Skip to content

Upcoming
France
0-0
Senegal
Source: ESPN

পরীমনিকাণ্ডে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হচ্ছে এডিসি সাকলায়েনকে

ফাইল ছবি

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) এবং বর্তমানে ঝিনাইদহ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. গোলাম সাকলায়েনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

আলোচিত চিত্রনায়িকা পরীমনির সঙ্গে রাত্রিযাপন ও বিবাহবহির্ভূত অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা হিসেবে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনের সারসংক্ষেপে ইতোমধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ স্বাক্ষর করেছেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সারসংক্ষেপটি এখন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির দপ্তরে পাঠানো হবে। রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।

পরীমনি মামলার তদন্ত থেকেই বিতর্কের সূত্রপাত

২০২১ সালের ৯ জুন রাতে সাভারের ঢাকা বোট ক্লাবে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে ব্যবসায়ী নাসির ইউ মাহমুদের বিরুদ্ধে মামলা করেন চিত্রনায়িকা পরীমনি। ওই মামলার তদন্ত তদারক কর্মকর্তা ছিলেন গোলাম সাকলায়েন।

পরবর্তীতে পরীমনির সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের অভিযোগ ওঠার পর তাকে ডিবি থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় এবং বিষয়টি তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়।

অন্যদিকে, ২০২১ সালের ১৮ জুলাই নাসির উদ্দিন মাহমুদ পরীমনির বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা, মারধর, ভাঙচুর ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে আদালতে মামলা করেন। ওই মামলার সূত্র ধরে একই বছরের ৪ আগস্ট পরীমনির বনানীর বাসায় অভিযান চালিয়ে তাকে বিদেশি মদসহ গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। পরে তিন দফায় মোট সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয় তাকে। গ্রেপ্তারের ২৭ দিন পর ১ সেপ্টেম্বর জামিনে কারামুক্ত হন পরীমনি।

তদন্তে যা পাওয়া গেছে

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডিএমপির ডিবিতে কর্মরত অবস্থায় পরীমনির সঙ্গে সাকলায়েনের পরিচয় ও যোগাযোগ শুরু হয়। পরে তিনি নিয়মিত পরীমনির বাসায় যাতায়াত ও রাত্রিযাপন করতেন।

পুলিশ সদর দপ্তরের এলআইসি শাখা থেকে পাওয়া কল ডিটেইল রেকর্ড (সিডিআর) বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২১ সালের ৪ জুলাই থেকে ৪ আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন সময় তিনি পরীমনির বাসায় অবস্থান করেছেন।

এছাড়া সিআইডির জব্দ করা পরীমনির মোবাইল ফোনের ফরেনসিক বিশ্লেষণে তাদের মধ্যে ফেসবুক মেসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপে আদান-প্রদান করা বার্তাগুলো পর্যালোচনা করে তদন্তকারীরা সিদ্ধান্তে পৌঁছান যে, সম্পর্কটি পেশাগত বা সাধারণ পরিচিতির পর্যায়ে সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং তা অনৈতিক প্রেমের সম্পর্কের পর্যায়ে পৌঁছেছিল।

সরকারি বাসায় ১৭ ঘণ্টা একসঙ্গে ছিলেন

তদন্ত প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০২১ সালের ১ আগস্ট ভোর ৬টা থেকে ২ আগস্ট রাত ৩টা পর্যন্ত রাজারবাগ মধুমতি পুলিশ অফিসার্স কোয়ার্টার্সে পরীমনির যাতায়াতের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা যায়, স্ত্রী বাসায় না থাকার সুযোগে সাকলায়েনের সরকারি বাসভবনে যান পরীমনি।

সেখানে প্রায় ১৭ ঘণ্টা অবস্থান করার পর তিনি রাত দেড়টার দিকে বাসা ত্যাগ করেন। তদন্তকারীদের মতে, এটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত এবং সাকলায়েনের পূর্ণ জ্ঞাতসারে সংঘটিত।

সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নের অভিযোগ

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একজন দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে গোলাম সাকলায়েন সরকারি দায়িত্বের বাইরে গিয়ে পরীমনির সঙ্গে অতিমাত্রায় ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলেন। বিবাহিত ও এক সন্তানের জনক হওয়া সত্ত্বেও তিনি বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়ান, জন্মদিন উদযাপন করেন এবং নিজের সরকারি বাসভবনে সময় কাটান।

বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হওয়ায় সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে এবং জনমনে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

বিভাগীয় মামলায় ‘অসদাচরণ’ প্রমাণিত

ঘটনার পর সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়। তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব হায়াত-উদ-দৌলা খাঁন।

তদন্ত শেষে সাকলায়েনের বিরুদ্ধে ‘অসদাচরণ’-এর অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে গুরুদণ্ডের আওতায় চাকরি থেকে বরখাস্ত না করার কারণ জানতে চেয়ে দ্বিতীয় কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। জবাবে তিনি অব্যাহতি চাইলেও তা সন্তোষজনক বিবেচিত হয়নি।

পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ১৩ জুন জননিরাপত্তা বিভাগের শৃঙ্খলা-২ শাখা সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) মতামত চেয়ে চিঠি দেয়। পিএসসির মতামত পাওয়ার পর এবার তাকে গুরুদণ্ড হিসেবে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এনএনবাংলা/