টানা বৃষ্টিতে বেনাপোল বন্দরে জলাবদ্ধতা, পানিতে তলিয়ে গেছে কোটি টাকার পণ্য

কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে দেশের সবচেয়ে বড় স্থলবন্দর বেনাপোলে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। বন্দরের ৩ নম্বর গেটসংলগ্ন পাঁচটি শেডে সংরক্ষিত বিভিন্ন ধরনের আমদানিকৃত মালামাল পানিতে তলিয়ে গেছে। কোথাও কোথাও হাঁটুপানি জমে থাকায় কোটি কোটি টাকার পণ্য ক্ষতির মুখে পড়েছে। এতে চরম উদ্বেগে পড়েছেন আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীরা।
বন্দর সূত্রে জানা গেছে, টানা বর্ষণে শেড ও আশপাশের এলাকায় পানি জমে যাওয়ায় বিভিন্ন পণ্য পানিতে ভিজে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পানি সরাতে পাওয়ার পাম্প ব্যবহার করা হলেও অব্যাহত বৃষ্টির কারণে পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি হচ্ছে না। এ অবস্থায় বন্দর কর্তৃপক্ষ ও বন্দর ব্যবহারকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন।
বন্দর ব্যবহারকারীদের অভিযোগ, দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর হওয়া সত্ত্বেও দুর্বল ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই শত শত কোটি টাকার আমদানিকৃত মালামাল জলাবদ্ধতার ঝুঁকিতে পড়ে। দীর্ঘদিন ধরে এ বিষয়ে অভিযোগ জানানো হলেও কার্যকর কোনো স্থায়ী উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
তাদের দাবি, পানি নিষ্কাশনের জন্য কমিটি গঠন করা হলেও সেটির কার্যক্রম যথেষ্ট নয়। গত বর্ষায় অল্প কিছুদিন তৎপরতা দেখা গেলেও পরে আর কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এছাড়া অধিকাংশ আমদানিকৃত পণ্যের বীমা না থাকায় ক্ষতির পুরো বোঝা ব্যবসায়ীদেরই বহন করতে হচ্ছে।
বেনাপোল বন্দরের ব্যবসায়ী অলিম বলেন, ‘পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় বন্দরের ভেতরে চলাচলও কঠিন হয়ে পড়েছে। কয়েকটি পণ্যাগারে পানি ঢুকে অনেক আমদানিকারকের লাখ লাখ টাকার মালামাল নষ্ট হয়েছে। প্রতিবছর বন্দরের ভাড়া বাড়লেও অবকাঠামোগত উন্নয়নে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ দেখা যায় না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।’
বেনাপোল আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতির সহসভাপতি আমিনুল হক বলেন, ‘অপরিকল্পিত উন্নয়ন এবং কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থার অভাবেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বছরে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায়কারী এ বন্দরের জলাবদ্ধতা সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে চললেও স্থায়ী সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে প্রতিবার বর্ষায় ব্যবসায়ীদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে।’
এ বিষয়ে বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক শামীম হোসেন জানান, টানা বৃষ্টিতে কয়েকটি শেডের মালামাল পানিতে ভিজেছে। পাওয়ার পাম্পের মাধ্যমে পানি অপসারণের কাজ চলছে। তবে টানা বৃষ্টির কারণে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। বৃষ্টি থেমে গেলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। পাশাপাশি জলাবদ্ধতা নিরসনে স্থায়ী সমাধানের জন্যও কাজ চলছে বলে জানান এই কর্মকর্তা।
এনএনবাংলা/

