বরিশালের রাজনীতিবিদ ও সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম ফারুক অভি ২৩ বছর পর দেশে ফেরার জন্য বাংলাদেশ দূতাবাস, অটোয়ার-এর কাছে ট্রাভেল পারমিট আবেদন করেছেন। দূতাবাস এই আবেদন সরাসরি ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। অভির ঘনিষ্ঠ সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
দেশে ফেরার সঙ্গে সঙ্গে ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তার অংশগ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে। অভিই নিজেই গণমাধ্যমে দেশে ফেরার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
অভি দীর্ঘ ২৩ বছর কানাডায় ছিলেন। তিনি মডেল সৈয়দা তানিয়া মাহবুব তিন্নি হত্যা সহ বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকায় দেশে ফেরেননি। চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি তিনি সেই মামলা থেকে খালাস পান, এরপরই দেশে ফেরার গুঞ্জন জোরালো হয়।
বরিশালের উজিরপুরের সন্তান অভি ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। ১৯৯৬ সালে আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর জাতীয় পার্টির (জেপি) প্রার্থী হিসেবে বরিশাল-২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। সে সময় বিএনপি চেয়ারপারসনের বর্তমান উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জম হোসেন আলালকে পরাজিত করেছিলেন অভি। ১৯৯৬ সালে অবশ্য উজিরপুর-বাবুগঞ্জ নিয়ে বরিশাল-২ আসন ছিল। পরে বাবুগঞ্জ উপজেলা মুলাদীর সঙ্গে যুক্ত হয়ে বরিশাল-৩ এবং উজিরপুরের সঙ্গে বানারীপাড়া যুক্ত হয়ে বরিশাল-২ নির্বাচনী এলাকা পুনর্গঠিত হয়। এরপর ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হেরে যান অভি। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ২০০২ সালে দেশ ছাড়েন তিনি।
বরিশালের রাজনৈতিক মহলে অভির দেশে ফেরার খবর ইতিমধ্যেই কৌতূহল ও তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।
প্রসঙ্গত, এ বছর ১৪ জানুয়ারি ঢাকার দ্বিতীয় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ শাহীনুর আক্তার কানাডা প্রবাসী গোলাম ফারুক অভিকে তার অনুপস্থিতিতে তিন্নি হত্যা মামলা থেকে বেকসুর খালাস দেন। রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত জানান যে, প্রদত্ত সাক্ষ্যপ্রমাণ এই মর্মে প্রতীয়মান হয় যে মডেল তিন্নির অস্বাভাবিক মৃত্যু প্রকৃতপক্ষে আত্মহত্যা।
এনএনবাংলা/


আরও পড়ুন
২০০৯ সালের পর জন্মগ্রহণকারীদের ধূমপান নিষিদ্ধ, আইন করছে যুক্তরাজ্য
তিন বছরে ৪০০ পোশাক কারখানা বন্ধ, আরও বহু ঝুঁকিতে: বিজিএমইএ
মাথাপিছু আয়ে ভারতকে ছাড়িয়ে যেতে পারে বাংলাদেশ: আইএমএফ