৬ষ্ঠ জাতীয় স্কোয়াশ চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৬ উদ্বোধন
রাজধানীর আর্মি স্কোয়াশ কমপ্লেক্সে শুরু হয়েছে ৬ষ্ঠ জাতীয় স্কোয়াশ প্রতিযোগীতা ২০২৬-এর চূড়ান্ত পর্ব। উর্মি গ্রুপ ও তুরাগ একটিভ-এর পৃষ্ঠপোষকতায় ২৮টি জেলার মোট ৩০টি ক্লাব বিজয়ী ও নির্বাচিত ১০০ জনের অধিক খেলোয়াড় (পুরুষ ৭৯ ও মহিলা ২৪ জন) নিয়ে দশটি গ্রুপ নিয়ে ৬ষ্ঠ বারের মত শিরোপার চূড়ান্ত লড়াই হবে।
আর্মি স্কোয়াশ কমপ্লেক্স ও আর্মি অফিসাস্ মেসে রাউন্ড রবিনলীগ ভিত্তিতে এই পর্বের খেলাগুলো আয়োজন করা হয়েছে। চূড়ান্ত পর্বের গ্রুপগুলো হল—উন্মুক্ত (পুরুষ), উন্মুক্ত (মহিলা), ডিপ্লোমেট অথবা সৌখিন অথবা মেম্বার অথবা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী (উন্মুক্ত) এবং ছেলে ও মেয়াদের অনুর্ধ ১১ বছর, অনুর্ধ ১৩ বছর এবং অনুর্ধ ১৫ বছর।
আজ (১০ জুন) উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ফেডারেশনের সভাপতি মেজর জেনারেল মু: হাসান উজ জামানে, এনডিইউ, এএফডব্লউসি, পিএসসি, এমফিল প্রধান অতিথি এবং উর্মিগ্রুপের মহাপরিচালক জনাব আসিফ আসরাফ বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন।
ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জি এম কামরুল ইসলাম, এসপিপি (অব) ও উন্নয়ন কমিটির প্রধান মেজর শফিউল্লাহ মাস্তান এবং উর্মি গ্রুপের পক্ষে গ্রুপ পরিচালক ও বিশিষ্ট স্কোয়াশ খেলোয়াড় জনাব ফায়াজ রহমান, ম্যানেজিং ডাইরেক্টরের এ্যাডভাইজার এয়ার ভাইস মার্শাল বদরুল আমিন (অব:), সিএফও জনা ময়নুল হাসানসহ উর্মি গ্রুপ ও ফেডারেশনের উর্ধতন কর্মকর্তা, প্রাক্তন ও বর্তমান খেলোয়াড় এবং অভিভাবকসহ প্রচুর দর্শক ও সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথিসহ সন্মানিত অতিথিবৃন্দ টুনামেন্টের জার্সি উন্মোচন এবং বেলুন উড়ায়ে প্রতিযোগিতার মূলপর্ব উদ্বোধন এবং খেলা উপভোগ করেন। ১৩ জুন বিকাল ০৩ টায় আর্মি স্কোয়াশ কমপ্লেক্সে ফাইনাল খেলা ও পুরস্কার বিতরণীর মাধ্যমে প্রতিয়োগিতার সমাপ্তি টানা হবে।
চূড়ান্ত পর্বে অংশগ্রহণকারী ক্লাব বা প্রতিষ্ঠান হল— ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি, ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, আই ইউ বি, মিরপুর আইডিয়াল কমার্স কলেজ, বিএএফ শাহীন কলেজ, ভাষানটেক সরকারি কলেজ, মিরপুর বাংলা কলেজ, শহীদ আনোয়ার কলেজ, ভাষানটেক স্কুল, কালশী ইসলামিয়া হাই স্কুল, গোল্ডেন বাংলা আইডিয়াল স্কুল, ফাতেমা আজিজ স্কুল, জামুরীপাড়া স্কুল, ঠাকুরগাঁও, মিরপুর ক্যান্টপাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ, নির্ঝর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল, কালাচাঁদপুর স্কুল এন্ড কলেজ, উত্তরা ক্লাব, গুলশান ক্লাব, চট্টগ্রাম ক্লাব, হবিগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়, উত্তরা পুলিশ কলেজ, ঢাকা স্কোয়াশ একাডেমি, খাগড়াছড়ি ক্যান্টনমেন্ট স্কুল, বান্দরবান অফিসার্স ক্লাব, সেনাবাহিনী অফিসার্স ক্লাব, উত্তরা ক্লাব, গুলশান ক্লাব, কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ, ইত্যাদি।

উন্মুক্ত পুরুষ গ্রুপে উত্তরা ক্লাবের সুমন ও আরিফ; গুলশান ক্লাবের আবেদ মনসুর ও সৈকত; চট্টগ্রাম ক্লাবের ফজলে ওয়ালী; বিকেএসপির দুর্জয়, পারভেজ ও আমিনুল এবং আর্মির রনি, শাহাদাৎ, মাসুম, আপন, রাকিব, আজিজ, নায়েব, সাজ্জাত ও শরিফ প্রমুখ; উন্মুত মেয়েদের গ্রুপে আই ইউ বি-র উর্ধু ও জ্যোতি; শহীদ আনোয়ার কলেজের রাফিয়া; নির্ঝর স্কুলের নাবিলা; উত্তরা পুলিশ কলেজের চাঁদনী সরকার এবং ভাষানটেক স্কুলের ফাহমিদা ও মেঘনা; গোল্ডেন বেঙ্গল স্কুলের মীম, প্রমুখ এবং উন্মুক্ত মেম্বার গ্রুপে ওয়ালিদ হাসান, জাকির মো: হোসাইন, মো: আবু কায়সার, আশিকুর রহমান, মো: রায়হান, ব্রি, জে, আজিজ, মো: আহসান, লে: কর্নেল সামস, মোহামেন হক আলিফ, ব্রি, জে, আসাদ, সাদমান উদ্দিন খান ও মো: মবিন আগামী চার দিন নিজ নিজ গ্রুপে শ্রেষ্টত্বের জন্যে লড়াই করবে।
উল্লেখ্য দেশের স্কোয়াশ খেলোয়াড় সরবরাহের মূল এলাকা কালশী, ভাষানটেক ও রজনীগন্ধার খেলোয়াড়দের অধিকাংশই সুবিধাবঞ্চিত নাজুক আর্থ-সামসজিক পরিবারের সন্তান। তারপরেও স্কুল-কলেজে পড়ুয়া সন্তানদের উল্লেখযোগ্য হারে স্কোয়াশ খেলায় অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে স্কোয়াশ একটি সম্ভাবনাময় খেলা যা বাংলাদেশে গণমানুষের খেলা হতে পারে।
প্রধান অতিথি নিয়মিত জাতীয় প্রতিযোগীতা স্পন্সর করার জন্যে উর্মি গ্রুপকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, গত পাঁচ বছর আমাদের দেশে স্কোয়াশ যে ভাবে এগিয়ে যাচ্ছে তাতে সামনে যে সুদিন আসবেই।
ফেডারেশনের সাধারন সম্পাদক বলেন, স্কোয়াশকে দেশ ব্যাপি ছড়িয়ে দেওয়া এবং নতুন খেলোয়াড় তৈরি করে খেলার মান উন্নয়ন, প্রচার ও প্রসার ঘটিয়ে বাংলাদেশের স্কোয়াশকে পর্যায়ক্রমে আন্তর্জাতিক মানে নেওয়ার লক্ষে এই প্রতিযোগীতার আয়োজন।
স্পন্সর গ্রুপের প্রতিনিধি ফায়েজ রহমান বলেন, দেশের মৃত্যু প্রায় স্কোয়াশ খেলার সাথে সম্পৃক্ত হতে পেরে উর্মি গ্রুপ নিজেদের সৌভাগ্যবান মনে করে। তিনি আরও বলেন, খেলাটির প্রচার ও প্রসারের সাথে আগামী দিনগুলোতেও উর্মিগ্রুপ ফেডারেশনের সাথে সম্পৃক্ত থাকবে।
রেকর্ড সংখ্যক খেলোয়াড়ের অংশগ্রহণ এবং সম্প্রতি এশিয়ান জুনিয়র চ্যাম্পিয়নশিপ এবং নেপালে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক প্রতিযোগীতা থেকে পুরস্কার অর্জন প্রমাণ করে যে বাংলাদেশে স্কোয়াশ খেলার যথেষ্ট অগ্রগতি হয়েছে। ফেডারেশনকে এই ধারা অব্যহত রাখতে এবং আরো বিস্তৃত ও বেগবান করতে হবে। আমরা আশা করতে পারি যে এই প্রতিযোগীতায় অংশগ্রহনকারী বয়সভিত্তিক স্কোয়াশ খেলোয়াড়রাই আগামীদিনে জাতীয় দলে খেলে বাংলাদেশের সন্মান বৃদ্ধি করবে ইন-শা-আল্লাহ।
