সাম্প্রতিক
তিতাসের ‘সিস্টেম লস’ বছরে ১০ কার্গো এলএনজির সমপরিমাণ গ্যাস হাম ও উপসর্গে আরও ৩ মৃত্যু, প্রাণহানি ছাড়াল ১ হাজার জুলাই জাদুঘরে অশ্রুসজল রাষ্ট্রপতি, বললেন ‘মূল্য দিয়েছি অনেক বেশি’ সালমান শাহর মৃত্যু: ডনের বিরুদ্ধে ‘গুরুত্বপূর্ণ তথ্য’ গোপনের অভিযোগ ইতালীয় গণমাধ্যমে বাঁধনের ওপর হামলার খবর, তদন্তে বিশেষ পুলিশ ‘দিগোস’ মেট্রোরেলের ২৭ বিয়ারিং প্যাড ‘ক্রিটিক্যাল’, ৪৬ পিলারে ফাটল: সংসদে মন্ত্রী আশির দশকে ফিরছে সোশ্যাল মিডিয়া, এআই ছবির ট্রেন্ডে নেটিজেনরা বিএনপি ক্ষমতায় আর বিদ্যুৎ-গ্যাসের সংকট হবে না, দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হবে না— সেটা হতে পারে না: রুমিন ফারহানা ডিসেম্বরে হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে যা বললেন হর্ষবর্ধন শ্রিংলা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তৈরি শ্বেতপত্রের আলোকেই পদক্ষেপ গ্রহণ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী
Skip to content

ব্যালট পেপার ও কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে শঙ্কা: ইসি ভবন ঘেরাও ছাত্রদলের

 

ব্যালট পেপার সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে পক্ষপাতিত্ব এবং নির্বাচন কমিশনে একটি বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠীর অনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ভবন ঘেরাও করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। রোববার (১৮ জানুয়ারি) পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকাল থেকেই সংগঠনটির নেতাকর্মীরা ইসি ভবনের সামনে জড়ো হন।

ছাত্রদলের অভিযোগ, নির্বাচন সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত জোরপূর্বক পরিবর্তন করা হচ্ছে এবং একটি বিশেষ ‘সেটআপ’ তৈরি করে নির্দিষ্ট একটি ছাত্র সংগঠনকে সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনেও বড় ধরনের কারচুপির নীলনকশা বাস্তবায়নের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেন সংগঠনটির সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব।

কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান নির্বাচন কমিশন একটি বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠীর প্রভাবাধীন হয়ে কাজ করছে। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক নির্বাচনগুলোতে একটি নির্দিষ্ট ছাত্র সংগঠনকে সুবিধা দিতে বারবার তারিখ পরিবর্তন ও নির্বাচন স্থগিতের ঘটনা ঘটানো হয়েছে।

রাকিবুল ইসলাম রাকিব আরও অভিযোগ করেন, একটি বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠীর নেতাকর্মীরা নিয়মিত নির্বাচন কমিশনারদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করছেন। তাদের কোনো দাপ্তরিক কাজ না থাকলেও সচিবালয় ও কমিশনে অবাধ বিচরণ করে সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিজেদের নিয়ন্ত্রিত ‘সেটআপ’ ছাড়া তারা নির্বাচন করতে ভয় পায়। জামাতপন্থি উপাচার্য, প্রক্টর এবং নিজস্ব ওএমআর মেশিন ছাড়া কোথাও নির্বাচন আয়োজন করা হয় না। শাবিপ্রবিতে টানা পাঁচ দিন নির্বাচন বন্ধ রেখে পুনরায় চালু করাকে তিনি এর উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন।

ছাত্রদল সভাপতি দাবি করেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন হল সংসদ নির্বাচনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সমর্থনে তাদের সংগঠন ভালো ফল করছে। এই অগ্রযাত্রা ঠেকাতেই কমিশনকে ব্যবহার করে জাতীয় নির্বাচনেও প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চলছে বলে তারা সন্দেহ প্রকাশ করেন।

আজকের ঘেরাও কর্মসূচির মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনকে সতর্ক করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতেই তারা এই কর্মসূচি পালন করছেন। জোরপূর্বক সিদ্ধান্ত এবং বিশেষ গোষ্ঠীর প্রভাব বন্ধ না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

কর্মসূচিতে নির্বাচন কমিশনের সামনে তিনটি দাবি তুলে ধরে ছাত্রদল—

এক. পোস্টাল ব্যালট সংক্রান্ত কমিশনের পক্ষপাতদুষ্ট ও প্রশ্নবিদ্ধ সিদ্ধান্ত, যা নির্বাচন প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে গুরুতর সংশয় সৃষ্টি করেছে।

দুই. বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠীর চাপে দায়িত্বশীল ও যৌক্তিক সিদ্ধান্তের পরিবর্তে হঠকারী ও অদূরদর্শী সিদ্ধান্ত গ্রহণ, যা কমিশনের স্বাধীনতা ও পেশাদারিত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

তিন. বিশেষ রাজনৈতিক দলের প্রত্যক্ষ প্রভাব ও হস্তক্ষেপে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন বিষয়ে নজিরবিহীন ও বিতর্কিত প্রজ্ঞাপন জারি, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য অশনিসংকেত।

এনএনবাংলা/পিএইচ