মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতির একের পর এক সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের জন্য চাপ সৃষ্টি করছে। সম্প্রতি নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানের যুক্তরাষ্ট্র সফরের পর সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, বৈঠকটি ছিল অত্যন্ত ফলপ্রসূ। তবে সেই আশার প্রতিফলন ভিসা নীতি প্রয়োগে দেখা যাচ্ছে না।
সর্বশেষ ৭৫টি দেশের অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়া স্থগিত করা হয়েছে, যেখানে বাংলাদেশও রয়েছে। এর আগে বি-১ ও বি-২ ভিসার ক্ষেত্রে ৩৮টি দেশের জন্য ৫ থেকে ১৫ হাজার ডলারের ‘ভিসা বন্ড’ চালু করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। এই তালিকাতেও বাংলাদেশ অন্তর্ভুক্ত। ফলে বাংলাদেশের জন্য মার্কিন ভিসা নীতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
সাবেক রাষ্ট্রদূত মুন্সী ফয়েজ আহমেদ ডয়চে ভেলেকে বলেন, “এই সরকার ক্ষমতা নেয়ার সময় আমরা শুনেছিলাম, তারা যুক্তরাষ্ট্রের বন্ধু, তাই দেশটি থেকে সুবিধা পাবো। কিন্তু বাস্তবে উল্টো ফল দেখছি। নিরাপত্তা উপদেষ্টা সফর করেছেন, বলেছে বৈঠক ভালো হয়েছে, কোনো সমস্যা হবে না। কিন্তু নতুন খারাপ খবর এলো। মনে হচ্ছে, রাষ্ট্রের টাকায় কিছু মানুষ অযথা বিদেশ ভ্রমণ করছেন, ফলে কার্যকর কোনো ফলাফল হচ্ছে না। আমার মতে, এখন সরকারের পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজন নেই। নির্বাচন শেষ হলে নির্বাচিত সরকার উদ্যোগ নেবে।”
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অভিবাসী ভিসা সিদ্ধান্ত
যুক্তরাষ্ট্র আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, ভুটানসহ ৭৫টি দেশের অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়া স্থগিত করতে যাচ্ছে। এই তালিকায় রাশিয়া, ইরান, থাইল্যান্ড, ব্রাজিল, কুয়েত, সোমালিয়া, নাইজেরিয়া, ইয়েমেন এবং ইরাকও রয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক্সে জানিয়েছে, যেসব দেশের অভিবাসীরা সরকারি কল্যাণভাতা বা সহায়তার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল, তাদের জন্য এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পররাষ্ট্র দপ্তর এই প্রক্রিয়া পুনর্মূল্যায়ন না করা পর্যন্ত ৭৫টি দেশের অভিবাসী ভিসা স্থগিত থাকবে।
এনআরবি ওয়ার্ল্ডের প্রতিষ্ঠাতা এনামুল হক এনাম বলেন, “এতে যুক্তরাষ্ট্রও সংকটে পড়বে। জনবল সংকট আরও বাড়বে। তবে আমি মনে করি, এই সিদ্ধান্ত স্থায়ী হবে না।”
ভিসা বন্ডের শর্তে বাংলাদেশসহ ৩৮ দেশের নাগরিক
যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের জন্য ৫ থেকে ১৫ হাজার ডলারের ‘ভিসা বন্ড’ দিতে হবে ৩৮টি দেশের নাগরিকদের। ২০২৫ সালের আগস্টে এই তালিকায় প্রথম ছয়টি দেশ যুক্ত হয়েছিল, পরে আরও ৩২টি দেশকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বাংলাদেশিসহ নতুন তালিকাভুক্ত দেশের জন্য এই শর্ত ২১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, সশরীরে সাক্ষাৎকারে অংশ নেওয়া, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের হিস্ট্রি জমা দেওয়া এবং পরিবারের আগের ভ্রমণ ও বসবাসের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক। বন্ড জমা দিলেও ভিসা পাওয়া নিশ্চিত নয়। আবেদন প্রত্যাখ্যাত হলে অর্থ ফেরত দেওয়া হবে।
সিনহুয়া এনুমিলিয়াম ইন্ডাষ্ট্রি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে এম আফজাল উল মনির বলেন, “জামানত দেওয়া ভ্রমণকারীর জন্য অসম্মানজনক। বাংলাদেশের জন্য লজ্জার বিষয়।” বিজিএমইএ-এর সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, “এতে ব্যবসায়িক যোগাযোগে বাধা সৃষ্টি হবে। সরকারের উচিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নিবিড় আলোচনা করে সমাধান খোঁজা।”
নিরাপত্তা উপদেষ্টার যুক্তরাষ্ট্র সফর
জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান সম্প্রতি ওয়াশিংটনে সফর করেন। তিনি মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ারের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণ সহজ করার অনুরোধ জানান। বৈঠকের এক সপ্তাহের মধ্যে অভিবাসী ভিসা স্থগিতের খবর আসে।
সাবেক রাষ্ট্রদূত এম. হুমায়ুন কবির বলেন, “এই সিদ্ধান্ত ভালো নয়, তবে স্থায়ী নয়। আশা করা যায় শিগগিরই এটি উঠে যাবে।” অন্যদিকে, অ্যামেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশের সভাপতি সৈয়দ এরশাদ আহমেদ মনে করেন, “বৈধ ব্যবসায়ীদের জন্য এটি সুবিধাজনক হতে পারে। এতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ট্রেড আরও বৃদ্ধি পাবে।”
এনএনবাংলা/পিএইচ


আরও পড়ুন
২০০৯ সালের পর জন্মগ্রহণকারীদের ধূমপান নিষিদ্ধ, আইন করছে যুক্তরাজ্য
তিন বছরে ৪০০ পোশাক কারখানা বন্ধ, আরও বহু ঝুঁকিতে: বিজিএমইএ
মাথাপিছু আয়ে ভারতকে ছাড়িয়ে যেতে পারে বাংলাদেশ: আইএমএফ