‘তারা আমার সন্তান ফারহান ফাইয়াজকে মেরে ফেলেছে’
২০২৪ সালের ১৮ জুলাই, জুলাই গণঅভ্যুত্থান যখন ধীরে ধীরে বিস্তৃত হতে শুরু করে, তখন রাজধানীর ধানমন্ডিতে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা গুলি চালায়। পুলিশ ও তাদের গুলিতে নিহত হন ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের শিক্ষার্থী ফারহান ফাইয়াজ।
ফারহানের মৃত্যু আন্দোলনে নতুন মাত্রা যোগ করে। মাত্র ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই এক তরুণ শিক্ষার্থীর এমন মর্মান্তিক মৃত্যু সেদিন দেশজুড়ে তীব্র শোক ও ক্ষোভের জন্ম দেয়। তার মৃত্যুর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমজুড়ে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে।
সেদিন বিকেলে সেন্ট জোসেফ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের শিক্ষক নাজিয়া খান ফেসবুকে একটি আবেগঘন স্ট্যাটাস দেন, যা মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায় এবং আন্দোলনকারীদের আবেগ ও প্রতিবাদকে আরও বেগবান করে।
স্ট্যাটাসে তিনি লিখেছিলেন, ‘তারা আমার সন্তান ফারহান ফাইয়াজকে মেরে ফেলেছে। তার এখনো ১৮ বছর পূর্ণ হয়নি। আমি এই হত্যার বিচার চাই। সে ২০০৬ সালের ১২ সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করেছে। আমি চাই আপনারা সবাই আওয়াজ তুলুন। সংশ্লিষ্টদের জন্য জানাচ্ছি, ফারহান আমার বায়োলজিক্যাল ছেলে না। কিন্তু সে আমার কাছে আমার নিজের সন্তানের চেয়ে কম নয়।’
একই দিনে টেন মিনিট স্কুলের প্রধান প্রশিক্ষক ও ইংরেজি শিক্ষক মুনজেরিন শহীদও ফেসবুকে শোক প্রকাশ করে লিখেছিলেন, ‘আমার ছাত্র ফারহান আর নেই। আমি বিষয়টি বিশ্বাসই করতে পারছি না। কিছুদিন আগে তার সঙ্গে আমি গ্রামার-বিষয়ক একটি ভিডিও তৈরি করেছিলাম।’
১৮ জুলাই বিকেলে ধানমন্ডিতে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশ ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ চলাকালে গুরুতর আহত হন ফারহান ফাইয়াজ। পরে তাকে দ্রুত সিটি হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এনএনবাংলা/
