




পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অনুষ্ঠিত ‘অবৈধ’ তিন নির্বাচনের অন্যতম কারিগর হিসেবে উল্লেখ করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।
সোমবার (১৫ জুন) দুপুরে নিজ কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, বেনজীর আহমেদ শুধু শাপলা চত্বরের ঘটনার অন্যতম মাস্টারমাইন্ডই নন, বরং একসময় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ নিয়ন্ত্রণও তার হাতে ছিল।
আমিনুল ইসলাম বলেন, “কোনো কোনো ক্ষেত্রে তিনি শেখ হাসিনার চেয়েও বেশি পরিচিত ছিলেন। তার কর্মজীবনে এমন কোনো দুষ্কর্ম নেই, যা তিনি করেননি। তবে আওয়ামী লীগের শেষ সময়ে দলীয় অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণেই তার নানা কুকীর্তি প্রকাশ্যে আসে। গণমাধ্যমের মাধ্যমে দেশবাসী তার কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জানতে পারে। পরে তার বিরুদ্ধে মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।”
চিফ প্রসিকিউটর জানান, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে বর্তমানে প্রায় ১০টি মামলার তদন্ত চলছে এবং প্রতিটি ঘটনার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।
তিনি বলেন, “র্যাবের মহাপরিচালক থাকাকালে সংঘটিত গুমের ঘটনায় দায়ের করা একটি মামলার বিচার বর্তমানে চলমান। এছাড়া শাপলা চত্বরের ঘটনাসহ দায়িত্ব পালনকালে সংঘটিত অসংখ্য হত্যাকাণ্ডের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।”
আমিনুল ইসলাম আরও বলেন, “বাংলাদেশের ইতিহাসে ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে অনুষ্ঠিত প্রতিটি নির্বাচনে বেনজীর আহমেদের বিতর্কিত ভূমিকা ছিল। অবৈধ নির্বাচন আয়োজনের অন্যতম কারিগর ছিলেন তিনি। দেশের গণতন্ত্র ধ্বংস, বিনাবিচারে হত্যা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তার বিচারের বিষয়ে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি।”
সংবাদ সম্মেলনে প্রসিকিউটর সহিদুল ইসলাম সরদার, মার্জিনা রহমানসহ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের অন্যান্য প্রসিকিউটর উপস্থিত ছিলেন।
এনএনবাংলা/
Tags: Benazir Ahmedঅবৈধ নির্বাচনআওয়ামী লীগআন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালচিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলামবেনজীর আহমেদ
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন