




দেশের রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। প্রথমবারের মতো এনবিআরের রাজস্ব আদায় ৪ লাখ কোটি টাকার সীমা অতিক্রম করেছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
সোমবার (২৯ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১৮তম দিনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সমাপনী বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান।
অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র চার মাসের মধ্যে গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের ফলে রাজস্ব খাতে এ সাফল্য এসেছে। তিনি জানান, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের হয়রানি কমাতে ফ্ল্যাট রেটে ভ্যাট প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হলেও সাধারণ মানুষের স্বস্তির কথা বিবেচনা করে কাঁচাবাজার ও ক্ষুদ্র মুদি দোকানকে সম্পূর্ণভাবে ভ্যাটের আওতার বাইরে রাখা হবে।
তিনি আরও বলেন, আগামী অর্থবছরের জন্য নির্ধারিত রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা চ্যালেঞ্জিং হলেও তা অর্জন করা সম্ভব। সরকার করের হার বৃদ্ধি না করে করভিত্তি সম্প্রসারণের মাধ্যমে রাজস্ব আহরণ বাড়াতে চায়। একই সঙ্গে করদাতাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি এবং রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাও সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।
রাজস্ব ব্যবস্থার সংস্কারের অংশ হিসেবে রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা পৃথকীকরণ, কর ব্যবস্থার অটোমেশন, কর ফাঁকি রোধ এবং বিনিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ব্যবসা-বাণিজ্যের অনুকূল পরিবেশ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, মুদ্রানীতি ও রাজস্ব নীতির সমন্বয়ের মাধ্যমে বাজারে অর্থ সরবরাহ নিয়ন্ত্রণে রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করা, টাকার বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখা, কৃষি ও শিল্প উৎপাদন বৃদ্ধি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে ৬০টি পণ্যের উৎসে কর কমানো হয়েছে।
তিনি বলেন, সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতা দূর করা, বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়ানো এবং কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি ও কারসাজির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা অব্যাহত রয়েছে। এসব উদ্যোগ ধাপে ধাপে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হবে।
আগামী অর্থবছরের জন্য নির্ধারিত ৬ দশমিক ৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়েও আশাবাদ ব্যক্ত করেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকারি ও বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, শিল্প, কৃষি, আইসিটি ও সেবাখাতের সম্প্রসারণ, ক্রিয়েটিভ অর্থনীতির বিকাশ, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য অর্জনে কাজ করবে সরকার।
বাজেট ঘাটতি ও সরকারি ব্যয় ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে তিনি জানান, দক্ষ ব্যয় ব্যবস্থাপনা ও টেকসই ঋণ কাঠামোর মাধ্যমে বাজেট ঘাটতি সহনীয় পর্যায়ে রাখা হবে। একই সঙ্গে পরিচালন ব্যয় কমিয়ে উন্নয়ন ব্যয়ের অংশ বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে উন্নয়ন ব্যয়ের অংশ ছিল ২৭ দশমিক ২৭ শতাংশ, যা ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাড়িয়ে ৩৩ দশমিক ৭০ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। অন্যদিকে পরিচালন ব্যয় ৭২ দশমিক ৭৩ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৬৬ দশমিক ৩০ শতাংশে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
এনএনবাংলা/
Tags: অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীকাঁচাবাজার ভ্যাটবাজেট ২০২৬-২৭ভ্যাটমুক্ত কাঁচাবাজারমুদি দোকান ভ্যাট
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন