Skip to content

কুড়িগ্রামে ৫০ হাজার সুপারীর গাছ  এবং সাথী ফসল থেকে ৪ ভাই করছেন কোটি টাকা আয়

কুড়িগ্রামে একই পরিবারের ৪ভাই মিলে সুপারী গাছ লাগিয়ে এক মৌসুমে আয় করছেন প্রায় কোটি টাকা। পাশাপাশি সাথী ফসল হিসেবে চুইঝাল, লটকন ও পানপাতা বিক্রি করে বাড়তি আয় হচ্ছে আরও ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা। ইতোমধ্যেই এ বাগানটি রংপুর বিভাবে সবচেয়ে বড় বাগান হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে বলে জানা যায়। এই বাগানে কর্মসংস্থানের পাশাপাশি চারা বিক্রি করেও আশানুরুপ লাভ করছেন তারা।এখন এ পরিবারটি মডেল হয়েছে সুপারী চাষী হিসেবে।অনেকে তাকে অনুসরন করে তারাও হচ্ছেন লাভবান ও স্বাবলম্বী।

কুড়িগ্রাম জেলার সদর উপজেলার বেলগাছা ইউনিয়নের ধণঞ্জয় গ্রাম। প্রায় ৭০ বছর পূর্বে এই গ্রামের মৃত: বাবু উল্যাহ প্রায় ৩ একর জমিতে প্রথম সুপারী গাছ রোপন করেন। মাটি সুপারী চাষের উপযোগী হওয়ায় তার পরিবারের ৪ সন্তান ও তাদের ছেলেমেয়েরা মিলে এখন প্রায় ২০ একর জমিতে প্রায় ৫০ হাজার সুপারী চাষ করেছেন। বাবার পৈত্রিক নিবাসে গড়ে তুলেছেন বিশাল এ বাগান। সুপারীর পাশাপাশি সুপারীর চারাও  বিক্রি করে লাভবান হচ্ছেন তারা। প্রতিবেশীরা সুপারী গাছ লাগিয়ে তাদের দেখছেন লাভের মুখ।

বাগানে কাজ করা শ্রমিক স্বাধীন মিয়া বলেন,এ বাগানে আমরা সারা বছর কাজ করতে পারছি। এতে আমাদের সংসার চলছে। প্রতিদিন ভোরবেলা থেকে আমরা বাগান পরিচর্চা করি। সুপারী বড় হলে সেগুলো কেটে মাটির নীচে পুতে রাখি।

অপর নারী শ্রমিক চঞ্চলা রাণী বলেন,আমি সারা বারো মাস কাজ করি বাগানে যে টাকা পাই তাই দিয়ে আমার সংসার ভালো চলে । ছেলে মেয়েদেরকে লেখা পড়া করাইছি মেয়েদেরকেও বিয়ে দিয়েছি।

স্থানীয় ব্যক্তি আল আমিন মিয়া বলেন, চার ভাইয়ের সুপারির বাগান দেখে আমি একটি ছোট বাগান করেছি । সুপারির বাগানে কম খরচে হওয়ায়। ভালো লাভ করছি আমি নিজেই।

বাবু উল্যাহ ছেলে হানিফুল ইসলাম বলেন,কম খরচে বেশি আয় হওয়ায় আমার বাবা প্রথম সুপারী গাছ লাগান। পরবর্তীতে আমরা সেই বাগান বড় করতে পেরেছি। এখন সুপারীর পাশাপাশি আমরা চুইঝাল, লটকন ও পানপাতা রোপন করেছি। সব মিলে বাগানে প্রায় ৫০ হাজার সুপারির গাছ রযেছে

বাবু উল্যাহ নাতী তৌফিক আহমেদ শাহীন বলেন,চাচা ভাতিজা মিলে আমরা প্রায় ২০ একর জমিতে সুপারী গাছ লাগিয়েছি। প্রতি সিজনে আমরা ৮০ থেকে ৯০ লাখ টাকার সুপারী বিক্রি করতে পারছি। পাশাপাশি সাথী ফসল হিসেবে চুইঝাল, লটকন ও পানপাতা থেকে আরও ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা আয় করতে পারছি। এর মাধ্যমে ৮ থেকে ১০টি পরিবারের কর্মসংস্থান হয়েছে। এরফলে তাদের সাথে আমরাও মোটামুটি ভালো ভাবে চলতে পারছি।

এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোছা: নাহিদা আফরীন জানান,রংপুর অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি সুপারী চাষ হয় কুড়িগ্রাম জেলায়। এবার ১হাজার ৫২০ হেক্টর জমির সুপারী গাছে ফলন হয়েছে ১৪ হাজার ৩৯৫ মেট্রিন টন সুপারী। অল্প পরিশ্রমে কম সময়ে সুপারী থেকে লাভবান হওয়ায় লোকজন ইদানিং সুপারী চাষে বেশি ঝুঁকে পড়ছেন। আমরা কৃষকদের সুপারী বাগানে নানাবিধ ফলসহ চুইঝাল ও লটকন লাগাতে পরামর্শ প্রদান করছি।