Skip to content

১০ গোলের রোমাঞ্চে ফ্রান্সকে হারিয়ে তৃতীয় ইংল্যান্ড

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে রোমাঞ্চের সব সীমা ছাড়িয়ে গেছে ইংল্যান্ড ও ফ্রান্সের লড়াই। ১০ গোলের এই অবিশ্বাস্য ম্যাচে ফ্রান্সকে ৬-৪ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপে তৃতীয় স্থান নিশ্চিত করেছে থ্রি লায়ন্সরা।

রোববার (১৯ জুলাই) মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে প্রথমার্ধেই ৪-০ গোলে এগিয়ে যায় টমাস টুখেলের দল। তবে বিরতির পর দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের চেষ্টা করে ফ্রান্স। শেষ পর্যন্ত বুকায়ো সাকার হ্যাটট্রিক এবং যোগ করা সময়ে জুড বেলিংহ্যামের গোল ইংল্যান্ডের জয় নিশ্চিত করে।

ম্যাচের মাত্র তৃতীয় মিনিটে ডেকলান রাইস গোল করে ইংল্যান্ডকে এগিয়ে দেন। ১৯ মিনিটে এজরি কনসা ব্যবধান বাড়িয়ে ২-০ করেন। এরপর ৩৭ ও ৪৫+১ মিনিটে পরপর দুটি গোল করে প্রথমার্ধেই নিজের জোড়া গোল পূর্ণ করেন বুকায়ো সাকা। ফলে বিরতিতে ৪-০ গোলের স্বস্তিদায়ক লিড নিয়ে মাঠ ছাড়ে ইংল্যান্ড।

দ্বিতীয়ার্ধে ভিন্ন রূপে মাঠে নামে ফ্রান্স। ৪৮ মিনিটে কিলিয়ান এমবাপ্পে প্রথম গোল করে ব্যবধান কমান। ছয় মিনিট পর, ৫৪ মিনিটে ব্র্যাডলি বারকোলা গোল করে স্কোরলাইন ৪-২ করেন। এরপর ৬৭ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করে ম্যাচে ফেরার আশা আরও উজ্জ্বল করেন এমবাপ্পে।

তবে ৮৫ মিনিটে জেড স্পেন্সকে ফাউল করায় পেনাল্টি পায় ইংল্যান্ড। স্পটকিক থেকে গোল করে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন সাকা এবং দলের পঞ্চম গোলটি করেন। যোগ করা সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে উসমান দেম্বেলে ফ্রান্সের হয়ে আরেকটি গোল শোধ দিলেও, দুই মিনিট পর বদলি হিসেবে নামা জুড বেলিংহ্যাম দুর্দান্ত একক নৈপুণ্যে গোল করে ৬-৪ ব্যবধানে ইংল্যান্ডের জয় নিশ্চিত করেন।

এই ম্যাচে জোড়া গোল করে বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যা ১০-এ উন্নীত করেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। এর মাধ্যমে তিনি ৮ গোল করা লিওনেল মেসিকে পেছনে ফেলে আবারও গোল্ডেন বুটের দৌড়ে এগিয়ে যান। একই সঙ্গে বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারে মোট ২২ গোল করে টুর্নামেন্টটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনও দখল করেন তিনি। ২১ গোল নিয়ে তার পরেই রয়েছেন মেসি। অন্যদিকে মাইকেল অলিসে দুটি অ্যাসিস্ট করে বিশ্বকাপে নিজের মোট অ্যাসিস্ট সংখ্যা বাড়িয়ে ৬-এ নিয়ে যান।

প্রথমার্ধে হতাশাজনক ফুটবল খেললেও দ্বিতীয়ার্ধে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় ফ্রান্স। তবে সেই লড়াই শেষ পর্যন্ত পরাজয় এড়ানোর জন্য যথেষ্ট ছিল না। অন্যদিকে সমালোচনার মুখে থাকা টমাস টুখেল একাধিক পরিবর্তনের মাধ্যমে তরুণ ফুটবলারদের সুযোগ দিয়ে ইতিবাচক ফল পান। ১০ গোলের এই রুদ্ধশ্বাস লড়াই শেষ পর্যন্ত ২০২৬ বিশ্বকাপের অন্যতম স্মরণীয় ম্যাচ হিসেবে জায়গা করে নিল।

এনএনবাংলা/