Skip to content

টুথপেস্টে ‘ক্ষতিকর’ মাইক্রোপ্লাস্টিক, বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনে নির্দেশ হাইকোর্টের

দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া ৩৪টি টুথপেস্টের মধ্যে ২৬টিতে ‘ক্ষতিকর’ মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়ার ঘটনায় তিন সদস্যের বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে স্বাস্থ্য সচিব ও বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) মহাপরিচালককে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার জনস্বার্থে করা এক রিট আবেদনের শুনানি শেষে বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি মো. জিয়াউল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রিটকারী আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. আবদুল্লাহ আল মামুন।

এর আগে দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া ৩৪টি টুথপেস্ট পরীক্ষা করে ২৬টিতে ‘ক্ষতিকর’ মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হওয়ার ঘটনায় স্বাধীন তদন্ত চেয়ে সোমবার হাইকোর্টে রিট আবেদন দায়ের করা হয়। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. আবদুল্লাহ আল মামুন জনস্বার্থে এ রিট করেন। রিটে স্বাস্থ্য সচিব, পরিবেশ সচিব, বাণিজ্য সচিব, বিএসটিআই এবং জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে বিবাদী করা হয়েছে।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরীক্ষায় অন্তর্ভুক্ত ৩৪টি টুথপেস্টের মধ্যে ২৬টিতে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। প্রতি ১০০ গ্রাম টুথপেস্টে ২০ থেকে ৩২০টি পর্যন্ত ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা শনাক্ত হয়েছে। শিশুদের জন্য তৈরি ছয়টি টুথপেস্টের চারটিতেও মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে, যা জনস্বাস্থ্য নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।

এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের (ইএসডিও) ‘মাইক্রোপ্লাস্টিকস ইন টুথপেস্ট: সায়েন্টিফিক এভিডেন্স ফর পলিসি অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাকশন ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক গবেষণায় এসব তথ্য উঠে আসে। গবেষকরা জানান, টুথপেস্টে কোনোভাবেই মাইক্রোপ্লাস্টিক থাকার কথা নয় এবং এর উপস্থিতি মানবস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য সম্ভাব্য ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে। গবেষণাটি গত রোববার রাজধানীর লালমাটিয়ায় ইএসডিওর কার্যালয়ে প্রকাশ করা হয়।

২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত পরিচালিত এ গবেষণায় বাংলাদেশ, ভারত, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামে উৎপাদিত ১৯টি প্রধান ব্র্যান্ডের ৩৪টি টুথপেস্টের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে দেশে উৎপাদিত ২৫টি নমুনার ২২টিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। এছাড়া ভারতের পাঁচটি নমুনার একটিতে, থাইল্যান্ডের দুটি নমুনার একটিতে এবং ভিয়েতনামে তৈরি দুটি নমুনার দুটিতেই মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়েছে।

গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত শিশুদের জন্য তৈরি ছয়টি টুথপেস্টের চারটিতে প্রতি ১০০ গ্রামে ২০ থেকে ১৪০টি পর্যন্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং দায় নিরূপণের দাবিও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

এনএনবাংলা/