




বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের অন্যতম কিংবদন্তি হকি খেলোয়াড় আবদুস সাদেক ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। আজ সকাল ৮টায় রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৯ বছর।
মরহুমের প্রথম জানাজা আজ বাদ আসর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার আই ব্লকের বায়তুস সোবহান জামে মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে। দ্বিতীয় জানাজা আগামীকাল (রোববার) সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর বনানীর ওল্ড ডিওএইচএস মাঠে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
আবদুস সাদেকের পারিবারিক পরিচয়ও বেশ সমৃদ্ধ। তাঁর ছোট ভাই দেশের শীর্ষ শিল্পপ্রতিষ্ঠান বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান। বড় ছেলে ইশতিয়াক সাদেক টি স্পোর্টসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) এবং দেশের পরিচিত ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব।
বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে আবদুস সাদেকের অবদান বহুমাত্রিক। তিনি শুধু অবিভক্ত পাকিস্তান জাতীয় হকি দলের তারকা খেলোয়াড়ই ছিলেন না, ফুটবল, ক্রিকেটসহ বিভিন্ন খেলাতেও নিজের দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছেন। ঢাকার ঐতিহ্যবাহী ক্লাব আবাহনী ক্রীড়াচক্রের প্রথম ফুটবল অধিনায়ক এবং প্রথম হকি অধিনায়ক ছিলেন তিনি। ক্রীড়াক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৯৬ সালে জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কারে ভূষিত হন এই ক্রীড়া সংগঠক ও সাবেক খেলোয়াড়।
ক্রীড়া ঐতিহ্যের পরিবার থেকেই উঠে এসেছিলেন আবদুস সাদেক। তাঁর বাবা অ্যাডভোকেট আবদুস সোবহান ব্রিটিশ আমলে খ্যাতিমান সাঁতারু হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
অবিভক্ত পাকিস্তান জাতীয় হকি দলের সদস্য হিসেবে ১৯৬৯ সালে দেড় মাসব্যাপী ইউরোপ সফরে অংশ নেন আবদুস সাদেক। ওই সফরে জার্মানি, ইতালি, স্পেন, ফ্রান্স, বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ডস ও ইংল্যান্ডে একাধিক ম্যাচ খেলেন তিনি। দেশে ফেরার পথে মিসরের বিপক্ষেও একটি ম্যাচে অংশ নেন। সেই সফরে মাঠের দুর্দান্ত নৈপুণ্যে তিনি ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন।
স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালের জাতীয় হকি চ্যাম্পিয়নশিপে কুমিল্লা জেলা দলের অধিনায়ক ছিলেন আবদুস সাদেক।
খেলোয়াড়ি জীবন শেষে ১৯৭৭ সালে আবাহনী ক্রীড়াচক্রের প্রধান প্রশিক্ষকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি। তাঁর অধীনেই ইতিহাস গড়ে আবাহনী। ওই মৌসুমে দলটি কোনো ম্যাচে হারেনি; তিনটি ম্যাচ ড্র হলেও বাকি সবগুলোতে জয় তুলে নিয়ে বাংলাদেশে প্রথম ক্লাব হিসেবে অপরাজিত লিগ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার বিরল কীর্তি গড়ে। স্বাধীন বাংলাদেশে এটিই ছিল কোনো দলের প্রথম অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হওয়ার নজির।
পরবর্তীতে ক্রীড়া সংগঠক হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন আবদুস সাদেক। ১৯৮৩ থেকে ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। তাঁর প্রচেষ্টাতেই ১৯৮৫ সালে ঢাকায় এশিয়া কাপ হকি আয়োজনের সুযোগ পায় বাংলাদেশ। মূলত জাপানের আয়োজক হওয়ার কথা থাকলেও, এশিয়ান হকি ফেডারেশনের বৈঠকে তাঁর উপস্থাপনায় মুগ্ধ হয়ে পাকিস্তান, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া ও ইরানের সমর্থনে আয়োজক দেশের দায়িত্ব পায় বাংলাদেশ।
১৯৭৭-৭৮ মৌসুমে দেশের প্রথম জাতীয় হকি দল গঠিত হলে অধিনায়কের দায়িত্ব দেওয়া হয় আবদুস সাদেককে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজে তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশ একটি ম্যাচে জয়, একটি ড্র এবং একটি ম্যাচে পরাজয়ের স্বাদ পায়।
এছাড়া ১৯৭৮ সালে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো এশিয়ান গেমসে অংশগ্রহণ করলে জাতীয় হকি দলের অধিনায়ক ছিলেন আবদুস সাদেক। দেশের হকি ইতিহাসে তাঁর অবদান আজও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হবে।
এনএনবাংলা/পিএইচ
Tags: আবদুস সাদেকআবাহনীমৃত্যু
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন