



রংপুরের গঙ্গাচড়ায় তিস্তার পানি বাড়ছে। গত কয়েক দিন ধরে তিস্তার পানি বিপদসীমার কাছাকাছি প্রবাহিত হচ্ছে। পানি বৃদ্ধিতে ভাঙন দেখা দিয়েছে সেতু রক্ষা বাঁধে। আতঙ্ক বাড়ছে তিস্তা পাড়ের মানুষজনের।
গত বছর তিস্তায় বিলীন হয় সেতু রক্ষা বাঁধের প্রায় দেড়শ ফিট অংশ।সে সময় বাঁধটি রক্ষায় এলজিইডি ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত বাঁশের পাইলিং দেয়। কিন্তু সেটি কোন কাজেই আসলো না এবার শুরুতেই তিস্তার পানি বৃদ্ধিতে স্রোতেই পাইলিং ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে পানির স্রোত এ ধাক্কা দিচ্ছে সেতু রক্ষা বাঁধে। শনিবার ডালিয়া ব্যারাজের ৪৪টি গেট খুলে দেয়। এরপর নদীর পানি বিপৎসীমার ৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলে মহিপুর সেতু রক্ষা বাঁধে ভাঙন দেখা দেয়।
স্থানীয়রা আশঙ্কা করে বলছেন দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে মহিপুরে তিস্তা সেতু ও রংপুর টু কাকিনা সড়কসহ বাড়িঘর ফসলি জমি ঝুঁকিতে পড়বে। মহিপুর তিস্তা সেতু এলাকার রোকন, মমিনুর, বুলু জানান, গত বছর ভাঙন রোধে টিকসই কাজ না করায় এবার পানি বিপদসীমার নীচে থাকতেই পাইলিং ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে সেতু রক্ষা বাঁধে আঘাত হানছে। পানি বিপদসীমার ওপরে গেলে কি রকম ক্ষতি হবে এখনই বুজা যাচ্ছে। তারা ভাঙন রোধে এখনই পদক্ষেপ নেওয়া দাবি করেন। মনোয়ার, হাবিব বলেন, এভাবে দায়সারাভাবে বছরের পর বছর কাজ করে কিছুই হয়নি। বর্ষার সময় তিস্তা ঠিক সেসব কাজ অকাজে পরিনত করেছে। শুধু সরকারের টাকা নষ্ট হয়েছে। তারা স্থায়ী সমাধানে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি করেন। লক্ষ্মীটারী ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হাদী বলেন, গতবার বাঁশের পাইলিং সময় আমরা বলেছিলাম এটি টিকবে না, কোন কাজে আসবেনা। এখন তার প্রমান হলো সরকারের ১৪ লাখ টাকার পাইলিং এবার শুরু ভেঙে গেছে, বাঁধও ভাঙছে।
গঙ্গাচড়া উপজেলা প্রকৌশলী শাহ মো. ওবায়দুল রহমান বলেন, গত বছর ঢাকা থেকে বিশেষজ্ঞ টিম এসে পরিদর্শন করে বাঁশে পাইলিং দেওয়ার নির্দেশনা দেয়। সে অনুযায়ী বাঁশের পাইলিং করা হয়েছিল। এবার যেহেতু ভাঙন দেখা দিয়েছে, সরজমিন পরিদর্শন করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হবে। গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার জেসমিন আক্তার বলেন, আমি সরজমিনে ভাঙন এলাকা দেখেছি। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হবে।
Tags: তিস্তাবাঁধে ভাঙন
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন