আত্মসমর্পণের আগেই গ্রেপ্তার হতে পারেন শেখ হাসিনা: আইনমন্ত্রী

দেশে ফিরতে চাইলে সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হবে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তি দণ্ডপ্রাপ্ত বা মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হলেও বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে দেশে ফিরে আইনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আত্মসমর্পণ করার অধিকার রাখেন। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রয়োজন মনে করলে আত্মসমর্পণের আগেই তাকে গ্রেপ্তার করতে পারে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের দুটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
এর আগে মন্ত্রীর উপস্থিতিতে বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের সঙ্গে বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট) এবং সামাজিক ক্ষমতায়ন ও আইনি সুরক্ষা কর্মসূচি (সেলপ)-এর মধ্যে পৃথক দুটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।
সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে শুক্রবার দেশে ফেরার সম্ভাব্য ঘোষণার প্রসঙ্গ তুলে তার প্রত্যাবর্তনের পর আইনি প্রক্রিয়া কী হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, তাকে প্রত্যর্পণের বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে কি না, সে বিষয়েও সরকার কাজ করছে।
তবে কেউ কীভাবে দেশে ফিরবেন, সেটি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নিজস্ব বিষয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। আইনমন্ত্রী বলেন, তিনি যেভাবেই দেশে আসুন না কেন, বাংলাদেশের আইনগত এখতিয়ারের মধ্যে প্রবেশ করলেই তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, ‘তিনি কীভাবে আসবেন, সেটা তার বিষয়। কিন্তু আমাদের এখতিয়ারের মধ্যে প্রবেশ করলে আইন আমাকে যে ক্ষমতা দিয়েছে, সেই ক্ষমতাই প্রয়োগ করা হবে। আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে।’
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে সরকারের এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়নি। সংবিধানের ১২৩(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে বলেও জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, সংসদের পরবর্তী অধিবেশনও সংবিধান অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই অনুষ্ঠিত হবে। ফলে আপাতত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিশেষ অধিবেশন আহ্বানের প্রয়োজনীয়তা সরকার দেখছে না। তবে প্রয়োজন হলে সরকার বিশেষ অধিবেশন ডাকতে পারে।
মানবাধিকার নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের সাম্প্রতিক মন্তব্যের প্রসঙ্গেও কথা বলেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, কোনো অভিযোগ বা পর্যবেক্ষণ এলে সরকার তা উপেক্ষা করবে না।
তিনি আরও বলেন, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ কোনো পর্যবেক্ষণ বা অভিযোগ করে থাকলে সরকারের দায়িত্ব হলো তা আমলে নিয়ে যাচাই-বাছাই করা। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় দিকগুলো খতিয়ে দেখা হবে।
এনএনবাংলা/
