ডেঙ্গুতে আরও ৫ মৃত্যু, হামের উপসর্গে প্রাণ গেল ৭ শিশুর

দেশে ডেঙ্গু ও হামের উপসর্গে শিশু মৃত্যুর ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে প্রাণ হারিয়েছে সাত শিশু। এ ছাড়া ডেঙ্গুতে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৯২০ জন। অন্যদিকে, হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৩২৭ শিশু।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গু ও হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা ৩২১
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চট্টগ্রাম বিভাগে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, ময়মনসিংহ ও রাজশাহী বিভাগে একজন করে মারা গেছেন। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩২১ জনে।
প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, চলতি বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে ডেঙ্গুতে দুজন করে মারা যান। মে মাসে একজন, জুনে ১৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন, আগস্টে ৪৩ জন এবং সেপ্টেম্বরে ১৪৮ জনের মৃত্যু হয়। অক্টোবরের প্রথম ১৩ দিনেই ডেঙ্গুতে প্রাণ হারিয়েছেন ৭৬ জন।
এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৯২০ জন। ফলে ডেঙ্গুর সংক্রমণ ও মৃত্যু নিয়ে জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।
হামের উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু
অন্যদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও সাত শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে এ সময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়নি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১৫ মার্চ থেকে ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত সারাদেশে হামের উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ৭৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর বাইরে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ১০৪ শিশু। সব মিলিয়ে হাম ও হামের উপসর্গে মোট ১ হাজার ১৭৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১২৮ শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। এ ছাড়া হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে ১ হাজার ১৯৯ জনের মধ্যে। একই সময়ে ১ হাজার ২১ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে এবং চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র পেয়েছে ১ হাজার ২৬ শিশু।
হাম আক্রান্ত ও সন্দেহভাজন রোগী ২ লাখ ছাড়িয়েছে
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে সন্দেহভাজন হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৮ হাজার ৫৭০ জনে। এ সময়ে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে ২২ হাজার ৮৪০ জনের।
এই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১ লাখ ৮৫ হাজার ৩৯০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে ১ লাখ ৭৭ হাজার ৬৯৮ জন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে।
এনএনবাংলা/
