Skip to content

Upcoming
Netherlands
0-0
Morocco
Source: ESPN

নাহিদ শুধু ব্যক্তি নন, ইতিহাসের অংশ: ড. ইউনূস

সাভারের জিরাবো সামাজিক কনভেনশন সেন্টারে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস দেশি-বিদেশি অতিথিদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামকে। ছবি: সংগৃহীত

অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় মাত্র তিন সপ্তাহে রাস্তায় গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল এক হাজার ৪০০ মানুষকে। সেই আন্দোলনের প্রথম সারির নেতৃত্বে ছিলেন নাহিদ ইসলাম। তিনি শুধু একজন ব্যক্তি নন, বরং জীবন্ত ইতিহাসের অংশ।

রোববার (২৮ জুন) সাভারের জিরাবো সামাজিক কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত ১৬তম সামাজিক ব্যবসা সম্মেলনে দর্শকসারি থেকে নাহিদ ইসলামকে মঞ্চে ডেকে উপস্থিত অতিথিদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন ড. ইউনূস।

ইউনূস সেন্টার ও গ্রামীণ গ্রুপের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ সম্মেলনে অংশ নেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক এবং জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।

একপর্যায়ে ড. মুহাম্মদ ইউনূস উপস্থিত সবাইকে দাঁড়িয়ে নাহিদ ইসলামকে সম্মান জানানোর আহ্বান জানান। পরে অতিথিরা করতালির মাধ্যমে তাকে স্বাগত ও সম্মান জানান।

ড. ইউনূস বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর নাহিদ ইসলাম সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে তিনি পদত্যাগ করে এনসিপি নামে রাজনৈতিক দল গঠন করেন। বর্তমানে দলটি জাতীয় সংসদে আটটি আসন নিয়ে প্রতিনিধিত্ব করছে এবং নাহিদ ইসলাম বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

তিনি আরও বলেন, “তাদের অঙ্গীকার নতুন বাংলাদেশ গড়া। যেহেতু তিনি ইতিহাসের অংশ, তাই আপনারা যে কেউ তার সঙ্গে কথা বলতে পারেন এবং ছবিও তুলতে পারেন।”

এ সময় নাহিদ ইসলাম বলেন, গ্রামীণ ব্যাংক থেকে শুরু করে অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অবদান সম্পর্কে সবাই অবগত। তাকে স্বাগত জানাতেই তিনি এই অনুষ্ঠানে এসেছেন।

তিনি আরও বলেন, “জুলাই অভ্যুত্থানের পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মতো একজন অভিভাবককে আমরা নেতা হিসেবে পেয়েছিলাম। তিনি শুধু জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে ধারণই করেননি, নতুন প্রজন্মকে দিকনির্দেশনাও দিয়েছেন। যারা জুলাই বিপ্লবে অংশ নিয়েছিল এবং আত্মত্যাগ করেছে, তাদের তিনি পথ দেখিয়েছেন। জুলাইয়ের চেতনায় আমরা জাতিকে পুনর্গঠনের চেষ্টা করছি।”

‘সামাজিক ব্যবসা: একটি বিভক্ত বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার ভাষা’—এই প্রতিপাদ্য নিয়ে অনুষ্ঠিত এবারের সোশ্যাল বিজনেস ডে’তে বিশ্বের ৩৭টি দেশ থেকে ২১৯ জন প্রতিনিধিসহ প্রায় দেড় হাজার অংশগ্রহণকারী যোগ দেন।

সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে পাঁচটি প্লেনারি সেশন ও সাতটি ব্রেকআউট সেশনে দারিদ্র্য, স্বাস্থ্যসেবা, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি, জলবায়ু পরিবর্তন, শিক্ষা, খাদ্য নিরাপত্তা এবং তরুণদের ক্ষমতায়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

এছাড়া এ বছর গ্রামীণ ব্যাংকের ৫০ বছর পূর্তি এবং অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নোবেল শান্তি পুরস্কার অর্জনের ২০ বছর পূর্তিও উদযাপন করা হয়। বক্তারা সামাজিক ব্যবসার প্রসারে উদ্ভাবনী ধারণা বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

এনএনবাংলা/