সাম্প্রতিক
Skip to content

আন্তর্জাতিক ক্রেডিট রেটিং সংস্থা ফিচের মূল্যায়ন

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ দীর্ঘ হলে কমতে পারে রেমিট্যান্স, বাড়বে মূল্যস্ফীতি

ছবি: এআই সাহায্যে তৈরি

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে। বাড়তে পারে জ্বালানি আমদানি ব্যয়, কমতে পারে রেমিট্যান্স প্রবাহ, একই সঙ্গে টাকার বিনিময়মূল্য ও মূল্যস্ফীতির ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এমন পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাংলাদেশের পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নেই বলে সতর্ক করেছে আন্তর্জাতিক ক্রেডিট রেটিং সংস্থা ফিচ রেটিংস।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) প্রকাশিত এক মূল্যায়নে ফিচ জানিয়েছে, জ্বালানি সরবরাহ ও প্রবাসী শ্রমিকদের কর্মসংস্থান—উভয় ক্ষেত্রেই মধ্যপ্রাচ্যের ওপর বাংলাদেশের নির্ভরতা বেশি। ফলে অঞ্চলটিতে সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে দেশের বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

ফিচের হিসাব অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ১০ ডলার বাড়লে বাংলাদেশের বার্ষিক তেল আমদানি ব্যয় প্রায় ১২০ কোটি ডলার বাড়তে পারে, যা জিডিপির প্রায় ০.২ শতাংশের সমান। দেশের মোট আমদানির প্রায় ১৫ শতাংশ অপরিশোধিত জ্বালানি তেল হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ার প্রভাব সরাসরি আমদানি ব্যয়ে পড়বে।

অন্যদিকে, বাংলাদেশের রেমিট্যান্সের প্রায় অর্ধেক আসে উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের তথ্য উল্লেখ করে ফিচ বলেছে, সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত প্রবাসী শ্রমিকদের দেশে ফিরে আসার ঝুঁকি রয়েছে। এতে রেমিট্যান্স প্রবাহ কমে বৈদেশিক মুদ্রার তারল্য পরিস্থিতি দুর্বল হতে পারে।

জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও বড় ঝুঁকি দেখছে সংস্থাটি। বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় ৪০ শতাংশ এলএনজিনির্ভর। আর আমদানি করা এই গ্যাসের প্রায় ৭০ শতাংশ আসে কাতার থেকে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা এলএনজি সরবরাহ ব্যাহত করার পাশাপাশি জ্বালানি ব্যয় বাড়াতে পারে।

ফিচের আশঙ্কা, জ্বালানির দাম দীর্ঘ সময় বেশি থাকলে আমদানি ব্যয় ও বাণিজ্য ঘাটতি বাড়বে। এতে টাকার বিনিময়মূল্য দুর্বল হওয়ার পাশাপাশি মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়তে পারে। একই সঙ্গে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি মন্থর হওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে।

সংস্থাটির মূল্যায়নে বাংলাদেশের বিদ্যমান অর্থনৈতিক চাপও উঠে এসেছে। ২০২৬ সালের প্রথম নয় মাসে দেশে গড় মূল্যস্ফীতি ছিল ৮.৮ শতাংশ। চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমে ২.২ শতাংশে নেমে এলেও দ্বিতীয় প্রান্তিকে তা বেড়ে ৪.৬ শতাংশে দাঁড়ায়।

এ ছাড়া জ্বালানির দাম দীর্ঘদিন উচ্চপর্যায়ে থাকলে এলএনজি ও বিদ্যুৎ খাতে সরকারি ভর্তুকি অব্যাহত রাখতে হতে পারে। এতে সরকারের ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি বাজেটের ওপরও বাড়তি চাপ তৈরি হবে বলে সতর্ক করেছে ফিচ।

এনএনবাংলা/