সাম্প্রতিক
ফ্রান্সের বিক্ষোভে ভাইরাল ‘বিসমিল্লাহ’ স্লোগান, কেন এত আলোচনা? ১৩ বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে ১ লাখ ২৫ হাজার মানুষের ২৫ অক্টোবর থেকে রিয়াদে ফ্লাইট চালু করছে বিমান রামেকে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি, ভোগান্তিতে রোগীরা সাজেকে কাল থেকে অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ প্রতিমা বিসর্জনে বিদায় দেবী দুর্গার, বিষাদে শেষ শারদীয় দুর্গোৎসব সৌদিতে ২ বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড: পৃথক অভিযোগে গ্রেপ্তার, কনস্যুলেটের চিঠিতে নতুন তথ্য জিম্বাবুয়ের পর আফগানিস্তানের কাছে হেরে বিদায় বাংলাদেশের ভারতে বিক্ষোভ দমনে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ, তদন্ত চায় জাতিসংঘ বিশেষজ্ঞরা জ্বালানি সংকটে চাপে পোশাকশিল্প, ক্রয়াদেশ হারানোর শঙ্কা
Skip to content

টাইম ম্যাগাজিনের প্রতিবেদন

জ্বালানি সংকটে চাপে পোশাকশিল্প, ক্রয়াদেশ হারানোর শঙ্কা

ছবি: রয়টার্স

বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটে চাপে পড়েছে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্প। গ্যাসের ঘাটতি, ঘন ঘন লোডশেডিং ও ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধিতে উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে। ব্যাহত হচ্ছে কারখানার স্বাভাবিক কার্যক্রম। এতে সময়মতো পণ্য সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে রপ্তানিকারকদের। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে বাংলাদেশের ক্রয়াদেশ ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া ও পাকিস্তানের মতো প্রতিযোগী দেশগুলোর কাছে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) নিউইয়র্কভিত্তিক সাময়িকী টাইম ম্যাগাজিনের এক প্রতিবেদনে বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের এ সংকটের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের পর থেকে শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত গ্যাসের দাম বেড়েছে ১৫০ শতাংশ এবং ডিজেলের দাম প্রায় ৭০ শতাংশ। অন্যদিকে, ইরান যুদ্ধ শুরুর পর খোলাবাজারে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) দাম বেড়েছে প্রায় তিন গুণ। অপর্যাপ্ত অবকাঠামো ও দীর্ঘদিন ধরে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানে ঘাটতির কারণে বাংলাদেশের জ্বালানি সংকট আরও তীব্র হয়েছে। দেশের মোট জ্বালানির প্রায় অর্ধেকই মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানি করতে হয়।

হরমুজ প্রণালির আশপাশে অস্থিরতা এবং দেশের দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের একটিতে অগ্নিকাণ্ডের কারণে জুলাই ও আগস্টে এলএনজি আমদানি ৮৩ শতাংশ কমে যায়। একই সময়ে বিদ্যুৎ ঘাটতি ৩ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যাওয়ায় রাজধানীসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। কোনো কোনো গ্রামীণ এলাকায় দিনে ১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না। ফলে বিকল্প হিসেবে ব্যয়বহুল ডিজেলচালিত জেনারেটরের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে অনেক কারখানাকে।

বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের সংকট নিয়ে নিউইয়র্কভিত্তিক সাময়িকী টাইম ম্যাগাজিনের প্রতিবেদন।

হা-মীম গ্রুপের তৈরি পোশাক কারখানার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও পরিবেশগত টেকসই উন্নয়ন বিভাগের প্রধান তনুল চক্রবর্তী টাইম ম্যাগাজিনকে বলেন, দেশে বিদ্যুৎ সরবরাহে ঘন ঘন বিঘ্ন ঘটে। গ্যাসের পর ডিজেলই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য জ্বালানি, আর নির্ভরযোগ্যতার দিক থেকে গ্রিডের বিদ্যুৎ রয়েছে তৃতীয় অবস্থানে।

প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ৯০ হাজার কর্মী প্রতি মাসে ৯৩ লাখ পোশাক তৈরি করেন। গ্যাপ, আমেরিকান ঈগল ও জেসি পেনির মতো আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড তাদের ক্রেতা। উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি কিংবা নির্ধারিত সময়ে পণ্য সরবরাহে ব্যর্থ হলে এসব ক্রেতা বিকল্প দেশের দিকে ঝুঁকতে পারেন বলে উদ্বেগ রয়েছে।

বাংলাদেশের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানেও এ সংকটের বড় প্রভাব পড়তে পারে। দেশের রপ্তানি আয়ের ৮০ শতাংশের বেশি আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। এ শিল্পে কর্মরত প্রায় ৪০ লাখ মানুষ। দীর্ঘস্থায়ী জ্বালানি সংকট উৎপাদন ও কর্মসংস্থানকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে। এর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক খাদ্যনিরাপত্তা পর্যবেক্ষকদের আশঙ্কা, বাংলাদেশের ১ কোটি ৮১ লাখ মানুষ শিগগিরই খাদ্যনিরাপত্তাহীনতার মুখে পড়তে পারেন।

সংকট মোকাবিলায় সরকার গত মাসে নতুন জ্বালানি রূপরেখা প্রকাশ করেছে। পরিকল্পনায় সৌরবিদ্যুৎ ও কয়লাভিত্তিক প্রকল্পের মাধ্যমে ১২ হাজার ৯৪০ মেগাওয়াট উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি, বিদ্যুৎ বিতরণব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং দেশীয় গ্যাসের সরবরাহ বাড়াতে ৩০০টি অনুসন্ধান কূপ খননের কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে ৩১টি কূপ খনন করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম আশা করছেন, আগামী তিন থেকে চার বছরের মধ্যে বিদ্যুৎ সংকটের অবসান হতে পারে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে জ্বালানি আমদানি, উৎপাদন ও পণ্য পরিবহনের ব্যয় আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ফতুল্লা অ্যাপারেলসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফজলে শামীম এহসান বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি সরকারের জন্য কঠিন। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ না থাকলে পরিস্থিতি অনেক ভালো হতো। সব মিলিয়ে জ্বালানির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদন বজায় রাখাই এখন বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের বড় চ্যালেঞ্জ। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়তে পারে দেশের অন্যতম প্রধান রপ্তানি খাত।

এনএনবাংলা/