সাম্প্রতিক
Skip to content

রামেকে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি, ভোগান্তিতে রোগীরা

ছবি: সংগৃহীত

পাঁচ দফা দাবিতে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। বুধবার সকাল ৮টা থেকে শুরু হওয়া এ কর্মসূচিতে রোগীদের চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। এদিকে, তিনটি দাবি বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে শনিবারের মধ্যে কাজে ফেরার আহ্বান জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। অন্যথায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

ইন্টার্ন চিকিৎসকদের পাঁচ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে পর্যাপ্ত ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ, চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, একজন রোগীর সঙ্গে সর্বোচ্চ দুজন স্বজনের প্রবেশাধিকার, সব ওয়ার্ডে আনসার সদস্যদের সক্রিয় উপস্থিতি এবং অবিলম্বে ক্যাজুয়ালিটি বিভাগ চালু করা।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার দাবি জানানোর পর ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সঙ্গে দুই দফা আলোচনা হয়। এতে তিনটি দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাস দেওয়া হলেও সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ না পাওয়ায় কর্মবিরতি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তাঁরা।

ইন্টার্ন ডক্টরস সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক ডা. মুশফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, গত দুই থেকে তিন মাস ধরে হাসপাতালে ক্যানোলা, সিরিঞ্জ, স্যালাইনসহ প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকট চলছে। এতে রোগীদের বাইরে থেকে সামগ্রী কিনতে হচ্ছে এবং চিকিৎসকদের সঙ্গে রোগী ও স্বজনদের বিরোধ তৈরি হচ্ছে। ফলে চিকিৎসকদের নিরাপত্তাহীনতাও বাড়ছে।

সংগঠনটির সভাপতি ডা. শাহাদত মাহমুদ তপু বলেন, রামেক হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা ১ হাজার ৩০০ হলেও প্রতিদিন চার থেকে পাঁচ হাজার রোগী আসেন। অথচ বরাদ্দ করা ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামই পর্যাপ্ত নয়। সংকটের দায় চিকিৎসকদের ওপর চাপানো হচ্ছে দাবি করে তিনি বলেন, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চলবে।

হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শেখ শামীম আহমেদ জানান, ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতির মধ্যে মিড লেভেলের চিকিৎসকদের দিয়ে ডিউটি রোস্টার পরিচালনা করা হচ্ছে। আগামী ১ নভেম্বর থেকে ক্যাজুয়ালিটি বিভাগ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। চিকিৎসকদের নিরাপত্তায় ১২৯ জন আনসার সদস্যকে ওয়ার্ডে টহলের দায়িত্ব দেওয়া হবে। পাশাপাশি আরও ১০০ জন আনসার নিয়োগের বিষয়ে সচিব সম্মতি দিয়েছেন।

তিনি আরও জানান, ওষুধ কেনার টেন্ডার প্রক্রিয়া দীর্ঘ হওয়ায় আপাতত ১৫ দিনের ওষুধ স্থানীয়ভাবে কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে কিছু দাবি বাস্তবায়নে মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা প্রয়োজন। শনিবারের মধ্যে কাজে না ফিরলে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

এনএনবাংলা/