সাম্প্রতিক
তিতাসের ‘সিস্টেম লস’ বছরে ১০ কার্গো এলএনজির সমপরিমাণ গ্যাস হাম ও উপসর্গে আরও ৩ মৃত্যু, প্রাণহানি ছাড়াল ১ হাজার জুলাই জাদুঘরে অশ্রুসজল রাষ্ট্রপতি, বললেন ‘মূল্য দিয়েছি অনেক বেশি’ সালমান শাহর মৃত্যু: ডনের বিরুদ্ধে ‘গুরুত্বপূর্ণ তথ্য’ গোপনের অভিযোগ ইতালীয় গণমাধ্যমে বাঁধনের ওপর হামলার খবর, তদন্তে বিশেষ পুলিশ ‘দিগোস’ মেট্রোরেলের ২৭ বিয়ারিং প্যাড ‘ক্রিটিক্যাল’, ৪৬ পিলারে ফাটল: সংসদে মন্ত্রী আশির দশকে ফিরছে সোশ্যাল মিডিয়া, এআই ছবির ট্রেন্ডে নেটিজেনরা বিএনপি ক্ষমতায় আর বিদ্যুৎ-গ্যাসের সংকট হবে না, দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হবে না— সেটা হতে পারে না: রুমিন ফারহানা ডিসেম্বরে হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে যা বললেন হর্ষবর্ধন শ্রিংলা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তৈরি শ্বেতপত্রের আলোকেই পদক্ষেপ গ্রহণ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী
Skip to content

ভুল চিকিৎসায় প্রসূতির জরায়ু অপসারণ, নড়াইলে মডার্ন সার্জিক্যাল ক্লিনিক সিলগালা

নড়াইলে ভুল চিকিৎসার অভিযোগে এক প্রসূতির জরায়ু অপসারণের ঘটনায় মডার্ন সার্জিক্যাল ক্লিনিক সিলগালা করেছে জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ। শনিবার (২৫ জুলাই) সকালে জেলা প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ এবং বাংলাদেশ প্রাইভেট হাসপাতাল, ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএইচসিডিএ) নড়াইল জেলা শাখার যৌথ উদ্যোগে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

জানা গেছে, নড়াইলের কালিয়া উপজেলার বনগ্রাম গ্রামের বাসিন্দা সোহানা বেগমকে (২০) গত ৪ জুলাই নড়াইলের মডার্ন সার্জিক্যাল ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। অনকল চিকিৎসক ডা. সুব্রত কুমারের তত্ত্বাবধানে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে তিনি একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। ৮ জুলাই তাঁকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হলেও কয়েক দিনের মধ্যে তাঁর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হয়।

শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে প্রথমে তাঁকে নড়াইল সদর হাসপাতালে এবং পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে জরুরি ভিত্তিতে তাঁকে আট ব্যাগ রক্ত দেওয়া হয় এবং পুনরায় অস্ত্রোপচার করা হয়।

ভুক্তভোগীর মা রাবেয়া বেগম অভিযোগ করেন, মেয়ের অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হওয়ার পর ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের কাছে কোনো ধরনের সহযোগিতা পাননি। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকেরা তাঁদের জানান, আগের সিজারিয়ান অপারেশনের সময় পেটের ভেতরে নাড়ির (প্লাসেন্টার) অংশ থেকে যাওয়ায় গুরুতর সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে। মেয়ের জীবন বাঁচাতে শেষ পর্যন্ত তাঁর জরায়ু অপসারণ করতে হয়েছে।

এদিকে, ক্লিনিকে নার্স পরিচয়ে কর্মরত সাবানা নামে এক কর্মচারী জানান, তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা মাত্র নবম শ্রেণি। অথচ অপারেশনের পর সেলাই দেওয়া, অ্যানেস্থেসিয়া-সংক্রান্ত সহায়তা এবং পোস্ট-অপারেটিভ তদারকির মতো জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ দায়িত্ব তিনিই পালন করতেন।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ক্লিনিকের মালিক মফিজুর রহমান বলেন, “আমাদের চিকিৎসার কারণে কোনো সমস্যা হলে আমরাই ব্যবস্থা নিই। তারা খুলনায় গেছেন, সেটিও আমরা জানতাম না।”

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার সিভিল সার্জন ও জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্তে অনিয়ম ও ভুল চিকিৎসার প্রমাণ পাওয়ায় কর্তৃপক্ষ ক্লিনিকটির কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করে সিলগালা করে।

অভিযান পরিচালনাকালে সিভিল সার্জনের পক্ষে ডা. আসিফুর রহমান বাপ্পী, নড়াইল জেলা বেসরকারি ক্লিনিক মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ রহমান, ক্লিনিক মালিক সমিতির সভাপতি মাহফুজসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে, এ ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে ভুক্তভোগী পরিবার।

এনএনবাংলা/