কাজী জাফর, নাজমুল হুদা থেকে ইশরাক: বিএনপি সরকারের পদত্যাগের যত ঘটনা

বাংলাদেশের রাজনীতিতে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের ঘটনা নতুন নয়। রাজনৈতিক মতবিরোধ, প্রশাসনিক ব্যর্থতা, বিতর্ক কিংবা ব্যক্তিগত কারণ—বিভিন্ন সময়ে এসব কারণে মন্ত্রিত্ব ছেড়েছেন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা। বিএনপির প্রায় পাঁচ দশকের রাজনৈতিক ইতিহাসেও রয়েছে এমন বহু ঘটনা। দলটির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের শাসনামল থেকে শুরু করে খালেদা জিয়ার সরকার হয়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মন্ত্রিসভা পর্যন্ত পদত্যাগ, অপসারণ ও দলত্যাগের নানা ঘটনা আলোচনায় এসেছে।
সর্বশেষ ২০২৬ সালের ১৯ অক্টোবর মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের পদত্যাগের ঘোষণায় আবারও সামনে এসেছে বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভা ছাড়ার সেই ইতিহাস। এর আগে কাজী জাফর আহমদ, ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, এ কে এম মোশাররফ হোসেনসহ একাধিক আলোচিত নেতা মন্ত্রিত্ব ছেড়েছেন। আবার ২০০৬ সালে ক্ষমতা হস্তান্তরের ঠিক আগে কর্নেল (অব.) অলি আহমদের নেতৃত্বে বিএনপির শতাধিক নেতার দলত্যাগও দলটির ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হয়ে আছে।
জিয়াউর রহমানের আমলে কাজী জাফরের বিদায়
১৯৭৭ সালের ২১ এপ্রিল রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন জিয়াউর রহমান। পরের বছর তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠা করেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের ব্যক্তিদের নিয়ে সরকার গঠন করলেও তার শাসনামলে মন্ত্রিসভায় পরিবর্তন ও মতবিরোধ দেখা দেয়।
১৯৭৮ সালের ৪ জুলাই শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন কাজী জাফর আহমদ। তবে ওই বছরের ১১ অক্টোবর তার দায়িত্বের অবসান ঘটে। অর্থাৎ তিন মাসের কিছু বেশি সময় শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন তিনি। পরবর্তী সময়ে কাজী জাফর আহমদ হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সরকারের প্রধানমন্ত্রী হন।
জিয়াউর রহমানের শাসনামলে মন্ত্রিসভা থেকে বিদায় নেওয়া আরেক আলোচিত ব্যক্তি ছিলেন মওদুদ আহমদ। ১৯৮০ সালে তাকে মন্ত্রিত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। ঐতিহাসিক বিবরণ অনুযায়ী, এটি তার স্বেচ্ছায় পদত্যাগের ঘটনা ছিল না; রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান তাকে দায়িত্ব থেকে অপসারণ করেছিলেন।
বিচারপতি সাত্তারের সরকারের পতন
১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামে এক ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানে জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেন বিচারপতি আব্দুস সাত্তার। নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর তিনি নতুন মন্ত্রিসভা গঠন করেন। তবে তার সরকারের মেয়াদও দীর্ঘ হয়নি।
১৯৮২ সালের ২১ মার্চ তৎকালীন উপরাষ্ট্রপতি ড. মির্জা নুরুল হুদা পদত্যাগ করেন বলে ঐতিহাসিক বিবরণে উল্লেখ রয়েছে। তার কার্যকাল শেষ হয় ২৩ মার্চ। তিনি বিএনপির অভ্যন্তরীণ ষড়যন্ত্রের শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছিলেন। পরে তার স্থলাভিষিক্ত হন মোহাম্মদ মোহাম্মদুল্লাহ।
তবে মির্জা নুরুল হুদার পদত্যাগটি মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে নয়, উপরাষ্ট্রপতির পদ থেকে ছিল। এর মাত্র কয়েক দিনের মাথায়, ২৪ মার্চ সেনাপ্রধান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সামরিক অভ্যুত্থানে বিচারপতি সাত্তারের সরকারের পতন ঘটে। এর মধ্য দিয়ে ওই সরকারের মন্ত্রিসভারও অবসান হয়।
খালেদা জিয়ার প্রথম সরকারের আলোচিত পদত্যাগ
১৯৯১ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তার প্রথম মেয়াদেই নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন আয়োজনের দাবিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক সংকট তৈরি হয়।
তৎকালীন তথ্যমন্ত্রী ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা এ বিষয়ে সরকারের অবস্থানের সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করেন। বিরোধী দলগুলোর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবির বিপরীতে বিএনপি সরকার অবস্থান নিলেও নাজমুল হুদা প্রকাশ্যে ভিন্ন অবস্থান তুলে ধরেন। শেষ পর্যন্ত ১৯৯৪ সালের ৫ নভেম্বর তিনি মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেন।
এর পরের বছর, ১৯৯৫ সালের ৪ এপ্রিল পদত্যাগ করেন শিল্পমন্ত্রী এ কে এম জহিরউদ্দিন খান। তখন দেশে ইউরিয়া সারের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছিল। সারের উচ্চমূল্য, সরবরাহব্যবস্থার দুর্বলতা এবং কৃষকদের আন্দোলন সরকারকে চাপে ফেলে। বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ ও প্রাণহানির ঘটনাও ঘটে। সংকট মোকাবিলায় ব্যর্থতার দায় শিল্পমন্ত্রীর ওপর বর্তায়।

ছবি: নিউ নেশন অনলাইন গ্রাফিক্স
আমীর খসরু, রিয়াজ রহমান ও মোশাররফ হোসেনের পদত্যাগ
২০০১ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে চারদলীয় জোটের নেতৃত্বে সরকার গঠন করে বিএনপি। খালেদা জিয়ার দ্বিতীয় পূর্ণ মেয়াদে দ্রব্যমূল্য, জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও বিমান পরিবহন খাতের নানা সংকট মন্ত্রিসভার সদস্যদের ওপর রাজনৈতিক চাপ তৈরি করে।
২০০৪ সালের ২৫ মার্চ বাণিজ্যমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী পদত্যাগ করেন। সে সময় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, বাজার ব্যবস্থাপনা এবং সরকারের অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনা চলছিল। তৎকালীন অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের সঙ্গে তার মতবিরোধের খবরও সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।
আমীর খসরু প্রকাশ্যে ব্যক্তিগত কারণ উল্লেখ করলেও সমসাময়িক প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার পরামর্শে তিনি পদত্যাগ করেন। তবে মন্ত্রিত্ব ছাড়লেও বিএনপি বা সংসদ থেকে সরে দাঁড়াননি তিনি।
একই দিনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী রিয়াজ রহমানও পদত্যাগ করেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন এবং রাষ্ট্রপতি তা গ্রহণ করেন। পরে তাকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা করা হয়। মন্ত্রিসভায় টেকনোক্র্যাট মন্ত্রীদের অনুপাত বজায় রাখার বিষয়টিও এ পরিবর্তনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিল।
২০০৫ সালের ১৮ জুন পদত্যাগ করেন জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী এ কে এম মোশাররফ হোসেন। কানাডীয় প্রতিষ্ঠান নাইকোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি গাড়ি ব্যবহার নিয়ে বিতর্কের মুখে পড়েন তিনি। দামি গাড়িটি গ্রহণ ও ব্যবহারের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর প্রধানমন্ত্রী তাকে ব্যাখ্যা দিতে বলেন। সেই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট না হয়ে প্রধানমন্ত্রী তাকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন। তবে গাড়ি গ্রহণের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন মোশাররফ হোসেন।
হজযাত্রীদের বিমানভাড়া নিয়ে বিতর্কে মীর নাসিরের বিদায়
২০০৫ সালের ১৭ নভেম্বর পদত্যাগ করেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ নাসিরউদ্দিন। সে সময় হজযাত্রীদের বিমানভাড়া নির্ধারণ নিয়ে বিতর্ক চলছিল। তিনি পদত্যাগের কারণ হিসেবে ব্যক্তিগত বিষয় ও শারীরিক অসুস্থতার কথা উল্লেখ করেন।
তবে সংবাদমাধ্যমে তার বিদায়ের সঙ্গে বিমানভাড়া বিতর্কের যোগসূত্র তুলে ধরা হয়। তিনি অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন। তার পদত্যাগের পর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান।
বিদ্যুৎ সংকটে টুকুকে দপ্তর পরিবর্তন, পদত্যাগের আগে সরানো হয় আনোয়ারুল কবিরকে
২০০৬ সালে বিএনপি সরকারের শেষ দিকে বিদ্যুৎ সংকট তীব্র আকার ধারণ করে। দীর্ঘ লোডশেডিং, বিদ্যুৎ উৎপাদনের ঘাটতি এবং দেশজুড়ে বিক্ষোভ সরকারের ওপর চাপ বাড়ায়।
ওই বছরের মে মাসে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে সরিয়ে কৃষি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়। তবে এটি মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ ছিল না; ছিল দপ্তর পরিবর্তন।
তার স্থলাভিষিক্ত হন মেজর জেনারেল (অব.) আনোয়ারুল কবির তালুকদার। কিন্তু বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় কয়েক মাসের মধ্যেই তিনিও সমালোচনার মুখে পড়েন। ২০০৬ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর বিদ্যুৎ খাতের ব্যর্থতার দায় নিয়ে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত জানান তিনি। তবে তার পদত্যাগ কার্যকর হওয়ার আগেই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার কথা জানানো হয়।
ক্ষমতা হস্তান্তরের আগে অলি আহমদের নেতৃত্বে শতাধিক নেতার দলত্যাগ
বিএনপি সরকারের শেষ সময়ে ২০০৬ সালের ২৬ অক্টোবর বড় ধরনের রাজনৈতিক ভাঙন দেখা দেয়। চারদলীয় জোট সরকারের ক্ষমতা হস্তান্তরের নির্ধারিত সময়ের মাত্র দুই দিন আগে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য কর্নেল (অব.) অলি আহমদের নেতৃত্বে দলটির শতাধিক নেতা বিএনপি ছেড়ে যান।
দ্য ডেইলি স্টারে ২৭ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রায় ১০২ জন নেতা বিএনপি থেকে পদত্যাগ করেন। তাদের মধ্যে ১৩ জন তৎকালীন সংসদ সদস্য ছিলেন। পদত্যাগকারীদের মধ্যে ছিলেন প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, সাবেক মন্ত্রী ও জ্যেষ্ঠ নেতারা।
অলি আহমদের সঙ্গে সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বে গঠিত হয় লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি)। দলটির সভাপতি হন বদরুদ্দোজা চৌধুরী এবং নির্বাহী সভাপতি হন অলি আহমদ।
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সামরিক কর্মকর্তা অলি আহমদের দলত্যাগ ছিল রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি দলটির গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তবে ওই সময় তিনি মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন না। ফলে তার পদত্যাগ ছিল বিএনপির দলীয় অবস্থান থেকে, মন্ত্রিত্ব থেকে নয়।
সে সময় ক্ষমতাসীন সরকারের প্রতিমন্ত্রী আলমগীর কবিরও বিএনপি ছেড়ে এলডিপিতে যোগ দেন। তিনি মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী এবং সংসদ সদস্য ছিলেন। একইভাবে তৎকালীন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক উপমন্ত্রী মনি স্বপন দেওয়ানও বিএনপি ছেড়ে নতুন দলে যোগ দেন।
এলডিপিতে যোগ দেওয়া অন্য নেতাদের মধ্যে ছিলেন সাবেক বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী আনোয়ারুল কবির তালুকদার, সাবেক মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী রেদোয়ান আহমদ, সাবেক মন্ত্রী নাজিমউদ্দিন আল আজাদ, সাবেক স্পিকার শেখ রাজ্জাক আলী এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রাথমিক ও গণশিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপিকা জাহানারা বেগম। তাদের কেউ আগে মন্ত্রিত্ব হারিয়েছিলেন, কেউ তখনো সরকারের দায়িত্বে ছিলেন, আবার কেউ দলীয় বা সংসদীয় পদে ছিলেন।
তারেক রহমানের সরকারেও পদত্যাগের ঘটনা
২০০৬ সালের অক্টোবরে বিএনপি সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর দীর্ঘ সময় দলটি রাষ্ট্রক্ষমতার বাইরে থাকে। প্রায় দুই দশক পর ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে জয়ী হয়ে ১৭ ফেব্রুয়ারি তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠন করে বিএনপি।
নতুন সরকার গঠনের কয়েক মাসের মধ্যেই মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের ঘটনা সামনে আসে। ১ জুন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান দায়িত্ব গ্রহণের সাড়ে তিন মাসের মাথায় শারীরিক অসুস্থতার কথা জানিয়ে পদত্যাগ করেন। মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করতে সমস্যা হচ্ছে বলে উল্লেখ করে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন। ওই দিনই রাষ্ট্রপতি তার পদত্যাগ গ্রহণ করেন।
এরপর ২২ আগস্ট পদত্যাগ করেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। রাষ্ট্রপতি তার পদত্যাগপত্র গ্রহণের পর তাকে মন্ত্রী পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা করা হয়। ফলে এটি সরকার থেকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক বিদায়ের পরিবর্তে দায়িত্ব পুনর্বিন্যাসের ঘটনা ছিল।
সর্বশেষ ইশরাকের পদত্যাগ
সর্বশেষ ১৯ অক্টোবর মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন পদত্যাগের ঘোষণা দেন। রাজধানীর গেন্ডারিয়া এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানের সময় অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তিনি সমালোচনার মুখে পড়েন।
জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে ইশরাক জানান, প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপিকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে না ফেলতেই তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
কাজী জাফর আহমদের দায়িত্বের অবসান, নাজমুল হুদার রাজনৈতিক মতবিরোধ, আমীর খসরু ও রিয়াজ রহমানের পদত্যাগ, মোশাররফ হোসেনের বিতর্কিত বিদায়, বিদ্যুৎ সংকটের মধ্যে মন্ত্রিসভায় পরিবর্তন এবং অলি আহমদের নেতৃত্বে শতাধিক নেতার দলত্যাগ—বিএনপির রাজনৈতিক ইতিহাসে এসব ঘটনা ভিন্ন ভিন্ন প্রেক্ষাপটে ঘটেছে।
ইশরাক হোসেনের পদত্যাগের মধ্য দিয়ে ২০২৬ সালে তারেক রহমানের সরকারের মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের ঘটনাগুলো আবারও আলোচনায় এসেছে। তবে এসব ঘটনার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে—কোনোটি ছিল স্বেচ্ছায় পদত্যাগ, কোনোটি অপসারণ, আবার কোনোটি মন্ত্রিত্ব ছাড়ার পরিবর্তে দলীয় অবস্থান থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘটনা।
(প্রতিবেদনটি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত রিপোর্টের তথ্যের মাধ্যমে তৈরি)
এনএনবাংলা/
