১৬ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতি, মে মাসে বেড়ে ৯.৪২ শতাংশ

জ্বালানি তেল, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধির প্রভাবে দেশে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বেড়েছে। চলতি বছরের মে মাসে জাতীয় পর্যায়ে সাধারণ মূল্যস্ফীতি ১৬ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
রোববার (৭ জুন) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) মে মাসের মূল্যস্ফীতির হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করেছে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট ভিত্তিতে মে মাসে দেশের সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৪২ শতাংশে, যা এপ্রিলে ছিল ৯ দশমিক ০৪ শতাংশ। এর আগে মার্চ মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের নিচে নেমে ৮ দশমিক ৭১ শতাংশে ছিল।
বিবিএসের তথ্য বলছে, টানা চার মাস মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির পর মার্চে কিছুটা কমলেও এপ্রিল ও মে—পরপর দুই মাস আবার ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৯ দশমিক ১৩ শতাংশ এবং জানুয়ারিতে ছিল ৮ দশমিক ৫৮ শতাংশ।
খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, খাদ্যপণ্যের বাজারে মূল্যচাপ আরও বেড়েছে। মে মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৯ দশমিক ০৬ শতাংশে পৌঁছেছে, যা এপ্রিল মাসে ছিল ৮ দশমিক ৩৯ শতাংশ। ভোজ্যতেল, শাকসবজি, ডিম ও মুরগির দাম বৃদ্ধির কারণে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের ব্যয় বেড়েছে।
অন্যদিকে খাদ্যবহির্ভূত খাতেও মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। মে মাসে এ খাতে মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৭১ শতাংশে, যা এপ্রিলে ছিল ৯ দশমিক ৫৭ শতাংশ। জ্বালানি, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এ খাতে মূল্যস্ফীতি বাড়ানোর অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে।
গ্রাম ও শহর—উভয় এলাকাতেই মূল্যস্ফীতি বেড়েছে বলে জানিয়েছে বিবিএস। মে মাসে গ্রামাঞ্চলে সার্বিক মূল্যস্ফীতির হার দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৪৮ শতাংশে, যা এপ্রিলে ছিল ৯ দশমিক ০৫ শতাংশ। শহরাঞ্চলে মে মাসে সামগ্রিক মূল্যস্ফীতির হার হয়েছে ৯ দশমিক ২৫ শতাংশ।
অর্থনীতিবিদদের মতে, জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব নিয়ন্ত্রণে না এলে আগামী মাসগুলোতেও মূল্যস্ফীতির চাপ ভোক্তাদের ওপর অব্যাহত থাকতে পারে।
এনএনবাংলা/
