সবজির দাম কমেছে, মাছ-মাংসের নেই পরিবর্তন

পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটির পর রাজধানীর খুচরা বাজারে বেশিরভাগ সবজির দামে স্বস্তি ফিরেছে। সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ায় বিভিন্ন ধরনের সবজির দাম কেজিপ্রতি ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। তবে মাছ, ডিম ও মাংসের বাজারে উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের উচ্চ মূল্য এখনও ভোক্তাদের উদ্বেগের কারণ হয়ে রয়েছে।
শুক্রবার (৫ জুন) রাজধানীর কয়েকটি কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, ঈদের ছুটির পর প্রথম সাপ্তাহিক ছুটির দিনে ক্রেতাদের উপস্থিতি তুলনামূলক কম। ব্যবসায়ীদের দাবি, অনেক আড়তদার ও পাইকার এখনও গ্রাম থেকে ফিরে না আসায় বাজারে স্বাভাবিক কর্মচাঞ্চল্য পুরোপুরি ফেরেনি।
রাজধানীর তেজগাঁও এলাকায় প্রতি কেজি কাঁকরোল ৮০ টাকা, করলা ৮০ টাকা, ঢেঁড়শ ৬০ টাকা, উচ্ছে ৬০ টাকা, কচুর চারা ৭০ টাকা, লতি ৬০ টাকা, ঝিঙে ৬০ টাকা, লম্বা বেগুন ৮০ টাকা, গোল বেগুন ৬০ টাকা এবং পেঁপে ৬০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। এছাড়া লেবু প্রতি হালি বিক্রি হচ্ছে ১০ টাকায়।
ব্যবসায়ীরা জানান, ঈদের আগে পরিবহন ব্যস্ততা ও বাড়তি চাহিদার কারণে সবজির দাম বেড়েছিল। বর্তমানে বিভিন্ন জেলা থেকে নিয়মিত সরবরাহ শুরু হওয়ায় বাজারে দাম কমতে শুরু করেছে।
অন্যদিকে মাছের বাজারে এখনও স্বস্তি ফেরেনি। বাজারে চাষের রুই মাছ প্রতি কেজি ৩৫০ টাকা, পাঙ্গাস ২২০ টাকা, চাষের শিং মাছ ৩৮০ টাকা, পাবদা ৪০০ টাকা এবং চিংড়ি ৮০০ থেকে ১,৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতাদের মতে, উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয় বেশি থাকায় মাছের দাম কমার সুযোগ সীমিত।
ডিমের বাজারেও দাম প্রায় স্থিতিশীল রয়েছে। ফার্মের ডিম প্রতি ডজন ১২০ টাকা এবং দেশি ডিম ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মাংসের বাজারে গরুর মাংস প্রতি কেজি ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকা এবং খাসির মাংস ১,১০০ থেকে ১,২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে কোরবানির পর মাংসের চাহিদা ও বেচাকেনা কিছুটা কমেছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।
বাজার করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী জিয়াউল ইসলাম বলেন, “ঈদের পর সবজির দাম কিছুটা কমায় স্বস্তি লাগছে। কয়েক সপ্তাহ ধরে সবজি কিনতে বেশি খরচ হচ্ছিল। তবে মাছ, ডিম ও মাংসের দাম এখনও সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে আসেনি।”
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মৌসুমি সবজির সরবরাহ আরও বাড়লে বাজারে দামের ওপর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। তবে মাছ, ডিম ও মাংসের বাজারে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে উৎপাদন ব্যয় কমানো, সরবরাহ ব্যবস্থা উন্নত করা এবং বাজার তদারকি জোরদার করা প্রয়োজন।
এনএনবাংলা/
