সাম্প্রতিক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের চতুর্থ অধিবেশন ৯ নভেম্বর ৮৬টি ফ্লাইট বাতিল, অনিশ্চয়তায় ১৩ হাজার ৪৯০ যাত্রী চুয়েট ভিসির ঘোষণা: পদত্যাগ করিনি, সুস্থ হয়ে ক্যাম্পাসে ফিরব ভারতের জেন-জি আন্দোলনের অনুপ্রেরণা বাংলাদেশ: নেহা বোরা ‘অপারেশন ক্লিন হার্ট’ করার মত কোনো পরিকল্পনা নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চাকরির প্রলোভনে রাশিয়ায় গিয়ে ড্রোন হামলায় নিহত ২০ বাংলাদেশি দুই মন্ত্রীর হুঁশিয়ারির পর ধর্মঘট প্রত্যাহার করলো এলপিজি ব্যবসায়ীরা ডেঙ্গুতে আরও ৫ মৃত্যু, হামের উপসর্গে প্রাণ গেল ৭ শিশুর হুথিবিরোধী অভিযানে ইসরাইলের আগ্রহ, সৌদি যুবরাজের ‘না’ সম্পত্তি বেচে স্কুল প্রতিষ্ঠা-বৃক্ষরোপণ, বিসিএস ছেড়ে প্রাথমিকের শিক্ষক—সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর
Skip to content

চাকরির প্রলোভনে রাশিয়ায় গিয়ে ড্রোন হামলায় নিহত ২০ বাংলাদেশি

বুধবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে সংবাদ সম্মেলন করে এসআরবি। ছবি: সংগৃহীত

নির্মাণপ্রতিষ্ঠানে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ৩০ বাংলাদেশিকে রাশিয়ায় পাঠানোর পর সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তিন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। তাদের মধ্যে ২০ জনের মৃত্যুর বিষয়ে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। নিহতদের মধ্যে ১৭ জন প্রথম দিনেই ড্রোন হামলায় প্রাণ হারান।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানায় এসআরবি। এ ঘটনায় মানব পাচার চক্রের অন্যতম হোতা জাবালে নূর ইন্টারন্যাশনালের প্রতিষ্ঠাতা মিজানুর রহমান (৫৫) ও আবু তাহের ওরফে লেন্টুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এসআরবির তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ৭ মে জাবালে নূর, আরএস ইন্টারন্যাশনাল ও টিএস গ্রুপের মাধ্যমে ওই ৩০ বাংলাদেশিকে রাশিয়ায় পাঠানো হয়। নির্মাণপ্রতিষ্ঠানে চাকরির কথা বলে প্রত্যেকের কাছ থেকে গড়ে প্রায় ১০ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর তাদের রুশ সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হয়। পরে মাত্র ২১ দিনের সামরিক প্রশিক্ষণ শেষে তাদের রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে পাঠানো হয়।

এসআরবি-১০ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মোহা. আসাদুজ্জামান বলেন, যুদ্ধের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা না থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশিদের যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়েছিল। প্রতিপক্ষের অবস্থান শনাক্ত করতে তাদের একধরনের ‘মানবঢাল’ বা ঝুঁকিপূর্ণ ‘টোপ’ হিসেবে ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে সংস্থাটি।

যুদ্ধক্ষেত্রে মোতায়েনের প্রথম দিন ড্রোন হামলায় ১৭ জন নিহত হন। পরে বিভিন্ন সময়ে আরও তিনজনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়। জীবিতদের মধ্যে দুজন আহত অবস্থায় বাংলাদেশে ফিরেছেন। তাদের একজন রাজন। ড্রোন হামলায় তার কোমর ভেঙে যায় এবং শরীরের নিচের অংশ অবশ হয়ে পড়ে। বুকের ওপর ভর দিয়ে প্রায় চার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে তিনি ক্যাম্পে পৌঁছান। বাকি আটজনের মধ্যে দুজন মস্কোর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং ছয়জন এখনো যুদ্ধক্ষেত্রে রয়েছেন।

এসআরবি জানিয়েছে, এ মানব পাচারে বাংলাদেশি চক্রের পাশাপাশি রাশিয়ার ইগর ও কিরগিজস্তানের জুলিয়া নামের দুই ব্যক্তি জড়িত বলে তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের বিষয়ে তদন্ত চলছে। চক্রের আরেক সদস্য মোস্তাফিজুরকেও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

ভুক্তভোগীদের অধিকাংশই দরিদ্র পরিবারের সন্তান। তাদের কেউ কেউ ঋণ করে বিদেশে গিয়েছিলেন। স্বজনদের মৃত্যুর খবর পেলেও অনেক পরিবার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার সুযোগ পাচ্ছে না। বিদেশে চাকরির প্রলোভনে অর্থ লেনদেনের আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বৈধতা যাচাইয়ের আহ্বান জানিয়েছে এসআরবি।

এনএনবাংলা/