বাংলাদেশের জুলাই বিপ্লবী ও ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রধান আসামি ও সন্দেহভাজন ‘শুটার’ ফয়সাল করিম মাসুদ।
রোববার (২২ মার্চ) পশ্চিমবঙ্গের আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমি হাদি হত্যার সঙ্গে জড়িত নই। আমাকে ফাঁসানো হয়েছে।”
সম্প্রতি ভারতের পশ্চিমবঙ্গে গ্রেপ্তার হওয়া ফয়সাল ও তার সহযোগী আলমগীরকে আদালতে তোলা হলে বিচারক তাদের ১২ দিনের বিচারবিভাগীয় জেল হেফাজতে নেওয়ার নির্দেশ দেন। এ সময় পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের বিশেষ টাস্কফোর্স (এসটিএফ) তাদের জেলে গিয়ে জেরা করতে পারবে। আগামী ২ এপ্রিল আবারও তাদের আদালতে হাজির করা হবে।
মামলায় তাদের বিরুদ্ধে ইউএপিএ আইনের ১৬ ও ১৮ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। এই ধারাগুলোর আওতায় সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনা, সহায়তা বা প্ররোচনার মতো গুরুতর অপরাধ অন্তর্ভুক্ত। ভারতীয় আইনে এসব অপরাধে ন্যূনতম পাঁচ বছর থেকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড হতে পারে।
আদালত থেকে বের হওয়ার সময় ফয়সাল দাবি করেন, তাকে কোথাও সরাসরি গুলি করতে দেখা যায়নি। তিনি বলেন, “আমি ওই সময় বাংলাদেশে ছিলাম। সিসিটিভিতে আমাকে দেখা গেলেও গুলি করতে দেখা যায়নি। রাজনৈতিকভাবে আমাকে ফাঁসানো হচ্ছে।”
তবে বাংলাদেশ থেকে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি। একইভাবে, গত জানুয়ারিতে দুবাইয়ে অবস্থানের দাবি করে করা একটি ভিডিও নিয়েও সাংবাদিকদের প্রশ্ন এড়িয়ে যান তিনি।
উল্লেখ্য, গত ৭ মার্চ রাতে বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ এলাকা থেকে ফয়সাল ও আলমগীরকে গ্রেপ্তার করে এসটিএফ। পরদিন তাদের আদালতে তোলা হলে ১৪ দিনের পুলিশ রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়।
রিমান্ড শেষে গত ১৭ মার্চ কলকাতার বিধাননগর আদালতে তাদের আবার হাজির করা হয়। এর আগে শারীরিক পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল।
এদিকে, একই মামলায় বাংলাদেশি নাগরিক ফিলিপ সাংমাকে ১৪ দিনের জেল হেফাজতে পাঠিয়েছে আদালত। অভিযোগ রয়েছে, তিনি ফয়সাল ও আলমগীরকে ভারতে পালাতে সহায়তা করেছিলেন। তাকে আগামী ৩ এপ্রিল আদালতে তোলা হবে।
এনএনবাংলা/


আরও পড়ুন
২০০৯ সালের পর জন্মগ্রহণকারীদের ধূমপান নিষিদ্ধ, আইন করছে যুক্তরাজ্য
তিন বছরে ৪০০ পোশাক কারখানা বন্ধ, আরও বহু ঝুঁকিতে: বিজিএমইএ
মাথাপিছু আয়ে ভারতকে ছাড়িয়ে যেতে পারে বাংলাদেশ: আইএমএফ