ভাঙা মন নিয়ে মুখোমুখি ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড
বিশ্বকাপে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ আয়োজনের যৌক্তিকতা নিয়ে বহুদিন ধরেই বিতর্ক রয়েছে। সেমিফাইনালে হেরে শিরোপার স্বপ্ন শেষ হয়ে যাওয়ার পর বেশির ভাগ খেলোয়াড়েরই আবার মাঠে নামার মানসিকতা থাকে না। সেই বাস্তবতাই অকপটে তুলে ধরেছেন ইংল্যান্ডের কোচ থমাস টুখেল। সেমিফাইনালে হারের পর তিনি বলেন, ‘আমাদের কোনো খেলোয়াড়ই ম্যাচটা খেলতে চায় না। ফ্রান্সের খেলোয়াড়রাও না। সবাই চায় ফাইনাল খেলতে।’
তবুও নিয়ম অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হচ্ছে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ। বাংলাদেশ সময় আজ শনিবার দিবাগত রাত ৩টায় মায়ামিতে মুখোমুখি হবে সেমিফাইনালে হেরে যাওয়া দুই দল—ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড।
সাধারণত এই ম্যাচ ঘিরে দর্শকদের আগ্রহও খুব একটা দেখা যায় না। অনেক সময় গ্যালারিতে থাকে অসংখ্য ফাঁকা আসন, টেলিভিশনের দর্শকসংখ্যাও থাকে তুলনামূলক কম। তবে এবারের ম্যাচটি অন্তত কয়েকজন ফুটবলারের কাছে বেশ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে করা গোলও বিশ্বকাপের মোট গোলের হিসাবের সঙ্গে যুক্ত হয় এবং সেটিই গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
বর্তমানে ৮টি করে গোল নিয়ে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে যৌথভাবে এগিয়ে আছেন আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি ও ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে। তবে একটি অতিরিক্ত অ্যাসিস্ট থাকায় শীর্ষস্থানে রয়েছেন মেসি। ৭ গোল নিয়ে তৃতীয় স্থানে আছেন নরওয়ের আর্লিং হালান্ড। তবে তাঁর দল আগেই বিদায় নেওয়ায় গোলসংখ্যা বাড়ানোর আর সুযোগ নেই।
অন্যদিকে, ইংল্যান্ডের হ্যারি কেইন ও জুড বেলিংহাম করেছেন ৬টি করে গোল। ফলে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে তারাও এখনো টিকে আছেন। ফ্রান্সের উসমান দেম্বেলে এবং স্পেনের মিকেল ওয়াইরসাবাল করেছেন ৫টি করে গোল। তাই ফ্রান্স-ইংল্যান্ডের এই ম্যাচ শুধু তৃতীয় স্থান নির্ধারণই নয়, গোল্ডেন বুটের ভাগ্যও প্রভাবিত করতে পারে।
বিশ্বকাপের ইতিহাসেও তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ গোল্ডেন বুট নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এ পর্যন্ত সাতজন গোল্ডেন বুটজয়ী এই ম্যাচে গোল করেছেন। তাদের মধ্যে জার্মানির টমাস মুলার (২০১০), ক্রোয়েশিয়ার ডেভর সুকের (১৯৯৮), ইতালির সালভাতোর শিলাচি (১৯৯০) এবং ব্রাজিলের লিওনিদাস (১৯৩৮) তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে গোল করেই শেষ পর্যন্ত গোল্ডেন বুট নিশ্চিত করেছিলেন।
দুই দলের অতীত পরিসংখ্যানেও এগিয়ে রয়েছে ফ্রান্স। এখন পর্যন্ত পাঁচবারের মুখোমুখি লড়াইয়ে তিনটিতে জয় পেয়েছে ফরাসিরা। ইংল্যান্ড জিতেছে একবার, আর বাকি একটি ম্যাচ ড্র হয়েছে।
এনএনবাংলা/
