সাম্প্রতিক
স্টুডেন্ট ভিসায় পরিবার নেওয়ার সুযোগ বন্ধ করছে অস্ট্রেলিয়া ভারতে পলাতকরা যাতে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে না পারে: হাইকমিশনারকে মাহ্দী আমিন উপনির্বাচনে থাকবে সেনাবাহিনী, জুনের আগেই ইউপি নির্বাচন: ইসি আগস্টে সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৮১ মৃত্যু, জুলাইয়ের তুলনায় প্রাণহানি বেড়েছে ইরানে মার্কিন হামলায় ‘যুদ্ধাপরাধের’ তথ্য পেল জাতিসংঘ, কাঠগড়ায় তেহরানও সর্বজনীন পেনশন স্কিমের মুনাফা সামান্য বাড়াল সরকার, মিলবে যেসব সুবিধা শেখ হাসিনাকে ফেরাতে কূটনৈতিক-আইনগত উদ্যোগ অব্যাহত: সংসদীয় কমিটি পশ্চিমবঙ্গে ‘আসসালামু আলাইকুম’-‘ইনশাআল্লাহ’ বলার বিতর্কের মধ্যে নারী মুসলিম পুলিশ কর্মকর্তাকে বদলি গুলশান ও ধানমন্ডিসহ রাজধানীর একাধিক লেকের দূষণ রোধে সমন্বিত উদ্যোগের নির্দেশ
Skip to content

হাওরে পানি বাড়ছে, আতঙ্কে কাঁচা ধান কাটছে কৃষক

ভারতের মেঘালয় রাজ্যের চেরাপুঞ্জি থেকে নেমে আসা ঢলে নেত্রকোণার হাওরাঞ্চল খালিয়াজুরীর ধনু নদীর পানি বেড়েই চলছে। এই অবস্থায় নিরুপায় হয়ে নিম্নাঞ্চলের হাওরগুলোতে ইতোমধ্যে আধাঁপাকা ও কাঁচা ধান কাটতে শুরু করেছে আতঙ্কিত কৃষকেরা।

সোমবার দুপুরে নেত্রকোণা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী এম এল সৈকত বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতের মেঘালয় প্রদেশের চেরাপুঞ্জিতে ১৫২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এ বৃষ্টির পানি বাংলাদেশের সুনামগঞ্জের যাদুকাটা ও সুরমা নদী দিয়ে নেমে খালিয়াজুরী পয়েন্টে ধনু নদীর পানি বেড়েছে ১০ সেন্টিমিটার বৃদ্ধির পেয়েছে।

সোমবার দুপুর ১২টার দিকে পরিমাপ করে দেখা গেছে যে ধনু নদীর পানি বিপদসীমার মাত্র ৫৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নদ-নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে হাওরাঞ্চলের বোরো চাষিদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। আর তাই নিম্নাঞ্চলের হাওরগুলোতে কাঁচা ধান কাটার হিড়িক পড়ে গেছে।

সরজমিনে দেখা গেছে, অনেকে পানিতে ডুবে যাওয়া কাঁচা ধান কেটে কিছু পরিমাণ হলেও ঘরে তোলার চেষ্টা করছেন।

খালিয়াজুরী সদরের পুরানহাটি গ্রামের সুজন মিয়া ও লক্ষীপুর গ্রামের কৃষক আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘এই জমিগুলোর ধান পাকতে আরও ১০-১৫ দিন দরকার ছিল। তবুও নিরূপায়ে কাটছেন যাতে করে অন্তত গরুর খাবারটা সংগ্রহ করার আশায়।

খালিয়াজুরী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জসীম উদ্দিন বলেন, আমাদের হিসেবে এ উপজেলায় ২১ হাজার ১২০ হেক্টর জমির মাঝে এখন পর্যন্ত প্লাবিত জমির পরিমাণ ৩৭০ একর। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে কোনো জমি প্লাবিত হয়নি।’

তিনি বলেন, জেলার কীর্তনখোলা, লক্ষ্মীপুর, চুনাই, বাইদ্যারচর, কাটকাইলের কান্দা, টাকটার, মনিজান, লেবরিয়া, হেমনগর, গঙ্গাবদর, নয়াখাল, বাগানী, বৈলং ও ডাকাতখালী হাওরের নিম্নাঞ্চলে অবস্থিত জমিগুলো পানিতে তলিয়ে গেছে।

পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী এম এল সৈকত বলেন, আমাদের শেষ ভরসা হচ্ছে ফসল রক্ষা বাঁধ। নেত্রকোণার হাওরাঞ্চলে ১৮৩ কিলোমিটার ওই বাঁধের কোনো অংশ এখনও ভাঙেনি। আমরা বাঁশ এবং জিও ব্যাগ দিয়ে বাঁধগুলো আরও শক্ত বা মজবুত করার চেষ্টা করছি।

খালিয়াজুরী উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ এইচ এম আরিফুল ইসলাম বলেন, হাওরের কিছু এলাকায় আগাম জাতের ধান (ব্রি-২৮) কিছুটা কাটা শুরু হয়েছে। তবে পুরোদমে কাটা-মাড়াই শুরু হতে সময় লাগবে আরও ১০-১৫ দিন পর। এরই মধ্যে পাহাড়ি ঢল আসতে শুরু করায় আমরা অনেকটা আতঙ্কিত।

—-ইউএনবি