নিউনেশন ডেক্স :
কোভিড মহামারিতে চাকরি হারানোর পাশাপাশি প্রায় ৫ লাখ প্রবাসী কর্মী দেশে ফিরতে বাধ্য হওয়ার পরও বাড়ছে রেমিট্যান্স প্রবাহ। এ ধারা অব্যাহত রাখতে প্রবাসী আয়ে ২ শতাংশের প্রণোদনা বাড়িয়ে চার শতাংশ করার চিন্তাভাবনা করছে সরকার। এ সংক্রান্ত প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। তবে, চলমান প্রণোদনা রেখেই নতুন কর্মী পাঠানোসহ জরুরি খাতে অর্থ ব্যয়ের পরামর্শ দেন অর্থনীতিবিদ ড. নাজনীন আহমেদ।
গত বছরের মার্চে বিশ্বব্যাপী কোভিড মহামারি দেখা দিলে বিভিন্ন দেশ থেকে চাকরি হারিয়ে দেশে ফিরতে শুরু করেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। এ অবস্থায় রেমিট্যান্স প্রবাহে ধস ঠেকাতে ২০১৯-২০ অর্থবছর থেকে প্রবাসী আয়ে ২ শতাংশ প্রণোদনা দেওয়া হয়। এতে অনেকটা ঘুরে দাঁড়ায় রেমিট্যান্স প্রবাহ। ২০১৮-১৯ অর্থবছরের তুলনায় ১৯-২০ অর্থবছরে রেমিট্যান্স আসে ১৮০ কোটি ডলার বেশি। অপরদিকে প্রায় পাঁচ লাখ প্রবাসী ফেরত আসার পরও চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসেই রেমিট্যান্স এসেছে ২ হাজার ৬৬ কোটি ডলার, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় আড়াই শ’ কোটি ডলার বেশি। সরকারের দেয়া প্রণোদনাসহ কয়েকটি কারণে এটা বেড়েছে বলে মনে করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড . এ কে আবদুল মোমেন।
তিনি বলেন, সরকারিভাবে টাকা বেশি আসার কারণ অফিশিয়ালি আজকে অবশ্যই সরকারি প্রণোদনা দিয়েছিল বলে।
প্রণোদনার হার দুই শতাংশ থেকে বাড়িয়ে চার শতাংশ করতে অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানোর কথা জানিয়ে প্রবাসীকল্যাণ সচিব ড. আহমেদ মনিছুর সালেহীন বলেন, সরকারের নানামুখী উদ্যোগের কারণে রেমিট্যান্স প্রবাহে ধস নামার সম্ভাবনা নেই।
তিনি বলেন, মূল জিসিনটা হচ্ছে যে, মানুষ লিগ্যাল চ্যানেলে টাকা পাঠাবে এটাকে উৎসাহিত করা। আমাদের লোকজন যে পর্যায়ে কাজ করেন তারা ওইভাবে কর্মহীন হননি। তারা তাদের পুঁজির শেষটুকু পাঠিয়েছেন, এজন্য আমি মনে করি, এই কথাটা ঠিক নয়।
তবে, প্রণোদনা বাড়িয়ে রেমিট্যান্স প্রবাহ ধরে রাখা সঠিক পদক্ষেপ নয় দাবি করে খাদ্য নিরাপত্তাসহ জরুরি খাতে অর্থ ব্যয়ের তাগিদ দেন অর্থনীতিবিদ ড. নাজনীন আহমেদ।
করোনা সংকট কেটে যাওয়ার পরও অবৈধ পথে রেমিট্যান্স আসা বন্ধে উদ্যোগ নেয়ার পরামর্শ দেন তিনি।


আরও পড়ুন
তিন বছরে ৪০০ পোশাক কারখানা বন্ধ, আরও বহু ঝুঁকিতে: বিজিএমইএ
মাথাপিছু আয়ে ভারতকে ছাড়িয়ে যেতে পারে বাংলাদেশ: আইএমএফ
মার্চেই ২০ হাজার কোটি টাকা ‘ছাপিয়েছে’ সরকার: পিআরআই মুখ্য অর্থনীতিবিদ