সাম্প্রতিক
তিতাসের ‘সিস্টেম লস’ বছরে ১০ কার্গো এলএনজির সমপরিমাণ গ্যাস হাম ও উপসর্গে আরও ৩ মৃত্যু, প্রাণহানি ছাড়াল ১ হাজার জুলাই জাদুঘরে অশ্রুসজল রাষ্ট্রপতি, বললেন ‘মূল্য দিয়েছি অনেক বেশি’ সালমান শাহর মৃত্যু: ডনের বিরুদ্ধে ‘গুরুত্বপূর্ণ তথ্য’ গোপনের অভিযোগ ইতালীয় গণমাধ্যমে বাঁধনের ওপর হামলার খবর, তদন্তে বিশেষ পুলিশ ‘দিগোস’ মেট্রোরেলের ২৭ বিয়ারিং প্যাড ‘ক্রিটিক্যাল’, ৪৬ পিলারে ফাটল: সংসদে মন্ত্রী আশির দশকে ফিরছে সোশ্যাল মিডিয়া, এআই ছবির ট্রেন্ডে নেটিজেনরা বিএনপি ক্ষমতায় আর বিদ্যুৎ-গ্যাসের সংকট হবে না, দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হবে না— সেটা হতে পারে না: রুমিন ফারহানা ডিসেম্বরে হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে যা বললেন হর্ষবর্ধন শ্রিংলা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তৈরি শ্বেতপত্রের আলোকেই পদক্ষেপ গ্রহণ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী
Skip to content

গবেষণা

টাইপ-২ ডায়াবেটিস রোগীদের ওজন কমাতে কার্যকর যে নতুন ওষুধ

ছবি: সংগৃহীত

ডায়াবেটিস ও স্থূলতা চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারে ডেনমার্কভিত্তিক ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান নভো নরডিস্কের পরীক্ষাধীন ওষুধ ‘জেনাগামটাইড’। সাম্প্রতিক এক ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে দেখা গেছে, টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে ওষুধটি শরীরের ওজন গড়ে ১৪.৬ শতাংশ পর্যন্ত কমাতে সক্ষম হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের লুইসিয়ানা অঙ্গরাজ্যের নিউ অরলিন্সে অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের আমেরিকান ডায়াবেটিস অ্যাসোসিয়েশনের (এডিএ) বৈজ্ঞানিক সম্মেলনে প্রকাশিত ফেজ-২ ট্রায়ালের ফলাফলে এ তথ্য উঠে এসেছে। এ নিয়ে সম্প্রতি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।

গবেষকদের মতে, জেনাগামটাইড এমন একটি ওষুধ যা একই সঙ্গে দুটি ভিন্ন জৈবিক প্রক্রিয়াকে সক্রিয় করে। এটি একদিকে জিএলপি-১ রিসেপ্টর অ্যাগোনিস্ট হিসেবে কাজ করে, অন্যদিকে অ্যামাইলিন রিসেপ্টর অ্যাগোনিস্ট হিসেবেও কার্যকর। ফলে রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি ক্ষুধা কমানো এবং ওজন হ্রাসে দ্বৈত সুবিধা পাওয়া যায়।

রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে উল্লেখযোগ্য সাফল্য

৩৬ সপ্তাহব্যাপী এই গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের গড় এইচবিএ১সি ছিল ৭.৮ শতাংশ। পরীক্ষায় দেখা যায়, সর্বোচ্চ ৪০ মিলিগ্রাম ডোজ গ্রহণকারীদের এইচবিএ১সি মাত্রা সর্বোচ্চ ১.৭১ শতাংশ কমেছে। বিপরীতে প্লাসেবো গ্রুপে এই হার ছিল মাত্র ০.১৪ শতাংশ।

এছাড়া গবেষণায় অংশ নেওয়া রোগীদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৯১.৪ শতাংশ নির্ধারিত গ্লাইসেমিক নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন।

ওজন কমেছে ১৪.৬ শতাংশ

গবেষণার মূল লক্ষ্য ছিল রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণের প্রভাব মূল্যায়ন করা। তবে এর পাশাপাশি ওজন কমানোর ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য ফলাফল পাওয়া গেছে।

অংশগ্রহণকারীদের গড় প্রাথমিক ওজন ছিল প্রায় ৯৯ কেজি। গবেষণায় দেখা যায়, ৪০ মিলিগ্রাম ডোজ গ্রহণকারীদের ওজন গড়ে ১৪.৬ শতাংশ কমেছে। অন্যদিকে প্লাসেবো গ্রুপে ওজন কমেছে মাত্র ২.১ শতাংশ।

গবেষকরা জানান, ৩৬ সপ্তাহ শেষে ওজন কমার গতি থেমে যায়নি। অর্থাৎ দীর্ঘমেয়াদে ওষুধটি ব্যবহার করলে আরও ওজন কমার সম্ভাবনা রয়েছে।

কীভাবে কাজ করে জেনাগামটাইড?

আগে ‘অ্যামিক্রেটিন’ নামে পরিচিত জেনাগামটাইড বর্তমানে উন্নয়নাধীন একটি দ্বৈত-কার্যক্ষম বিপাকীয় ওষুধ। প্রচলিত ওজন কমানোর ওষুধ যেমন সেমাগ্লুটাইড (ওজেম্পিক বা ওয়েগোভি) সাধারণত একটি হরমোন রিসেপ্টরকে লক্ষ্য করে কাজ করে। তবে জেনাগামটাইড একই সঙ্গে দুটি ভিন্ন বিপাকীয় পথকে সক্রিয় করে।

জিএলপি-১ রিসেপ্টর সক্রিয় হয়ে ইনসুলিন নিঃসরণ বাড়ায়, রক্তে শর্করা কমায় এবং ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। অন্যদিকে অ্যামাইলিন রিসেপ্টর সক্রিয় হয়ে দীর্ঘ সময় পেট ভরা অনুভূতি বজায় রাখে এবং খাদ্য গ্রহণের প্রবণতা কমিয়ে দেয়।

ফলে ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ ও গ্লুকোজ ব্যবস্থাপনায় আরও শক্তিশালী প্রভাব তৈরি হয় বলে মনে করছেন গবেষকরা।

নভো নরডিস্কের গবেষণা ও উন্নয়ন বিভাগের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মার্টিন হোলস্ট ল্যাঙ্গে বলেন, গবেষণার ফলাফল ইঙ্গিত দিচ্ছে যে জেনাগামটাইড টাইপ-২ ডায়াবেটিস রোগীদের রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে এটি স্থূলতা ব্যবস্থাপনাতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম।

ফেজ-২ ট্রায়ালে ইতিবাচক ফল পাওয়ার পর ওষুধটির কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা আরও বিস্তৃতভাবে মূল্যায়নের জন্য ‘অ্যামেইজ’ নামে ফেজ-৩ কর্মসূচি ইতোমধ্যে শুরু করেছে নভো নরডিস্ক।

এনএনবাংলা/