Skip to content

বাংলাদেশের টেকসই স্থাপত্যচর্চা নিয়ে গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করল ব্রিটিশ কাউন্সিল ও বেঙ্গল ইনস্টিটিউট

বাংলাদেশের টেকসই ও জলবায়ু-সহনশীল স্থাপত্যচর্চা নিয়ে ‘সাসটেইনেবল আর্কিটেকচার প্র্যাকটিস’ শীর্ষক একটি গবেষণা ও বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ কাউন্সিল এবং বেঙ্গল ইনস্টিটিউট ফর আর্কিটেকচার, ল্যান্ডস্কেপস অ্যান্ড সেটেলমেন্টস। গত বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাজধানীর ধানমন্ডিতে বেঙ্গল শিল্পালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রকাশনাটি আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচন করা হয়।

অনুষ্ঠানে স্থপতি, নগর পরিকল্পনাবিদ, নির্মাণখাত-সংশ্লিষ্ট পেশাজীবী, গবেষক, নীতিনির্ধারক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার আগ্রহী মানুষ অংশ নেন। ব্রিটিশ কাউন্সিলের অর্থায়নে পরিচালিত এই গবেষণা উদ্যোগের নেতৃত্ব দিয়েছে বেঙ্গল ইনস্টিটিউট।

প্রতিবেদনটিতে বাংলাদেশের সরকারি, বেসরকারি ও তৃণমূল পর্যায়ে গড়ে ওঠা টেকসই ও জলবায়ু-সংবেদনশীল স্থাপত্যচর্চার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি এ খাতের বিকাশ, স্বীকৃতি এবং নীতিগত সহায়তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন সুপারিশও উপস্থাপন করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন বেঙ্গল ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. কাজী খালিদ আশরাফ। এ সময় প্রকল্পের অংশ হিসেবে নির্মিত একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। গবেষণার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন ড. আতিকুর রহমান, রিপিন কালরা এবং স্থপতি খন্দকার হাসিবুল কবির।

বক্তব্যে কাজী খালিদ আশরাফ বলেন, “টেকসই উন্নয়ন এখন চিন্তা ও চর্চার ক্ষেত্রে নতুন এক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করেছে—বিশেষ করে মানুষ কীভাবে পৃথিবীতে বসবাস করছে এবং পরিবেশের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলছে, তা নিয়ে। আজ আমরা যাকে টেকসই স্থাপত্য বলছি, তার বহু উপাদান শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের জীবনযাপন ও নির্মাণপ্রক্রিয়ার মধ্যেই বিদ্যমান ছিল।”

প্রতিবেদন প্রকাশের আগে ব্রিটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশের ডেপুটি ডিরেক্টর মারিয়া রেহমান বলেন, “বাংলাদেশে টেকসই স্থাপত্যের বৈচিত্র্যময় ও উদ্ভাবনী চর্চাগুলোকে সামনে আনার এই গবেষণা উদ্যোগে যুক্ত থাকতে পেরে আমরা গর্বিত। জলবায়ু চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ডিজাইনভিত্তিক সমাধানে বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের যৌথ কাজের অভিজ্ঞতা এই প্রকাশনায় প্রতিফলিত হয়েছে। স্থানীয় জ্ঞান ও অভিজ্ঞতাকে সামনে আনার পাশাপাশি এটি জলবায়ু-সহনশীলতা ও সৃজনশীল অর্থনীতি নিয়ে বৈশ্বিক আলোচনাতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।”

তিনি আরও বলেন, স্থানীয় বাস্তবতা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা সমাধানগুলো ভবিষ্যতের নীতিনির্ধারণে সহায়ক হবে এবং নির্মাণ ও স্থাপত্যখাতে নতুন উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করবে।

গবেষণাটিতে ২০১৫ সাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত বাংলাদেশের টেকসই স্থাপত্যচর্চা বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এতে একটি স্কোপিং রিপোর্ট, উদ্ভাবনী ও টেকসই নকশার কেস স্টাডি এবং স্থাপত্যে টেকসই উন্নয়ন ও সহনশীলতা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের সুপারিশভিত্তিক নীতিপ্রতিবেদন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

গবেষণার ফলাফল আরও বিস্তৃতভাবে ছড়িয়ে দিতে প্রকাশনা অনুষ্ঠান ছাড়াও আরও কয়েকটি উন্মুক্ত আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আয়োজকরা জানান, এই উদ্যোগ সৃজনশীল অর্থনীতি ও সৃজনশীল শিল্পের বিকাশে ব্রিটিশ কাউন্সিলের দীর্ঘমেয়াদি অঙ্গীকারের অংশ। একই সঙ্গে এটি বাংলাদেশে জলবায়ু-সহনশীলতা, উদ্ভাবন এবং সংশ্লিষ্ট পেশাজীবী ও নীতিনির্ধারকদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতেও সহায়ক ভূমিকা রাখবে।