নির্যাতনের অভিযোগের মাঝেই ভাইরাল স্নিগ্ধা-নজরুলের একসঙ্গে তোলা ছবি

বিজ্ঞাপনচিত্রে কাজের প্রস্তাব দিয়ে ডেকে নিয়ে হত্যাচেষ্টা, শারীরিক নির্যাতন ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ তুলেছেন মডেল ও অভিনয়শিল্পী স্নিগ্ধা চৌধুরী। তার অভিযোগ, আশিয়ান গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম ভূঁইয়া তার সঙ্গে এসব ঘটনা ঘটিয়েছেন।
এ ঘটনায় গত রোববার দিবাগত রাত ১২টার দিকে রাজধানীর খিলক্ষেত থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন স্নিগ্ধা। পরে ওই অভিযোগের ভিত্তিতে নজরুল ইসলাম ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়।
এ ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে স্নিগ্ধা চৌধুরী ও নজরুল ইসলাম ভূঁইয়ার একসঙ্গে তোলা কয়েকটি ছবি। ছবিগুলোতে তাদের পাশাপাশি দেখা যায়। একটি ছবিতে স্নিগ্ধার মাকেও উপস্থিত থাকতে দেখা গেছে।
ছবিগুলো ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা। অনেকেই ছবিগুলোর সময়, স্থান ও প্রেক্ষাপট নিয়ে বিভিন্ন ধরনের মন্তব্য করছেন। একটি সূত্রের দাবি, আলোচিত ঘটনার দিনই ছবিগুলো তোলা হয়েছিল। তবে এ বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো তথ্য যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ভাইরাল ছবিগুলো দেখে সামাজিক মাধ্যমে কেউ কেউ দাবি করছেন, নজরুল ইসলাম ভূঁইয়ার সঙ্গে স্নিগ্ধার স্বাভাবিক সম্পর্ক ছিল। পরবর্তী সময়ে কোনো জটিলতা তৈরি হওয়ায় তিনি অভিযোগ করেছেন বলেও মন্তব্য করছেন অনেকে। তবে এসব দাবি সম্পর্কে স্নিগ্ধা চৌধুরীর পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে স্নিগ্ধার দায়ের করা মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছেন আশিয়ান গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম ভূঁইয়া। সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালতে আত্মসমর্পণ করে আইনজীবীর মাধ্যমে জামিন নেন তিনি।
এর আগে বিজ্ঞাপনচুক্তির কথা বলে ডেকে নিয়ে মারধর ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে রোববার রাতে খিলক্ষেত থানায় নজরুল ইসলাম ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে মামলা করেন অভিনেত্রী ও মডেল স্নিগ্ধা চৌধুরী।
মামলার অভিযোগের বরাতে খিলক্ষেত থানার ওসি সোহরাব আল হোসাইন জানান, ইমন নামে একজন প্রায় এক মাস ধরে স্নিগ্ধাকে আশিয়ান সিটির বিজ্ঞাপনে কাজ করার প্রস্তাব দিচ্ছিলেন। পরে চুক্তির অর্থ নিয়ে আলোচনা শেষে গত শুক্রবার আশিয়ান সিটির চেয়ারম্যানের সঙ্গে সাক্ষাতের দিন নির্ধারণ করা হয়। প্রথমে রাজধানীর ৩০০ ফিট এলাকায় অবস্থিত আশিয়ান সিটির মেডিকেল কলেজে যেতে বলা হলেও স্নিগ্ধা আপত্তি জানান। পরে তিনি তার মাকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে যান।
স্নিগ্ধার ভাষ্য অনুযায়ী, কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত পরিবেশে তাকে চেয়ারম্যানের কক্ষে নেওয়া হয়। সেখানে তার মাকে বাইরে রেখে ইমনসহ তিনি কক্ষে প্রবেশ করেন। পরে তার মা চলে যান। কক্ষে ঢোকার পর নজরুল ইসলাম তাকে ‘জেবা তাকিয়া’ নামে এক নারী ভেবে তিন মাস ধরে খুঁজছিলেন বলে দাবি করেন এবং রশি দিয়ে তার পা বেঁধে ফেলেন। এ সময় ইমনকেও কক্ষ থেকে বের করে দেওয়া হয়।
এদিকে অভিযোগ ও মামলার ঘটনাকে ঘিরে যখন আলোচনা চলছে, তখন নজরুল ইসলাম ভূঁইয়ার সঙ্গে স্নিগ্ধা চৌধুরীর ভাইরাল হওয়া ছবিগুলো সামাজিক মাধ্যমে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তবে ছবিগুলোর প্রেক্ষাপট কিংবা সেগুলোর সঙ্গে মামলার অভিযোগের সম্পর্ক রয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য বা তদন্তের ফল প্রকাশ করা হয়নি।
এনএনবাংলা/
