে শেষ পর্যন্ত ভ্যানে থাকা আন্দোলনকারীদের ছেড়ে দিতে বাধ্য হয় পুলিশ।
মুম্বাইয়ের এই ঘটনা অনেকের কাছেই মনে করিয়ে দিচ্ছে দুই বছর আগে বাংলাদেশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় পুলিশের গাড়ির সামনে এক তরুণীর একাই দাঁড়িয়ে আটক বিক্ষোভকারীদের মুক্ত করার সেই আলোচিত দৃশ্য।
জানা গেছে, রিয়া আহির পেশায় একজন মডেল। ঘটনার দিন তিনি মুম্বাইয়ের দাদারের কোহিনুর স্কয়ার থেকে শিবাজি পার্কের দিকে হেঁটে যাচ্ছিলেন। পথে তিনি দেখতে পান, একটি পুলিশ ভ্যানে বিপুলসংখ্যক আন্দোলনকারীকে আটক করে রাখা হয়েছে। সেই দৃশ্য দেখেই তিনি প্রতিবাদে এগিয়ে যান।
রিয়ার ভাষ্য অনুযায়ী, ভ্যানটির ভেতর এত মানুষ ছিল যে দাঁড়িয়ে থাকার মতোও জায়গা ছিল না। তিনি বুঝতে পারেন, আন্দোলনকারীদের অহেতুক আটক করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এরপর আর দেরি না করে সরাসরি গাড়িটির সামনে দাঁড়িয়ে যান। রিয়া বলেন, আন্দোলনকারীদের স্লোগানই তাকে সেখানে টেনে নিয়েছিল। তিনি মনে করেছিলেন, যখন বিক্ষোভে যোগ দিতেই এসেছেন, তখন অন্যায় দেখেও নীরব থাকা উচিত নয়। আটক মানুষদের এভাবে নিয়ে যেতে দেওয়া যায় না।
এ সময় পুলিশের সঙ্গে তার তীব্র বাক্যবিনিময় হয়। পুলিশ প্রথমে দাবি করে, কিছুদূর নিয়ে যাওয়ার পর আটক ব্যক্তিদের ছেড়ে দেওয়া হবে। তবে রিয়া সেই ব্যাখ্যা মেনে নেননি। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ছেড়ে দেওয়ার ইচ্ছা থাকলে এখনই সবাইকে মুক্ত করতে হবে।
পরে পুলিশ তাকে ভয় দেখাতে ভ্যানটি সামান্য সামনে এগিয়ে নেয়। কিন্তু রিয়া একচুলও সরে দাঁড়াননি। শেষ পর্যন্ত তার অনড় অবস্থানের কাছে নতি স্বীকার করে পুলিশ এবং ভ্যানে থাকা সব আন্দোলনকারীকে ছেড়ে দেয়।
মুক্ত হওয়ার পর আন্দোলনকারীরা ভ্যান থেকে নেমে রিয়াকে ধন্যবাদ জানান এবং করমর্দনের মাধ্যমে তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। ঘটনাটির ভিডিও দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। রাতারাতি ভাইরাল হয়ে যান রিয়া আহির।
নিজের প্রতিক্রিয়ায় রিয়া বলেন, তিনি বিখ্যাত হওয়ার উদ্দেশ্যে কিছু করেননি। একজন নীরব দর্শক হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা তার পক্ষে সম্ভব ছিল না। তিনি জানতেন, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এফআইআর করা হতে পারে। তাই সেই মুহূর্তে প্রতিবাদ করাকে একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে নিজের কর্তব্য বলেই মনে করেছেন।
এনএনবাংলা/
