সাম্প্রতিক
এআইইউবি’র ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. হাসানুল এ. হাসান, ভাইস চেয়ারম্যান ইশতিয়াক আবেদীন ডেঙ্গুতে বাড়ছে মৃত্যু, সেপ্টেম্বরের ১৩ দিনেই ৬০ প্রাণহানি যুক্তরাজ্য ভেঙে দিতে চায় তিন দেশ, ফার্স্ট মিনিস্টারদের চুক্তি বিদ্যুতে লুটপাট: ১৭ বছরে পরিশোধ ২,৮৯,৯৪৯ কোটি টাকার ক্যাপাসিটি চার্জ! ডাকসুতে জিন্নাহ’র ছবি প্রদর্শনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে: ঢাবি কর্তৃপক্ষ ঢাকা দক্ষিণে সাদিক কায়েম, উত্তরে সেলিম উদ্দিনকে মেয়র প্রার্থী করল জামায়াত ব্যাংকে কোটি টাকার হিসাব ছাড়াল ১ লাখ ৪১ হাজার হরমুজ বন্ধের খবরে তেলের দাম বাড়ছে হু হু করে ময়মনসিংহ মেডিকেলে আগুন, আতঙ্কে পদদলিত হয়ে শিশুসহ নিহত ৬ টানাপোড়েনের মধ্যেও বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক রাখতে চায় ভারত
Skip to content

পায়রা ধরতে গিয়ে ভারতের জেলে পাকিস্তানের ছাত্র

অনলাইন ডেস্ক :

ভারত-পাকিস্তান সীমান্তের এক ছোট্ট গ্রামে বাড়ি নবম শ্রেণির ছাত্র আবদুল সামাদের। পাকিস্তানের কাশ্মিরে অবস্থিত ওই গ্রামের নাম তাত্রিনোট। সামাদ পায়রা পুষতেন। গত নভেম্বর মাসে পায়রাগুলিকে খাঁচা থেকে মুক্ত করেছিলেন সামাদ। বিকেলের দিকে কিছু পায়রা ফিরে এলেও কয়েকটি নিরুদ্দেশ ছিল। তাদের খুঁজতে বেরিয়েই সমস্যায় পড়েন সামাদ। পায়রা ধরতে গিয়ে তিনি ঢুকে পড়েন ভারতীয় কাশ্মিরের অংশে। এবং সঙ্গে সঙ্গে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী তাকে আটক করে।ভারতে সামাদের বিরুদ্ধে বেআইনিভাবে সীমান্ত পার করার মামলা দায়ের হয়েছে। তাকে রাখা হয়েছে অমৃতসরের একটি জেলে। এখন পর্যন্ত সামাদের পরিবার তার সঙ্গে কথা বলতে পারেনি। গরিব গ্রামের মানুষ ওই দিন বিকেলেই খবর পান যে, সামাদ ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন। তারপরেই পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেন তার পরিবার।
সামাদের মামা আরবাব আলি জানিয়েছেন, সামাদ গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে তারা একাধিকবার পাকিস্তান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন কিন্তু সেখান থেকে কোনো সাহায্য মেলেনি। তারা একবার সামাদের গলার আওয়াজ শুনতে চান। কিন্তু সেই ব্যবস্থাটুকুও তাদের করে দেওয়া হয়নি।
ওয়াশিংটনে উড্রো উইলসন সেন্টার ফর স্কলারসের দক্ষিণ এশিয়া বিশেষজ্ঞ মাইকেল কুগেলম্যান ডিডাব্লিউকে জানিয়েছেন, ‘এই ধরনের মামলায় সাধারণত বন্দিকে ছেড়ে দেওয়া হয়। কিন্তু তার জন্য অনেকটা সময় লেগে যায়। সে জন্যই ঠিক সংস্থার কাছে দ্রুত পৌঁছানো জরুরি।’ভারতের মানবাধিকার কর্মী রাহুল কাপূর আবদুল সামাদের ঘটনাটির কথা জেনে একটি অনলাইন পিটিশনের ব্যবস্থা করেন। গোটা দেশ থেকে সই সংগ্রহ করে তিনি ওয়াকিবহাল কর্মকর্তাদের কাছে পাঠিয়েছিলেন। তারই জেরে ভারতে পাকিস্তানের দূতাবাসের কর্মীরা সামাদের সঙ্গে গিয়ে দেখা করে আসতে পেরেছেন। গত মার্চ মাসে তারা গেছিলেন।১৯৭৪ সালে ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যে একটি চুক্তি সই হয়েছিল। সেখানে এ ধরনের ভুল করে সীমান্ত পার করা মানুষদের হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত হয়েছিল। হস্তান্তর হয়। কিন্তু তার জন্য বহু সময় লেগে যায়। বস্তুত, এই মুহূর্তে পাকিস্তানের জেলে ভারতের এমন ৬২৮ জন বন্দি আছেন। অন্যদিকে ভারতের জেলে বন্দি পাকিস্তানের ২৮২ জন নাগরিক। এদের অধিকাংশই মাছ ধরতে গিয়ে সমুদ্রে সীমান্ত পার করে ফেলেছিলেন।বিশেষজ্ঞদের অধিকাংশই বলছেন, সব ঠিক থাকলে সামাদ মুক্তি পেয়ে যাবেন। কিন্তু কতদিনে তিনি মুক্তি পান, সেটাই চিন্তার। বস্তুত, ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যে সম্পর্ক এতটাই তলানিতে গিয়ে পৌঁছেছে যে, এই ধরনের হস্তান্তরে বহু সময় লেগে যায়।