Skip to content

Upcoming
France
0-0
England
Source: ESPN

সবার সঙ্গে কথা বলেই এইচএসসি পরীক্ষা বহাল রাখা হয়েছিল: শিক্ষামন্ত্রী

ছবি ভিডিও থেকে নেওয়া

সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা এবং আবহাওয়া পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেই এইচএসসি পরীক্ষা বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, পরীক্ষার আগের দিন বিকেল ৫টা পর্যন্ত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং সংশ্লিষ্ট সবাই আশ্বস্ত করেছিলেন যে আবহাওয়া অনুকূলে থাকবে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

সম্পূরক প্রশ্নে রুমিন ফারহানা বলেন, গত কয়েক দিন ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন বড় শহর জলাবদ্ধতায় আক্রান্ত ছিল। শিক্ষার্থীরা এইচএসসি পরীক্ষা এক বা দুই দিন পিছিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করলেও তা করা হয়নি। তিনি জানতে চান, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ফিজিকসের মতো গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা পিছিয়ে না দেওয়ার কারণ কী ছিল।

জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সারা দেশে একযোগে এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় ২ হাজার ৭০০টি কেন্দ্রে ৬৪ জেলায় একই সময়ে পরীক্ষা নেওয়া হয়। তবে যেখানে বাস্তবিক দুর্যোগজনিত সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে, সেখানে পর্যায়ক্রমে পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি এবং পরে পুরো চট্টগ্রাম বোর্ডের পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করেন।

মন্ত্রী জানান, বৃষ্টির পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছিল। এ সময় ৬৪ জেলার পুলিশ সুপার (এসপি), আট বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার, সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং আবহাওয়া অধিদপ্তরের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হয়। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছিল যে আর বৃষ্টি হবে না। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই বিকেল ৫টা পর্যন্ত পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে পরীক্ষা বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

তিনি আরও বলেন, পরীক্ষার দিন সকালে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের মাঠ পানিতে তলিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসনকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে পরীক্ষার্থীদের নৌকায় করে কলেজের পাঁচতলা ভবনে নিয়ে পরীক্ষা নেওয়া হয়।

শিক্ষামন্ত্রী জানান, সারা দেশের জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানা গেছে, কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ ছাড়া অন্য কোথাও দুর্যোগের কারণে পরীক্ষা গ্রহণে সমস্যা হয়নি।

তিনি বলেন, কুমিল্লায় পরীক্ষাটি বিলম্বে শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এক পরীক্ষার্থীর কাপড় ভিজে যাওয়ায় তার বাড়ি থেকে কাপড় এনে দেওয়া হয়। তাকে এক ঘণ্টা পরে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয় এবং অতিরিক্ত সময়ও দেওয়া হয়।

শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, স্থানীয় প্রশাসন, জেলা প্রশাসক, ইউএনও ও পুলিশ প্রশাসনের প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে। কোনো কেন্দ্রে পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব না হলে তারা প্রয়োজন অনুযায়ী পরীক্ষা স্থগিতও করতে পারেন।

তিনি বলেন, “আমরা বারবার সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা জানিয়েছেন, কোনো সমস্যা ছাড়াই পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের প্রতি আমাদেরও দায়িত্ব ও মমতা রয়েছে। তাই আমরা সব সময় পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছি।”

এনএনবাংলা/