Skip to content

হবিগঞ্জের বাহুবলে এনসিপির গাড়িবহর আটকে দিল পুলিশ

হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার প্রবেশ মুখে এনসিপির গাড়িবহর আটকে দিয়েছে পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত

হবিগঞ্জে বাহুবলের প্রবেশমুখে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) গাড়িবহর আটকে দিয়েছে পুলিশ। এর আগে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে পুলিশের ব্যারিকেড উপেক্ষা করে হবিগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা। বুধবার (২৯ জুলাই) বিকেলে বাহুবল উপজেলার প্রবেশমুখে তাদের বহর থামিয়ে দেয় পুলিশ।

এর আগে একই দিন বিকেলে হবিগঞ্জে যাওয়ার পথে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের চা-কন্যা এলাকায় পুলিশের ব্যারিকেডের মুখে পড়ে এনসিপির গাড়িবহর। পরে সেই বাধা অতিক্রম করে নেতারা হবিগঞ্জের দিকে রওনা হন।

বুধবার বিকাল ৪টার কিছু আগে মৌলভীবাজার সার্কিট হাউস থেকে এনসিপির আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলাম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ কেন্দ্রীয় নেতারা হবিগঞ্জের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে শ্রীমঙ্গলের চা-কন্যা এলাকায় প্রথমে তাদের গাড়িবহর আটকে দেওয়া হয়।

মঙ্গলবার হবিগঞ্জে কর্মসূচি শেষে ফেরার পথে বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে এনসিপি। ওই ঘটনায় দলটির বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মী আহত হন। এ ঘটনার পর বিএনপি ও এনসিপির মধ্যে টানটান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে বুধবার সকাল থেকে হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে জেলা প্রশাসন।

১৪৪ ধারা জারির পরও হবিগঞ্জে যাওয়ার ঘোষণা দেন এনসিপির আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এমপি, সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপি, উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম ও হাসনাত আবদুল্লাহ এমপি। এছাড়া কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক ড. আতিক মুজাহিদ এমপি এবং সারোয়ার তুষারসহ কেন্দ্রীয় পর্যায়ের আরও কয়েকজন নেতা সফরে ছিলেন।

জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবিগঞ্জ শহরে ৩ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

এনসিপির উত্তরাঞ্চলের সংগঠক নাহিদ উদ্দিন তারেক বলেন, তাদের ওপর ন্যক্কারজনক হামলা হয়েছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হলেও প্রশাসনের জারি করা ১৪৪ ধারার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তারা কর্মসূচি থেকে সরে এসেছেন। তবে পুরো বিষয়টি জাতির সামনে তুলে ধরতে বিকেলে সংবাদ সম্মেলন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে হবিগঞ্জ জেলা যুবদলের সদস্য সচিব সফিকুর রহমান সিতু বলেন, হবিগঞ্জ একটি শান্তিপ্রিয় জেলা এবং এখানকার মানুষের রাজনৈতিক সংস্কৃতি রয়েছে। তিনি দাবি করেন, এনসিপির নেতারা বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা সম্পর্কে অশালীন বক্তব্য দিয়ে আসছেন। তার ভাষ্য, এ ধরনের বক্তব্যের কারণেই স্থানীয় মানুষের মধ্যে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। তবে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি হওয়া উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহিদুল হক জানান, মঙ্গলবারের ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি এবং বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

বিজিবির পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ৩ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন রয়েছে।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার হবিগঞ্জ শহরের সাইফুর রহমান টাউন হলের সামনে জুলাই পদযাত্রা শেষে সার্কিট হাউসের পথে সবুজবাগ এলাকায় এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাদের গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও সারজিস আলমের ওপর হামলা চালানো হয় এবং তাদের বহনকারী গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। একপর্যায়ে তারা সোনালী ব্যাংকের প্রধান শাখায় আশ্রয় নেন। পরে দুই পক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনায় সারজিস আলমসহ অন্তত ২০ জন আহত হন।

পরবর্তীতে পুলিশ রাত ৮টার দিকে তাদের উদ্ধার করে সার্কিট হাউসে নিয়ে যায়। রাত ১১টার দিকে সারজিস আলম মৌলভীবাজারের উদ্দেশ্যে রওনা হন। এর আগে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ঢাকার উদ্দেশ্যে চলে যান। ঘটনার প্রতিবাদে ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল এবং এনসিপি পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘোষণা করলে বুধবার সকালে হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে জেলা প্রশাসন এবং অতিরিক্ত নিরাপত্তার জন্য ৩ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়।

এনএনবাংলা/