Skip to content

Upcoming
France
0-0
Senegal
Source: ESPN

দ্য এজ মালয়েশিয়া প্রতিবেদন

মালয়েশিয়ায় এস আলমের বিলাসবহুল হোটেল ব্যবসা নজরদারিতে

ছবি: ইন্টারনেট

বাংলাদেশের বিতর্কিত ব্যবসায়ী ও সিঙ্গাপুরের নাগরিক মোহাম্মদ সাইফুল আলম (এস আলম)-এর বৈশ্বিক ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য নিয়ে আন্তর্জাতিক তদন্তের পরিধি আরও বিস্তৃত হচ্ছে। সিঙ্গাপুর ও সাইপ্রাসের পর এবার মালয়েশিয়ায় তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুটি বিলাসবহুল হোটেল নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

মালয়েশিয়ার প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য এজ মালয়েশিয়া প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কুয়ালালামপুরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকায় অবস্থিত রেনেসাঁ কুয়ালালামপুর হোটেল অ্যান্ড কনভেনশন সেন্টার এবং ফোর পয়েন্টস বাই শেরাটন কুয়ালালামপুর সিটি সেন্টার হোটেল দুটি এস আলম গ্রুপের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ভেনচুরা ইন্টারন্যাশনালের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে।

যদিও এখন পর্যন্ত মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ এসব সম্পদের বিরুদ্ধে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থা নেয়নি কিংবা জব্দের নির্দেশও জারি করেনি, তবে চলমান আন্তর্জাতিক তদন্তের কারণে হোটেল দুটি নিয়ে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, এস আলমের ব্যবসায়িক নেটওয়ার্ক সিঙ্গাপুর, সাইপ্রাস, ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডসহ একাধিক দেশে বিস্তৃত। বাংলাদেশি তদন্ত সংস্থাগুলোর অভিযোগ, পাচার করা অর্থের মাধ্যমে গড়ে তোলা হয়েছে তার ব্যবসায়িক সাম্রাজ্যের বড় অংশ।

এরই মধ্যে সাইপ্রাসে তার মালিকানাধীন একটি আবাসিক সম্পত্তি আদালতের নির্দেশে জব্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের একটি আদালত ঋণ খেলাপির মামলায় তাকে ও তার পরিবারের কয়েকজন সদস্যকে কারাদণ্ড দিয়েছেন। তবে এস আলম ও তার পরিবার এসব অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছে।

অন্যদিকে সিঙ্গাপুরেও তার সম্পদের ওপর তদন্ত চলছে। বাংলাদেশি সংস্থাগুলোর দাবি, দেশটিতে এস আলমের সম্পদের পরিমাণ ১০০ কোটি মার্কিন ডলারেরও বেশি। সেখানে তার বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও বিনিয়োগও জব্দের আওতায় এসেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে দ্য এজ জানিয়েছে, মালয়েশিয়ায় আলোচিত দুটি হোটেলসহ সংশ্লিষ্ট সম্পদের সম্ভাব্য মূল্য কয়েকশ মিলিয়ন মার্কিন ডলার হতে পারে।

তবে এস আলমের আইনজীবীরা দাবি করেছেন, তার বিরুদ্ধে পরিচালিত তদন্ত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং বৈধ ব্যবসায়িক কার্যক্রমকে ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে সিঙ্গাপুরের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন এস আলম। বর্তমানে সিঙ্গাপুরই তার বিদেশি ব্যবসায়িক কার্যক্রমের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। সেখানে তার মালিকানাধীন সম্পদের মধ্যে রয়েছে হোটেল, আবাসন প্রকল্প, খুচরা বাণিজ্যিক সম্পত্তি এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শেয়ার।

এদিকে ইন্ডিয়া টুডের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত শ্বেতপত্র কমিটির হিসাব অনুযায়ী, শেখ হাসিনার শাসনামলে প্রায় ২৩ হাজার ৪০০ কোটি মার্কিন ডলার অবৈধভাবে বিদেশে পাচার হয়ে থাকতে পারে।

প্রথম বিদেশ সফরে মালয়েশিয়া যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

এদিকে বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম বিদেশ সফরের জন্য মালয়েশিয়াকে বেছে নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সূত্র জানায়, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর প্রথম বিদেশ সফরের আমন্ত্রণ আসে ভারত থেকে। পরে মালয়েশিয়া এবং চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংও তাকে আমন্ত্রণ জানান। শেষ পর্যন্ত ২১ ও ২২ জুন দুই দিনের সরকারি সফরে কুয়ালালামপুর যাওয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত হয়েছে।

সফরের দ্বিতীয় দিনে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে তারেক রহমানের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

কূটনৈতিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ মে বাংলাদেশ হাইকমিশন মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সফরসংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করে। এর কয়েক দিন আগে সাইপ্রাসের আদালত এস আলমের একটি সম্পত্তি জব্দ করেছিল। পরবর্তী আলোচনার পর ১ জুন আনোয়ার ইব্রাহিম আনুষ্ঠানিকভাবে সফরের আমন্ত্রণ নিশ্চিত করেন।

যদিও বৈঠকের আলোচ্যসূচি এখনও চূড়ান্ত হয়নি, তবে অভিবাসন, শ্রমবাজার, বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং উচ্চশিক্ষা খাতে সহযোগিতা প্রধান আলোচ্য বিষয় হতে পারে। বর্তমানে মালয়েশিয়ার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ১০ হাজারের বেশি বাংলাদেশি শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফরের গন্তব্য এমন একটি দেশ, যেখানে এস আলম গ্রুপের অন্যতম দৃশ্যমান আন্তর্জাতিক সম্পদ অবস্থান করছে— যা রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উভয় দিক থেকেই বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।

এনএনবাংলা/