Skip to content

Upcoming
United States
0-0
Australia
Source: ESPN

কবি আল মুজাহিদীর প্রয়াণ

ছবি: সংগৃহীত

একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি, গবেষক, সম্পাদক এবং দৈনিক ইত্তেফাকের সাবেক সাহিত্য সম্পাদক আল মুজাহিদী আর নেই। শুক্রবার (১৯ জুন) রাজধানীর গুলশানের ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর।

কবির ছেলে শাবিব আল মুজাহিদী জানান, গত বুধবার অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন তার বাবা। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি একাধিকবার কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের শিকার হন। এছাড়া ব্লাড ইনফেকশন, কিডনি ও হার্ট ফেইলিউরসহ নানা জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি।

তিনি বলেন, “আজ বেলা ১টার দিকে আবার কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয়। পরে শক থেরাপি দেওয়া হলেও তাকে আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি। দুপুর দেড়টার দিকে বাবা মারা যান।”

বাংলা সাহিত্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কবিকণ্ঠ আল মুজাহিদীর জন্ম ১৯৪৩ সালের ১ জানুয়ারি টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার নারুচি গ্রামে। তার বাবা আবদুল হালিম জামালী ছিলেন নাট্যকার ও সংগঠক এবং মা সাখিনা খান ছিলেন গীতিকার ও সমাজকর্মী।

টাঙ্গাইলের করটিয়া সা’দত কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করার পর জগন্নাথ কলেজ থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজবিজ্ঞান এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে দুটি স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন।

ষাটের দশকের বাংলা কবিতার অন্যতম শক্তিশালী কণ্ঠ হিসেবে পরিচিত আল মুজাহিদী আইয়ুববিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন এবং একাধিকবার কারাবরণ করেন। মহান মুক্তিযুদ্ধেও অংশ নিয়েছিলেন তিনি।

তার কবিতায় আধুনিক কাব্যধারার সঙ্গে গ্রামীণ ঐতিহ্যের এক অনন্য মেলবন্ধন দেখা যায়। প্রকৃতি, প্রেম, মৃত্তিকা, জাতীয় চেতনা ও আত্মদর্শন ছিল তার সাহিত্যকর্মের প্রধান অনুষঙ্গ। সমাজবিজ্ঞানে গভীর জ্ঞানের কারণে নৃতত্ত্ব, পৌরাণিকতা, প্রত্নতত্ত্ব ও ঐতিহ্যবিষয়ক উপাদানও তার লেখায় বিশেষভাবে স্থান পেয়েছে।

আল মুজাহিদীর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘হেমলকের পেয়ালা’। এছাড়া ‘ধ্রুপদ ও টেরাকোটা’, ‘মৃত্তিকা অতিমৃত্তিকা’, ‘সমুদ্র মেখলা’, ‘কাঁদো হিরোশিমা কাঁদো নাগাসাকি’, ‘পৃথিবীর ধুলো’, ‘সন্ধ্যার বৃষ্টি’ সহ অর্ধশতাধিক গ্রন্থ রচনা করেছেন তিনি।

কবিতার পাশাপাশি উপন্যাস, গল্প, প্রবন্ধ ও অনুবাদ সাহিত্যেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন আল মুজাহিদী। শিশু-কিশোর সাহিত্যেও ছিল তার উল্লেখযোগ্য অবদান।

পেশাগত জীবনে তিন দশকেরও বেশি সময় দৈনিক ইত্তেফাকের সাহিত্য সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। পরে যায়যায়দিন পত্রিকায় সাহিত্য সম্পাদক হিসেবে যোগ দেন। সর্বশেষ তার সম্পাদনায় প্রকাশিত হতো ষান্মাসিক সাহিত্যপত্র ‘নতুন এক মাত্রা’।

বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৩ সালে তিনি একুশে পদক লাভ করেন। এছাড়া জীবনানন্দ দাশ একাডেমি পুরস্কার, কবি জসীমউদ্দীন একাডেমি পুরস্কার, মাইকেল মধুসূদন একাডেমি পুরস্কার, শেরে বাংলা সংসদ পুরস্কার এবং জয়বাংলা সাহিত্য পুরস্কারসহ বিভিন্ন সম্মাননায় ভূষিত হন।

আল মুজাহিদীর মৃত্যুতে দেশের সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

এনএনবাংলা/