৫ ঘণ্টা পর রেল ও সড়ক অবরোধ প্রত্যাহার: সচল ঢাকা-চট্টগ্রাম-সিলেট রুট

প্রশাসনের পক্ষ থেকে যৌক্তিক সমাধানের আশ্বাস পেয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় রেলপথ ও সড়ক থেকে অবরোধ প্রত্যাহার করে নিয়েছেন স্থানীয় আন্দোলনকারীরা। এর ফলে দীর্ঘ প্রায় পাঁচ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর ঢাকার সঙ্গে চট্টগ্রাম ও সিলেটের রেল যোগাযোগ এবং আখাউড়া-আগরতলা আন্তর্জাতিক সড়কে যান চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক হয়েছে।
আজ রবিবার (৮ নভেম্বর) বেলা সোয়া ১১টার দিকে আন্দোলনকারীরা অবরোধ তুলে নিয়ে রাস্তা ও রেলপথ ছেড়ে চলে যান। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. সিরাজুল ইসলাম।
এর আগে, সকাল ৬টা থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার ছয়টি গ্রাম কেটে নিয়ে আখাউড়া উপজেলার অধীনে নতুন একটি ইউনিয়ন গঠনের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এই কর্মসূচি শুরু হয়। ‘বাসুদেব ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনগণ’-এর ব্যানারে সদর উপজেলার কোড্ডা এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট রেলপথ এবং আখাউড়া-আগরতলা আন্তর্জাতিক সড়ক আটকে বিক্ষোভ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সকাল থেকে শুরু হওয়া এই অবরোধের কারণে ঢাকাগামী ও ঢাকামুখী বিভিন্ন আন্তঃনগর ট্রেন এবং অসংখ্য যানবাহন মাঝপথে আটকে পড়ে। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বেলা সোয়া ১১টার দিকে ঘটনাস্থলে যান জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. সিরাজুল ইসলাম এবং সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট তরিকুল ইসলাম রোমা। তারা আন্দোলনকারীদের শান্ত করেন এবং আগামী তিন দিনের মধ্যে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি যৌক্তিকভাবে সমাধানের আশ্বাস দিলে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনের সহকারী স্টেশন মাস্টার শাকির জাহান জানান, অবরোধ প্রত্যাহারের পর রেললাইনে আটকে থাকা সিলেটগামী আন্তঃনগর ‘পারাবত এক্সপ্রেস’ এবং কক্সবাজারগামী বিরতিহীন ‘পর্যটক এক্সপ্রেস’ ট্রেন দুটি নিরাপদেই তাদের গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে।
আন্দোলনকারীদের পক্ষে বাসুদেব ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান নেছার উদ্দিন শের শাহ বলেন, “আমরা নতুন কোনো প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসে যুক্ত হতে চাই না। আমরা আমাদের পূর্বের সদর উপজেলাতেই বহাল থাকতে চাই।”
একই সুর মিলিয়ে বাসুদেব ইউনিয়ন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম নয়ন জানান, প্রস্তাবিত নতুন ইউনিয়নটি হলে যাতায়াতের দূরত্ব অনেক বেড়ে যাবে। এতে সাধারণ মানুষের অতিরিক্ত সময় অপচয় হওয়ার পাশাপাশি আর্থিক ব্যয়ও বাড়বে, যা মেনে নেওয়া সম্ভব নয়।
সার্বিক বিষয়ে জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, “আমরা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলেছি। এটি স্পষ্টতই তাদের আবেগের এবং জনস্বার্থের একটি বড় বিষয়। আমরা সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয়দের নিয়ে বসে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের আন্তরিক চেষ্টা করব।”
এনএনবাংলা/ইএস
